
সরেজমিন নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান | ক্রাইম সিন ইউনিট মিডিয়া সেল’ ক্রাইম এলার্ট! ইনভেস্টিগেশন টিম। এস এম রুবেল | চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
২৪ ঘণ্টার নজরদারি ও সমন্বিত তৎপরতায় অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ ও সদর মডেল থানা পুলিশ টিম! চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের নেতৃত্বে সদর মডেল থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে। দিন-রাতের পার্থক্য না করে মাদক, চোরাচালান, চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, টহল, তথ্য সংগ্রহ ও সন্দেহভাজনদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বিশেষ করে সদর মডেল থানা এলাকায় অপরাধের ধরন ও ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা এবং সদর মডেল থানার মাঠপর্যায়ের সদস্যদের সমন্বিত কার্যক্রমের ফলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য; আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা নিয়ে আরও কার্যকরভাবে কাজ করে যেতে চায় জেলা পুলিশ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। অভিযানে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের বৈলতলা মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সদর মডেল থানার এসআই মো. জাহিদ হাসান ও এসআই মো. শাকিল হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানটি পরিচালনা করেন।
অভিযানকালে তিন সন্দেহভাজনের হেফাজত থেকে রেজিস্ট্রেশনবিহীন লাল রঙের একটি হিরো এইচএফ ডিলাক্স ১০০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পলাতক দুই আসামির বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেল দুটির মধ্যে একটি ডিসকভার ১২৫ সিসি এবং অপরটি হিরো এইচএফ ডিলাক্স ১০০ সিসি। এ নিয়ে অভিযানে মোট তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং পলাতক দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অপরাধ দমনে একটি থানার কার্যক্রম শুধু মামলা ও গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অপরাধের ধরন শনাক্ত করা, তথ্য সংগ্রহ, গোয়েন্দা নজরদারি, চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনা—এসব কার্যক্রমও গুরুত্বপূর্ণ। সদর মডেল থানা পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে একাধিক ধাপে তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনার বিষয়টি সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও সামাজিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বললে অপরাধ দমনে পুলিশের নিয়মিত ও আইনানুগ অভিযান অব্যাহত রাখার কারণে এটিও প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে। তাদের মতে কোনো এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু গ্রেপ্তার নয়—অপরাধের মূল নেটওয়ার্ক শনাক্ত, চোরাই যানবাহন উদ্ধারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের মন্তব্য ও তিনি জানান! চাঁপাইনবাবগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চুরি ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে-ই হোক, তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যেন পুলিশের কাছ থেকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা পান—সেটিও আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। জনগণের সহযোগিতা ও পুলিশের সমন্বিত তৎপরতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ গড়ে তুলতে জেলা পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও নিরসন ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জেলা পুলিশ।
চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের সর্বশেষ অভিযানের পাশাপাশি সদর মডেল থানা এলাকায় মাদক, চোরাচালান, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইনের দাবি, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পুলিশি সেবা সহজ ও হয়রানিমুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘পুলিশ জনতার, জনতাই পুলিশের’—এই ধারণাকে সামনে রেখে সদরবাসীকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেবা নিতে আসা মানুষকে অপ্রয়োজনীয় সিরিয়াল বা আর্থিক হয়রানির মুখে না পড়তে হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। তবে সদর এলাকায় অপরাধ ৬০ শতাংশ কমে আসার দাবিটি পুলিশের নিজস্ব পরিসংখ্যান ও নির্ভরযোগ্য অপরাধ-তথ্য দিয়ে যাচাই করা প্রয়োজন। ওসি একরামুল হোসাইন বলেন, তিনি যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন জনগণের আস্থা অর্জন করে একজন সেবক হিসেবে কাজ করে যেতে চান। পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের নির্দেশনা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকি এবং মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে সদর মডেল থানা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার ও ছয়জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনাকে সেই ধারাবাহিক অপরাধবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।
সেবায় জনতার আস্থার প্রতীক সদর মডেল থানার ওসি একরামুল হোসাইন! দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অপরাধ দমন ও জনসেবাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন। মাদক, চোরাচালান, কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও চোরাই মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানো এবং দ্রুত আইনগত সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য,পুলিশ জনতার, জনতাই পুলিশের—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সদরবাসীর সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করাই আমার লক্ষ্য। থানায় সেবা নিতে এসে যেন কোনো মানুষ অযথা হয়রানি বা আর্থিক লেনদেনের শিকার না হন, সে বিষয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান তিনি। ওসি একরামুল হোসাইনের ভাষ্য, তিনি যতদিন সদর মডেল থানায় দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন জনগণের পাশে থেকে একজন সেবক হিসেবে কাজ করতে চান। অপরাধ দমনে মাঠপর্যায়ের তৎপরতা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগ বাড়ানোর এই উদ্যোগের ফলে সদর মডেল থানা নিয়ে স্থানীয়ভাবে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে জনআস্থা ও অপরাধ কমার প্রকৃত চিত্র মূল্যায়নে নিয়মিত সরকারি অপরাধ-পরিসংখ্যান ও নাগরিকদের অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সূচক।
অপরাধ বিশ্লেষকদের সাধারণ পর্যবেক্ষণ হলো, আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারির পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার পুলিশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল মালিকদের বৈধ কাগজপত্র সংরক্ষণ, অপরিচিত ব্যক্তির কাছে যানবাহন হস্তান্তরে সতর্কতা এবং চোরাই যানবাহন কেনাবেচা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোও অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
সব মিলিয়ে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের এই অভিযানে তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার ও ছয়জনকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এলাকায় চোরাই মোটরসাইকেল বেচাকেনার নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির সঙ্গে আরও কারা জড়িত, চুরি করা মোটরসাইকেল কোথায় সরবরাহ করা হতো এবং এর পেছনে কোনো বৃহত্তর নেটওয়ার্ক রয়েছে কি না—তা বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সদর মডেল থানা পুলিশের এটি একটি চোরাচালান রোদে বড় একটি সাফল্য, ও পুলিশের ভাবমূর্তি সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি একরামুল হোসাইন তবে! পুলিশ জানিয়েছে পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে।