
বিশেষ অনুসন্ধানী অপরাধ প্রতিবেদন! পর্ব-১ অনুসন্ধান চলমান! অনুসন্ধান | ক্রাইম সিন ইউনিট মিডিয়া সেল ক্রাইম এলার্ট! এস এম রুবেল, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ২৪ অক্টোবর ২০২৬।
মামলা প্রত্যাহার না করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর মডেল থানা এলাকায় একের পর এক সংঘবদ্ধ হামলার শিকার হচ্ছে একটি নিরীহ ও অসহায় পরিবার। আদালতের নির্দেশে মামলা দায়েরের পর জামিনে বেরিয়ে এসে বিবাদীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। একের পর এক প্রাণনাশের হুমকি, প্রকাশ্যে হামলা এবং রাস্তাঘেঁষে পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হুমকির মুখে ভুক্তভোগী পরিবারটি থানা এবং হাসপাতালে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত থাকা অবস্থাতেও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
আদালতের নির্দেশে মামলা ও ধারালো অস্ত্রের বর্বর আক্রমণ অমানবতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই পরিবারটি! মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, পৈতৃক জমির সীমানা ও বসতবাড়ির বিবাদকে কেন্দ্র করে গত ৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে আসামিরা দেশীয় ধারালো অস্ত্র (চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, লোহার রড ও বাঁশের লাঠি) নিয়ে বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে হামলা চালায়। উক্ত হামলায় ভুক্তভোগী আসামিরা বেগম (৫০) এবং তার পরিবারের সদস্যরা গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। ভুক্তভোগীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারা এবং শরীরে মারাত্মক জখম করার পর স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই বিষয়ে সদর মডেল থানায় নালিশী দরখাস্ত সি.আর মামলা (নং ১৭, তারিখ: ০৬/০৩/২০২৬) দায়ের করা হলে আদালত পেনাল কোডের ধারা গুলো ছিলো। ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৪৪৭/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় এজাহার হিসেবে গণ্য করে তদন্তের নির্দেশ দেন।
জামিনে বেরিয়ে জোরপূর্বক মামলা তুলে নেওয়ার হুমকিতে আবার হামলায়, প্রাণভয়ে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে আশ্রয় নেন বক্তব্যের পরিবার ও গর্ভবতী গৃহবধূ! অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, বিবাদীরা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পরই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য পরিবারটির ওপর চরম চাপ ও ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে শুরু করে। গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে সকাল ১০:৩০ ঘটিকার সময় মসজিদপাড়া আলু পট্টি এলাকায় ভুক্তভোগী আসামিরা বেগমকে পেয়ে আবারও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পথরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। মামলা প্রত্যাহারে রাজি না হওয়ায় বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হলে তিনি প্রাণভয়ে স্থানীয় এক মুদি দোকানে ঢুকে আত্মরক্ষা করেন। উক্ত স্থানেও তাকে এবং তার পরিবারকে খুনের হুমকি প্রদান করা হয়। এই ঘটনায় সদর মডেল থানায় পুনরায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অসুস্থ অবস্থায়ও নেই চিকিৎসা ও নিরাপত্তা, কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভুক্তভোগী পরিবারটি! সরেজমিনে তদন্তকালে এবং সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শারীরিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিক্রান্ত হওয়ার পরও পরিবারটি স্বাভাবিক চলাফেরা বা সঠিক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। বিবাদীদের দাপট ও ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকির কারণে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ক্রাইম ইনভেস্টিটিউশন টিমের সরেজমিনে তথ্যর মধ্যে বেরিয়ে এসেছে কান্নায় ভেঙে পড়ে ভুক্তভোগী নারী আক্ষেপ করে বলেন— “আমাদের প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে, আমরা ঘর থেকেও ঠিকমতো বের হতে পারছি না। আইনি প্রতিকার চেয়ে থানায় গিয়েও আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
আইনি সহায়তা ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ! ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট অভিযোগ, অপরাধীরা আদালত ও আইনকে তোয়াক্কা না করে একের পর এক সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। শারীরিক জখম ও মানসিক যন্ত্রণায় জর্জরিত এ অসহায় পরিবারটির আকুল আবেদন—আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন অনতিবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের জীবনের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করে।
পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভাই ভাতিজা মিলে পরিকল্পিতভাবে ভাবে লিখে নেওয়া ও গ্রাস করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ভাই বোনের মধ্যে দুই গ্রুপ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। বঞ্চিত কয়েক ভাই বোনের উপর দফায় দফায় হামলাও রক্তাক্ত জখম হয়েও প্রতিকার ও মানলার সংক্রান্ত আইনি সুরক্ষা দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে। সংঘবদ্ধভাবে নারকীয় তাণ্ডব চালানো এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় মূল অভিযুক্তদের নাম প্রকাশে এসেছে। আদালতের নির্দেশে রেকর্ডকৃত মামলার নথিপত্র ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র নিরীহ পরিবারের ওপর একের পর এক বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে আসছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সদর মডেল থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হলেও আসামিদের অব্যাহত হুমকি ও আতঙ্কে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন নির্যাতিতরা।
মামলার এজাহার ও নথিপত্র অনুযায়ী, এই চাঞ্চল্যকর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন— ১. মো: আসাদুল হক (৪২), পিতা- মৃত রুহুল আমিন, ২. মো: রাহুল আলী (২৩), পিতা- মো: আসাদুল হক, ৩. মো: আবু বক্কার (৫৬), পিতা- মৃত রুহুল আমিন, ৪. নূর মোহাম্মদ (৩০), পিতা- মো: আবু বক্কার, ৫. মো: জনি আলী (২৬), পিতা- মো: আবু বক্কার, ৬. মো: আসমাইল হক (২২), পিতা- মো: আবু বক্কার। সদর মসজিদপাড়া এলাকায় বসবাসরত আতঙ্কিত ও বংশবিস্তার ক্ষমতার অপব্যবহারকারী চক্রের অভিযুক্ত এই ব্যক্তিরা দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের গুরুতর জখম করে এবং বাড়িঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও অর্থ শূর্নঅলংকার জোরপূর্ব ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে আসে সন্ত্রাসী কায়দায়। এমনকি পরবর্তীতে প্রকাশ্যে রাস্তা আটকে মারধর ও খুনের চেষ্টার ঘটনায় থানায় পুনরায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও আসামিদের ভয়ে ও অতিরিক্ত চাপের মুখে পরিবারটি চরম অসহায়ত্ব ও অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী অবিলম্বে এসব চিহ্নিত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার এবং স্থানীয় গ্রামবাসী ও সুশীল সমাজের নাগরিকরা এই বর্বরোচিত ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, চিহ্নিত এই প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও এলাকাবাসী একযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জোরালো দাবি জানিয়েছেন যে, কালবিলম্ব না করে উপযুক্ত ও চিহ্নিত এই অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। অন্যথায় এই ত্রাস সৃষ্টিকারী চক্রের নিপীড়নে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে, যা এলাকার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। প্রতিবেদন করাই সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি এসব অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্বে বিস্তারিত।