1. live@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা : রাজু হোসেন
  2. info@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শিশু সুরক্ষা: চাই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ন্যায়বিচার *এম নজরুল ইসলাম খান* দঃ হালিশহর ফুটবল একাডেমির কার্যক্রমে বাফুফের সন্তুষ্টি প্রকাশ… চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ১ম ইন্টারন্যাশনাল চেস টুর্নামেন্ট -২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে থমথমে পরিস্থিতি: মামলা তুলে নেওয়ার দফায় দফায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি, লুটপাট বাড়ি ভাঙচুর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার!  প্রফেসর শায়েস্তা খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত” অজস্র শ্রদ্ধায় বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও শিক্ষাবিদ স্মরণ করলো আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা আর দেখতে চাই না, এবার বাংলাদেশের পতাকা উড়াতে চাই চাই- মেয়র ডাঃ শাহাদাত  চট্টগ্রামে আরো ৩ একাডেমি পেলো বাফুফের ওয়ান স্টার লাইসেন্স তামিমের ১৯তম জন্ম দিবস উদযাপন পটিয়ায় চালককে অজ্ঞান করে ১৬ লাখ টাকার চিনি সহ কভার্ডভ্যান ছিনতাই, চালককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার…! পটিয়া চক্রশালার মেয়ে অন্তু দে : তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে আলোকিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে

শিক্ষা ও মূল্যায়ন: পরীক্ষা, শিখন অগ্রগতি ও ফলাফল ব্যবস্থার পর্যালোচনা —এম নজরুল ইসলাম খান

এম নজরুল ইসলাম খান, লেখক, শিক্ষক, ও সাংবাদিক নেতা
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩৪৬ বার পড়া হয়েছে

 

শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য কেবল একটি পরীক্ষার নম্বর, একটি গ্রেড কিংবা একটি সনদের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায় না। একজন শিক্ষার্থী কী শিখল, কীভাবে শিখল, তার চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং বাস্তব জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতা কতটা বিকশিত হলো—এসবের সমন্বিত প্রতিফলনই প্রকৃত শিক্ষা। আর সেই প্রতিফলনকে নির্ভুলভাবে অনুধাবন ও উপস্থাপনের প্রধান মাধ্যম হলো একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিজ্ঞানসম্মত মূল্যায়ন ব্যবস্থা।
তাই আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যায়নকে আর কেবল পরীক্ষার শেষ ধাপ হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি শেখানো ও শেখার ধারাবাহিক অংশ। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, ব্যবহারিক ও প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, শিখন-অগ্রগতি নির্ধারণ এবং ফলাফল প্রকাশ—এসব একে অপরের পরিপূরক। এই ধারার কোনো একটি অংশ দুর্বল হলে তার প্রভাব পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পড়ে।

বিশ্বের প্রখ্যাত শিক্ষাচিন্তাবিদরা বহু আগেই এ বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন। জন ডিউই শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের কথা বলেছেন। মারিয়া মন্টেসরি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জ্যাঁ পিয়াজে দেখিয়েছেন, প্রতিটি শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশের নিজস্ব ধাপ রয়েছে; ফলে সবার শেখাকে একই মানদণ্ডে বিচার করা সব সময় যথার্থ নয়। লেভ ভিগোৎস্কি শেখাকে সামাজিক সহযোগিতা ও ধারাবাহিক সহায়তার মাধ্যমে বিকশিত হওয়া একটি প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। বেঞ্জামিন ব্লুম শেখার লক্ষ্য, শিক্ষণ-পদ্ধতি ও মূল্যায়নের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। পরবর্তীকালে পল ব্ল্যাক ও ডিলান উইলিয়াম প্রমাণ করেছেন যে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক ধারাবাহিক ও গঠনমূলক মূল্যায়ন শিক্ষার্থীর শেখার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
এসব দর্শন ও গবেষণার অভিন্ন বার্তা হলো—মূল্যায়নের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীকে কেবল নম্বর দেওয়া নয়; বরং তার শেখার অগ্রগতি চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আরও ভালো শেখার পথ তৈরি করা। অর্থাৎ মূল্যায়ন যদি শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা না রাখে, তবে তা তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে না।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও মূল্যায়নের ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। কখনও নম্বরভিত্তিক, কখনও গ্রেডভিত্তিক, আবার কখনও ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও শিখন-অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অর্জন তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তনের লক্ষ্য, পদ্ধতি ও ফলাফল সম্পর্কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের যথাযথ প্রস্তুতি ও স্পষ্ট ধারণা নিশ্চিত করা না গেলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। অতীতে ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি, গ্রেডিং, শিখন-অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং সনদ নিয়ে যে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষানীতির পরিবর্তনের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও দক্ষ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের বিশ্বে একটি কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা সেইটিই, যেখানে প্রশ্নপত্রের মান, উত্তরপত্র মূল্যায়নের নির্ভুলতা, ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিশ্বাসযোগ্যতা, ফলাফল প্রস্তুতের স্বচ্ছতা এবং অভিভাবকের কাছে তথ্য উপস্থাপনের স্পষ্টতা—সবকিছু একটি অভিন্ন মানদণ্ডে পরিচালিত হয়। কারণ শিক্ষা তখনই অর্থবহ হয়, যখন মূল্যায়ন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাকে বিকশিত করে, শিক্ষকের পাঠদানকে সমৃদ্ধ করে এবং অভিভাবকের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, মানবিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হলে মূল্যায়নকে নম্বরকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার গণ্ডি থেকে বের করে শিখনকেন্দ্রিক উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা, মূল্যায়ন এবং ফলাফল—এই তিনটির মধ্যে সুষম সমন্বয় প্রতিষ্ঠাই হতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি।
(লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, চট্টগ্রাম মডেল স্কুল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট