সমুদ্রে মাছ ধরায় দীর্ঘ ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে আজ, ১১ জুন। মধ্যরাত থেকেই সাগরে ট্রলার ভাসানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন সমুদ্রগামী জেলে। ঘাটে ঘাটে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা। তবে দীর্ঘ দুই মাস কর্মহীন থাকার পর রুপালি ইলিশের খোঁজে সাগরে যাওয়ার আনন্দের চেয়ে, জেলেদের চোখে-মুখে এখন মহাজন ও এনজিওর ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।
দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলের প্রতিটি জেলার ঘাটে সারি সারি মাছ ধরার ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে চলায় জেলেদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে কয়েক গুণ। কেউ ট্রলারে নতুন করে রং করছেন, কেউ পুরনো ছেঁড়া জাল মেরামত করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত নতুন জাল বুনতে। যে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে প্রতিদিন ভোরে লাখ লাখ টাকার মাছ বেচাকেনায় মুখরিত থাকত, সেখানে এখন সুনসান নীরবতা। তবে আজ রাত থেকেই সেই নীরবতা ভেঙে আবারও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবে প্রতিটি ঘাট, এমনটাই আশা স্থানীয়দের।
ঋণের বোঝা ও তেলের বাড়তি দাম জেলেদের ত্রিমুখী সংকটনিষেধাজ্ঞার এই দীর্ঘ সময়ে জেলে পল্লীগুলোতে বিরাজ করছে তীব্র হাহাকার। জেলেরা জানান, প্রায় দুই মাস আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। বেঁচে থাকার তাগিদে বাধ্য হয়ে চড়া সুদে মহাজন এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন।
জেলেরা বলেন দুই মাস হাত গুটিয়ে বসে ছিলাম। ধার-দেনা আর এনজিওর কিস্তি তুলে কোনো রকমে সংসার চালিয়েছি। এখন সাগরে যাওয়ার সময় হয়েছে, কিন্তু মাথায় পাহাড়সম ঋণের বোঝা। এর ওপর আবার ডিজেলের দাম বাড়তি। সাগরে গিয়ে যদি পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়া যায়, তবে ঋণের জালে চিরতরে ডুবে যেতে হবে।
জেলেরা আরো জানান খরচ বাড়লেও অনিশ্চিত ভাগ্য,একটি ট্রলার নিয়ে সাগরে যাওয়ার জন্য রসদ, জাল এবং জ্বালানি তেল বাবদ বিপুল অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়। বর্তমান বাজারে ডিজেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম চড়া হওয়ায় প্রতি ট্রলারে খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। ফলে এবার সাগরে গিয়ে যদি আশানুরূপ ইলিশ বা অন্য মাছ না মেলে, তবে লাভের চেয়ে লোকসানের পাল্লাই ভারী হবে, যা জেলেদের পক্ষে কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব হবে।
মৎস্য খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিষেধাজ্ঞা সফলভাবে পালিত হওয়ায় সাগরে এবার প্রচুর মাছ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে জেলেদের এই সংকটময় মুহূর্তে সরকারি পুনর্বাসন সহায়তা আরও বাড়ানো এবং সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা গেলে তারা এই চরম বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেতেন। সব শঙ্কা কাটিয়ে হাজারো জেলের জাল এবার ভরে উঠুক রুপালি ইলিশে,এমনটাই এখন পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের প্রত্যাশা।