
ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লতিবের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়: বহিষ্কার ও শাস্তির দাবিতে উত্তাল শিবগঞ্জ ও সদর চাঁপাইনবাবগঞ্জ
এসএম রুবেল ইনভেস্টিগেশন টীম অফ ক্রাইম সিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ১৯ এপ্রিল, ২০২৬।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ১৪ নম্বর ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিবের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ব্যাপক দুর্নীতি এবং সরকারি সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে ফুঁসে উঠেছে পুরো ইউনিয়নবাসী। আজ রোববার সকাল থেকে ইউনিয়নের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ চেয়ারম্যানের অবিলম্বে অপসারণ ও তাকে আইনের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। অভিযোগের মূলবিন্দুসমূহ: তদন্ত ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চেয়ারম্যান লতিবের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ আজ রাজপথে আছড়ে পড়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগগুলো হলো: সরকারি চাউল আত্মসাৎ: দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ, ভিডব্লিউবি (পূর্বের ভিজিডি) এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির হাজার হাজার কেজি সরকারি চাল উপকার-ভোগীদের না দিয়ে কালোবাজারে বিক্রি ও আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
আওয়ামী দোসর হিসেবে প্রভাব বিস্তার: বিগত সরকারের শাসনামলে শীর্ষ আওয়ামী নেতাদের দোসর’হিসেবে কাজ করে ক্ষমতার অপব্যবহার,বিরোধী মতাদর্শের মানুষদের হয়রানি এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইউনিয়নের সকল উন্নয়ন প্রকল্প কুক্ষিগত করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে এখন তুঙ্গে।।উন্নয়ন প্রকল্পে হরিলুট: টিআর,কাবিখা ও এলজিএসপি প্রকল্পের কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছেন বলে স্থানীয়রা দাবি করছেন। সনদ বাণিজ্যে জনভোগান্তি:জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশান সনদ এবং চারিত্রিক সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে আন্দোলনরতদের দাবি:বিক্ষোভ সমাবেশে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বলেন,লতিব চেয়ারম্যানের সীমাহীন দুর্নীতির কারণে ধাইনগর ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ আজ সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত। তিনি সরকারি চাল চুরি করে গরিবের পেটে লাথি মেরেছেন। এমন দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারের দোসরকে আমরা আর চেয়ারে দেখতে চাই না। তাদের প্রধান ৩টি দাবি হলো: অবিলম্বে আব্দুল লতিবকে চেয়ারম্যান পদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে। সরকারি চাল আত্মসাৎ ও অর্থ লোপাটের সুষ্ঠু তদন্ত করে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। দ্রুত প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে ইউনিয়নের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল করতে হবে!। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে ধাইনগর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্থানীয় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে—!!! ইউনিয়নবাসীর একটাই কথা—যতক্ষণ পর্যন্ত এই “দুর্নীতিবাজ”চেয়ারম্যানের অপসারণ না হবে, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে। পর্ব-১