1. live@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা : রাজু হোসেন
  2. info@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা :
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গাজীপুর মাওনা, ১নং ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়বেন কৃষকদল নেতা,, মাসুদ রানা চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে বিষয়ভিত্তিক বক্তব্য ও রচনা লিখন প্রতিযোগিতা সম্পন্ন বন্দর থানা ফ্যাসিস্ট লীগের দোসর,, মাহমুদুর রহমান নুহাশ,পুলিশ এর নাকের ডগায়, তারপর ও ধরাচোয়ার বাহিরে, চলন্ত গাড়ি থেকে সাংবাদিকের মোবাইল চুরি বিকাশের পিন রিসেট করে লোন ও অর্থ লেনদেন ॥ স্টেশন রোডের বিকাশ এজেন্টের দোকানের সিসিটিভিতে অজ্ঞাত যুবক সীমান্ত এলাকায় যুবসমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ৫৩ বিজিবির অভিনব ‘সফট পাওয়ার’ কৌশল কবিতা:এক নদী জল, এক ফোঁটা আলো শহীদ জিয়া স্মৃতি আন্তঃস্কুল ফুটবলের শেষ ষোলতে টাইগার পাস, কদম মোবারক, কুলগাও ও মুসলিম হাই স্কুল  আকমল আলী রোডস্থ খালপাড় এলাকায় ওসমানের জুয়া ও মাদকের নতুন ঘর ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন …! একাডেমির অ-১৩ ও অ-১৪ দলের খেলোয়াড়দের অনুশীলন অব্যাহত: জাতীয় বাছাই অ-১৫ অংশ নিবে…! ৩৯নং ওয়ার্ডে “নান্দনিক সোসাইটি কেয়ার ফাউন্ডেশন”উদ্বোধন: সমাজের অসহায় ও দুঃস্থদের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয়

শিক্ষা ও মূল্যায়ন: পরীক্ষা, শিখন অগ্রগতি ও ফলাফল ব্যবস্থার পর্যালোচনা —এম নজরুল ইসলাম খান

এম নজরুল ইসলাম খান, লেখক, শিক্ষক, ও সাংবাদিক নেতা
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ২৪৬ বার পড়া হয়েছে

 

শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য কেবল একটি পরীক্ষার নম্বর, একটি গ্রেড কিংবা একটি সনদের মাধ্যমে নির্ধারণ করা যায় না। একজন শিক্ষার্থী কী শিখল, কীভাবে শিখল, তার চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং বাস্তব জীবনে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের দক্ষতা কতটা বিকশিত হলো—এসবের সমন্বিত প্রতিফলনই প্রকৃত শিক্ষা। আর সেই প্রতিফলনকে নির্ভুলভাবে অনুধাবন ও উপস্থাপনের প্রধান মাধ্যম হলো একটি সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও বিজ্ঞানসম্মত মূল্যায়ন ব্যবস্থা।
তাই আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যায়নকে আর কেবল পরীক্ষার শেষ ধাপ হিসেবে দেখা হয় না; বরং এটি শেখানো ও শেখার ধারাবাহিক অংশ। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, শ্রেণিকক্ষের পাঠদান, ধারাবাহিক মূল্যায়ন, ব্যবহারিক ও প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, শিখন-অগ্রগতি নির্ধারণ এবং ফলাফল প্রকাশ—এসব একে অপরের পরিপূরক। এই ধারার কোনো একটি অংশ দুর্বল হলে তার প্রভাব পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর পড়ে।

বিশ্বের প্রখ্যাত শিক্ষাচিন্তাবিদরা বহু আগেই এ বিষয়টি উপলব্ধি করেছিলেন। জন ডিউই শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের কথা বলেছেন। মারিয়া মন্টেসরি শিশুর স্বাভাবিক বিকাশকে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জ্যাঁ পিয়াজে দেখিয়েছেন, প্রতিটি শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশের নিজস্ব ধাপ রয়েছে; ফলে সবার শেখাকে একই মানদণ্ডে বিচার করা সব সময় যথার্থ নয়। লেভ ভিগোৎস্কি শেখাকে সামাজিক সহযোগিতা ও ধারাবাহিক সহায়তার মাধ্যমে বিকশিত হওয়া একটি প্রক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। বেঞ্জামিন ব্লুম শেখার লক্ষ্য, শিক্ষণ-পদ্ধতি ও মূল্যায়নের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন। পরবর্তীকালে পল ব্ল্যাক ও ডিলান উইলিয়াম প্রমাণ করেছেন যে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক ধারাবাহিক ও গঠনমূলক মূল্যায়ন শিক্ষার্থীর শেখার মান উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
এসব দর্শন ও গবেষণার অভিন্ন বার্তা হলো—মূল্যায়নের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীকে কেবল নম্বর দেওয়া নয়; বরং তার শেখার অগ্রগতি চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা এবং আরও ভালো শেখার পথ তৈরি করা। অর্থাৎ মূল্যায়ন যদি শিক্ষার উন্নয়নে ভূমিকা না রাখে, তবে তা তার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারে না।
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও মূল্যায়নের ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। কখনও নম্বরভিত্তিক, কখনও গ্রেডভিত্তিক, আবার কখনও ধারাবাহিক মূল্যায়ন ও শিখন-অগ্রগতি প্রতিবেদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অর্জন তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরিবর্তনের লক্ষ্য, পদ্ধতি ও ফলাফল সম্পর্কে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের যথাযথ প্রস্তুতি ও স্পষ্ট ধারণা নিশ্চিত করা না গেলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। অতীতে ফলাফল প্রকাশের পদ্ধতি, গ্রেডিং, শিখন-অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং সনদ নিয়ে যে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শিক্ষানীতির পরিবর্তনের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও দক্ষ বাস্তবায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের বিশ্বে একটি কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা সেইটিই, যেখানে প্রশ্নপত্রের মান, উত্তরপত্র মূল্যায়নের নির্ভুলতা, ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিশ্বাসযোগ্যতা, ফলাফল প্রস্তুতের স্বচ্ছতা এবং অভিভাবকের কাছে তথ্য উপস্থাপনের স্পষ্টতা—সবকিছু একটি অভিন্ন মানদণ্ডে পরিচালিত হয়। কারণ শিক্ষা তখনই অর্থবহ হয়, যখন মূল্যায়ন শিক্ষার্থীর সম্ভাবনাকে বিকশিত করে, শিক্ষকের পাঠদানকে সমৃদ্ধ করে এবং অভিভাবকের মধ্যে আস্থা সৃষ্টি করে।

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, মানবিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করতে হলে মূল্যায়নকে নম্বরকেন্দ্রিক প্রতিযোগিতার গণ্ডি থেকে বের করে শিখনকেন্দ্রিক উন্নয়নের ধারায় নিয়ে আসতে হবে। শিক্ষা, মূল্যায়ন এবং ফলাফল—এই তিনটির মধ্যে সুষম সমন্বয় প্রতিষ্ঠাই হতে পারে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি।
(লেখক: শিক্ষক, সাংবাদিক ও প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, চট্টগ্রাম মডেল স্কুল)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট