
এম. আনোয়ার হোসেনঃ
সৃজনশীলতা আর কঠোর পরিশ্রমের সংমিশ্রণে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছেন তরুণ নৃত্যশিল্পী শৌমিতা বণিক শুচি। একদিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো কঠিন পড়াশোনা, অন্যদিকে নাচের প্রতি গভীর ভালোবাসা, এই দুইয়ের চমৎকার সেতুবন্ধনে তিনি হয়ে উঠেছেন বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শৌমিতার শৈল্পিক নাচের ছবি ও ভিডিওগুলো ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। কপালে লাল টিপ আর ঐতিহ্যবাহী লাল-সাদা শাড়িতে তার ধ্রুপদী নাচের মুদ্রাগুলো নেটিজেনদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।
শৌমিতা পেশাগতভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একজন শিক্ষার্থী। মেধাবী এই শিক্ষার্থী পড়াশোনার ব্যস্ততার মাঝেও তার সাংস্কৃতিক চর্চাকে সমান গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। রাজধানীর স্বনামধন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সফলভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা এই তরুণী এখন নিজেকে একজন যোগ্য চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তোলার লড়াইয়ে আছেন। তবে পড়াশোনার চাপের কাছে হার মানেনি তার শৈল্পিক সত্তা।
ঢাকার একটি স্বনামধন্য ড্যান্স অ্যান্ড আর্ট সেন্টারের সাথে যুক্ত থেকে তিনি নিয়মিতভাবে নাচের শিক্ষা প্রদান ও চর্চা করছেন। তার প্রতিটি পরিবেশনায় ফুটে ওঠে দীর্ঘদিনের সাধনা এবং শিল্পের প্রতি একাগ্রতা। বিশেষ করে শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রতি তার ঝোঁক এবং সাবলীল উপস্থাপনা তাকে সমসাময়িকদের থেকে আলাদা করেছে।
জানা যায়, বিভিন্ন জাতীয় উৎসব এবং বড় মাপের স্টেজ পারফরম্যান্সে শৌমিতা নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসবে তার মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তার সৃজনশীল কাজের জন্য ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা তার এই বহুমুখী প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।
তরুণ প্রজন্মের এই শিল্পী তার নিষ্ঠা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের নৃত্যকলা ও সংস্কৃতিকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। একই সাথে সেবার মানসিকতা নিয়ে চিকিৎসা পেশায় যোগ দিয়ে সমাজ ও সংস্কৃতির কল্যাণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে বিশ্বাস অনেকের।