
কোটির সড়কে ঠিকাদারের ‘মাটি-বিলাস’ জনরোষে মাফিয়া সেলিম রেজা, লাইসেন্স বাতিল ও দুদক তদন্তের জোরালো দাবি!
(এসএম রুবেল, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক)
ইনভেস্টিগেশন টিম অফ ক্রাইম সিন (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ৮ এপ্রিল, ২০২৬ বুধবার।
পকেটে ৩ কোটি টাকা,আর সড়কে শুধুই মাটি! চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা মহাডাঙ্গা-আলীনগর রেলগেইট সড়কে উন্নয়নের নামে যা চলছে, তাকে গণডাকাতি’ বললেও কম বলা হবে। এলজিইডির অর্থায়নে নির্মিত এই সড়কের পিচ কার্পেটিং এখন মানুষের হাতের ইশারায় ধুলোয় মিশছে। আর জালিয়াতি ঢাকতে ঠিকাদারের অভিনব অস্ত্র—রাস্তা মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া!অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য!বাজেট বনাম বাস্তবতা! ৫.৩ কিলোমিটার এই সড়কের পুনঃনির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায়-২ কোটি ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার ৩১১ টাকা’অথচ কাজের মান দেখে মনে হচ্ছে এটি তাসের ঘর।
হাতের টানেই কঙ্কাল দশা! গত সপ্তাহে কার্পেটিং শেষ হওয়া মহাডাঙ্গা থেকে আলীনগর রেলগেইট পর্যন্ত সড়কে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। স্থানীয় তরুণ-যুবকরা হাত দিয়ে টান দিলেই উঠে আসছে পিচ ও পাথর! এমনকি পায়ের সামান্য চাপেই গুঁড়িয়ে যাচ্ছে কোটি টাকার কার্পেটিং বিথায় তিন কোটি টাকার টেন্ডার। চুরির নতুন কৌশল ‘মাটি থেরাপি’ আড়াই মিটার প্রশস্ত রাস্তার অনেক জায়গায় পিচ না করেই ফাঁকা রাখা হয়েছিল। যেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে জনরোষ এড়াতে গত ৩ ও ৪ এপ্রিল’ তড়িঘড়ি করে ৮ জন শ্রমিক দিয়ে সড়কের দুপাশ থেকে মাটি কেটে সেই ফাঁকা অংশ ভরাট করা হয়। অর্থাৎ, পিচের বদলে রাস্তা এখন মাটি দিয়ে ঢাকা! কোন ঠিকাদারের নীল নকশায় বেকায়দায় সাধারণ জনগণ?
সরেজমিনে গিয়ে তথ্য উপাত্ত করতে ক্যামেরার সামনে চলে আসে শত শত সাধারণ মানুষ ও ভুক্তভোগীদের হাহাকার! স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,রাস্তাটি এখন পুলসেরাতের চেয়েও চিকন। একদিকে রেললাইন, অন্যদিকে মৃত্যুপুরী ঝঁকির সাথে পথ চলা পাশেই চোখ দিলেই সেই পুরনো ঐতিহ্য ২০ ফিটের ডোবা! আগের প্রশস্ততা নেই বললেই চলে। বারবার স্থানীয়রা জানান কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম ছিল সমালোচনা শুরু হতেই মাটি দিয়ে দুর্নীতি ঢাকার চেষ্টা চালাচ্ছে তারা এই মাফিয়া ঠিকাদারের লোকজন। এমপির ক্ষোভ ও কর্মকর্তাদের উদাসীনতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় আম রাজধানী জেলা জুড়ে! ফেসবুকে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সঠিক নিয়মে কাজ করার কঠোর নির্দেশ দেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে সেই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি উল্টো ঠিকাদারের হাই অফ চেনের বাহাদুরি,মানেনী সংসদ সদস্যকেও।
অভিযুক্তদের বয়ান সরেজমিন বলছেন”নির্মাণ কাজের এমন বেহাল দশা সত্ত্বেও এই নয়াগোলা ফকল্যান্ড মোড় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা-মাফিয়া ঠিকাদার (সেলিম রেজা) তার হাতে টেন্ডার আসলেই কাজের চুন্নিঘাটের রাজত্ব চলে তার ইশারায়,জেলা বাসি বলছেন এই মাফিয়া ঠিকাদার সেলিম রেজার প্রত্যেকটা কাজের ব্যাঘাতে পরিপূর্ণ হয়নি কোনো কাজই,তবে কেন এলজিডির কর্মকর্তারা তার পক্ষে টেন্ডারের সুপারিশ বারবার,জেলা বাসি বুঝছেন এখন উল্টো, সবই মহাবনের কারসাজি! মুঠোফোনে জানতে এই মাফিয়া ঠিকাদার বলছেন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করছেন! কাজের মান সঠিক আছে, পাবলিক কি বলছে তা দেখার দরকার নেই। উপর মহলের কর্মকর্তা ঠিক তো সবই ঠিক কেটে যায় ফোনটি ঠাস্ট করে পরবর্তীতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও,কয়েকটি প্রতিবেদনের ফোন পরে ব্ল্যাকলিস্টে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী তৌফিকুল ইসলাম-ঠিকাদারের পক্ষ নিয়ে বলেন,রোড রোলার চালানোর সময় কিছু জায়গায় প্রশস্ততা বেড়ে গিয়েছিল,তাই ঠিকাদারকে মেরামত করতে বলেছি। নিম্নমানের কাজের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বহুদিন পর কাজ হচ্ছে এটাই বিশাল কিছু ধন্যবাদ সাংবাদিক। ক্রাইম টিমের পর্যবেক্ষণ!কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পে শ্রমিক দিয়ে মাটি কাটার অভিনব জালিয়াতি সরাসরি দুর্নীতির প্রমাণ যেটি সরাসরি প্রমাণ করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, জনগণসহ সংসদ সদস্যকে দেখাচ্ছে বৃদ্ধাঙ্গুলী কার্পেটিংয়ের স্থায়িত্ব ২ দিনও না হওয়া নির্দেশ করে যে নির্মাণসামগ্রীতে চরম ভেজাল মেশানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা এখন এই মাফিয়া ঠিকাদার সেলিম রেজার পকেটে দীর্ঘদিনের কারসাজি ঠিকাদারিতে কোটি কোটি টাকার মালিক, উচ্চ মহল ঠিক ভয় পাইনা জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোকে। সারা নেট দুনিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করা এই জালিয়াতির পেছনে আর কারা জড়িত? ৩ কোটি টাকার এই ‘মাটির রাস্তা’ কি এভাবেই থাকবে, নাকি দোষীরা আসবে আইনের আওতায়? পরবর্তী দ্বিতীয় পর্বে দেখুন ইনভেস্টিগেশন টিম অফ ক্রাইম সিনের বিশেষ প্রতিবেদন। সত্যের সন্ধানে আমরা আপসহীন।
পুরো জেলা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। অভিযুক্ত ঠিকাদার সেলিম রেজা-র বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় সুশীল সমাজ, সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের দাবি স্পষ্ট—এই ‘কুলাঙ্গার’ ঠিকাদারের লাইসেন্স অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রের সম্পদ ধ্বংসকারী এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য রুখতে সর্বস্তরের মানুষ এখন রাজপথে নামার আশঙ্কা! দুদকের হস্তক্ষেপ ও সম্পদ ক্রোকের জোরালো দাবি! শুধুমাত্র লাইসেন্স বাতিল নয়, স্থানীয় জনগণের দাবি এখন আরও সুদূরপ্রসারী সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত টাকা লুটে নিয়ে যারা পাহাড়সম অবৈধ সম্পদ গড়েছে, সেই ঠিকাদার সেলিম রেজাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। স্থানীয় নাগরিকদের দাবি”তদন্ত সাপেক্ষে ঠিকাদারের সকল অবৈধ সম্পদ অবিলম্বে ক্রোক (Freeze) করতে হবে। সড়ক নির্মাণে ব্যয়ের প্রতিটি পাই-পয়সার হিসাব প্রকাশ্যে আনতে হবে। দুর্নীতির সাথে জড়িত পৌরসভার অসাধু কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।