
বিশেষ প্রতিনিধি ঃ চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে কলোনি এলাকায় রেলওয়ের জমি দখল করে মাদকের গুদাম গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ বাণিজ্য নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়ে আসছে।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রেলওয়ের পক্ষ থেকে একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে পলোগ্রাউন্ডস্থ রেলওয়ে কলোনির বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও টাইগারপাস-দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে অবস্থিত কয়েকটি গুদাম রহস্যজনকভাবে অক্ষত রাখা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১ লাখ টাকার বিনিময়ে এসব অবৈধ গুদাম উচ্ছেদ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে সেগুলো অক্ষত রেখে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলেও দাবি তাদের। যার কল রেকর্ড প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের আওতায় ব্রিজের নিচের গুদামগুলোও থাকার কথা ছিল, কিন্তু অজানা কারণে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। ঘুষের বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও জানান, বিষয়টি তিনি নিজে দেখেননি।
এদিকে একই এলাকায় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার হওয়ায় পুরো ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাহবুব আলম খান, পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও সহকারী পুলিশ কমিশনারদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ টিম অভিযান পরিচালনা করে।
গতকাল ৪ এপ্রিল রাত ১১টা ৩০ মিনিটে সিএমপির কোতোয়ালী থানাধীন পলোগ্রাউন্ড রেলওয়ে কলোনি সংলগ্ন দেওয়ানহাট ব্রিজের নিচে শহীদের গুদামের সামনে অভিযান চালিয়ে ৭৪৪ ক্যান বিয়ার উদ্ধার করা হয়।
এ সময় মোহাম্মদ রুবেল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় মামলা নং-১০, তারিখ ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ইং, রুজু করা হয়েছে।