
শিক্ষক নয় যেন জল্লাদ! মাদরাসা ছাত্রকে আছাড় দিয়ে পাষবিক নির্যাতন, সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে ঘাতক শিক্ষক সাকির গ্রেপ্তার
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক,ইনভেস্টিগেশন টিম ক্রাইম সিন ইউনিট চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ১৪ মে, ২০২৬
মাদরাসার আড়ালে এ কেমন নিষ্ঠুরতা! শিশু শিক্ষার্থীকে গলা টিপে হত্যার চেষ্টা; সিসিটিভি ফুটেজে পাষণ্ড শিক্ষক সাকির আলীর তান্ডব সদর মডেল থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার-! পবিত্র কুরআন শিক্ষার পবিত্র আঙিনায় এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হলো কুলাঙ্গার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা ছাত্র শিশু নির্যাতনের অভিযোগ! চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্নেহের পরিবর্তে ৯ বছরের এক কোমলমতি শিশুর ওপর চললো পৈশাচিক তান্ডব। শাসন নয়, বরং হত্যার চূড়ান্ত উন্মাদনায় মেতে উঠেছিলেন এক শিক্ষক। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই লোমহর্ষক দৃশ্য এখন সাধারণ মানুষের হৃদয়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে এই পাষণ্ড মানুষ মারা যার পেশা এই শিক্ষকের।
ঘটনার শুরু ও অমানবিকতা দীর্ঘদিনের নির্যাতনের নেশা এই কথিত শিক্ষকের! অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগে এবং পুলিশ সূত্র বেরিয়ে এসেছে এক লহমর্ষ ঘটনার চিত্র! ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার, সদর মডেল থানাধীন পিটিআই আল হেদায়া হিফজুল কুরআন মডেল মাদরাসার ছাএ ভিকটিম মো. নূর ই সাফী (০৯) ওই মাদরাসার নাজেরা বিভাগের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি কথিত শিক্ষক সাকির আলী (২৩) দীর্ঘদিন ধরেই তুচ্ছ কারণে শিশুটিকে গালিগালাজ অকারনে মারধর ও মানসিক চাপ প্রয়োগ করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তিনি সংশোধন না হয়ে বরং শিশুটির ওপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
সিসিটিভি ফুটেজে রোমহর্ষক সেই দৃশ্য এই কলঙ্কিত শিক্ষকের বিরুদ্ধে! গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখ সকালে মাদরাসার ভেতরে অন্য শিক্ষার্থীদের সামনেই প্রকাশ পায় সাকির আলীর উগ্র রূপ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষক সাকির আলী একটি শক্ত কাঠের স্কেল দিয়ে নূর ই সাফীকে এলোপাথাড়ি পেটাতে থাকেন। মারধরের এক পর্যায়ে তিনি শিশুটির গলা টিপে শ্বাসরোধ করে তাকে শূন্যে তুলে সজোরে পাথুরে মেঝেতে হত্যার উদ্দেশ্যে আছাড় দেন। শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার পরও ক্ষান্ত হননি ওই পাষণ্ড কলঙ্কিত শিক্ষক! সিসিটিভি ফুটেজের এই অকাট্য প্রমাণ এখন পুলিশের হাতে আর অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের আত্মনাদ কঠোর বিচারের দাবি ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ জনতার।
শিশু নির্যাতনের খবর পা মাত্রই দ্রুত পদক্ষেপে সরাসরি সরেজমিনে সদর মডেল থানা পুলিশের টিম ওসি একরামুল হোসাইন ও তার সঙ্গীয় টিম। এনিয়ে শিশুটির মামা মোখলেসুর রহমান বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করার পরপরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অত্যন্ত দ্রুততার সাথে অভিযান চালিয়ে পুলিশ! (ঘাতক শিক্ষক সাকির আলীকে গ্রেপ্তার করে)। অভিযুক্ত সাকির আলী রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী থানার দুধাই নন্দীপুর এলাকার বাসিন্দা। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি একরামুল হোসাইন।
সম্পাদকীয় মন্তব্য ও জনসচেতনতা ক্ষিপ্ত ও কঠোর বিচারের দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ। একজন শিক্ষকের হাতে যখন শিক্ষার্থী নিরাপদ থাকে না, তখন তা পুরো সমাজের জন্য অশনিসংকেত। পড়ার নাম করে কোমলমতি শিশুদের ওপর এই ধরণের মধ্যযুগীয় বর্বরতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শিশুদের সুরক্ষায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিয়মিত শিক্ষকদের কার্যক্রম তদারকি করতে হবে। সেই সাথে এই শিক্ষককে আইনের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়ার আহ্বান সুশীল সমাজ নাগরিকদ ও দেশ জনতার দাবি প্রশাসনের উপর নির্ভর করছে এখন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের এই তড়িৎ পদক্ষেপ প্রশংসার দাবিদার। আমরা আশা করি, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সচেতন হবেন এবং অপরাধী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পাবে। গণমাধ্যম ও প্রতিবেদকের বিশেষ অনুরোধ! আপনার সন্তান মাদরাসা বা স্কুল থেকে ফেরার পর তার শরীর ও মনের অবস্থার দিকে লক্ষ্য রাখুন। কোনো অস্বাভাবিক আচরণ দেখলে বা মারধরের চিহ্ন পেলে সাথে সাথে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলুন এবং প্রয়োজনে আইন নিজের হাতে না তুলে পুলিশের সহায়তা নিন। অথবা গণমাধ্যমকে খবর দিন প্রয়োজনে +008801756911946 ও সদর মডেল থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ +880 1320-125569 জনস্বার্থে— চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ এবং গণমাধ্যম মিডিয়া সেল ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন টিম।