1. live@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা : রাজু হোসেন
  2. info@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা :
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শিশু সুরক্ষা: চাই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ন্যায়বিচার *এম নজরুল ইসলাম খান* দঃ হালিশহর ফুটবল একাডেমির কার্যক্রমে বাফুফের সন্তুষ্টি প্রকাশ… চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ১ম ইন্টারন্যাশনাল চেস টুর্নামেন্ট -২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে থমথমে পরিস্থিতি: মামলা তুলে নেওয়ার দফায় দফায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি, লুটপাট বাড়ি ভাঙচুর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার!  প্রফেসর শায়েস্তা খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত” অজস্র শ্রদ্ধায় বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও শিক্ষাবিদ স্মরণ করলো আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা আর দেখতে চাই না, এবার বাংলাদেশের পতাকা উড়াতে চাই চাই- মেয়র ডাঃ শাহাদাত  চট্টগ্রামে আরো ৩ একাডেমি পেলো বাফুফের ওয়ান স্টার লাইসেন্স তামিমের ১৯তম জন্ম দিবস উদযাপন পটিয়ায় চালককে অজ্ঞান করে ১৬ লাখ টাকার চিনি সহ কভার্ডভ্যান ছিনতাই, চালককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার…! পটিয়া চক্রশালার মেয়ে অন্তু দে : তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে আলোকিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে

রামিসার নির্মম মৃত্যু : বাংলাদেশের আহত মানবিক চেতনা — এম নজরুল ইসলাম খান

এম নজরুল ইসলাম খান, লেখক, শিক্ষক, ও সাংবাদিক নেতা
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ আজ এমন এক সামাজিক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে, যেখানে শিশুদের নিরাপত্তা, শৈশব ও মানবিক বিকাশ গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের প্রতি সহিংসতা, নির্যাতন, যৌন অপরাধ ও হত্যার সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ঘিরে যে মর্মান্তিক ও নির্মম ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তা শুধু একটি পরিবারের নয়—সমগ্র জাতির মানবিক চেতনাকে গভীরভাবে আহত করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এক চরম নিষ্ঠুর ও মানবিকতাবিরোধী বাস্তবতা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে মানুষের মধ্যে গভীর শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রামিসার নির্মম মৃত্যু আমাদের সামনে আবারও সেই কঠিন সত্যকে তুলে ধরেছে—আজ শিশুরা কতটা অনিরাপদ। এর আগে আয়েশা আক্তারসহ আরও বহু শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শিশু রাজন, রাকিব, তনু ও নুসরাতের মতো আলোচিত ঘটনাগুলো সমাজের ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের নির্মম প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে। কখনও পরিবার, কখনও প্রতিবেশী, কখনও পরিচিত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের আশ্রয়ে থেকেও শিশুরা নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠন Ain o Salish Kendra–এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন অপরাধ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও মানবাধিকার প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত কয়েক বছরে শত শত শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে এবং বহু ক্ষেত্রে নির্যাতনের পর হত্যার ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক অবহেলা, নৈতিক শিক্ষার অভাব, প্রযুক্তির অপব্যবহার, মাদকাসক্তি, সামাজিক সহিংসতা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সমাজবিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সমাজে সহমর্মিতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধের চর্চা কমে গেলে মানুষের ভেতরে এক ধরনের অসংবেদনশীলতা তৈরি হয়। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার, অশ্লীল ও বিকৃত কনটেন্টের সহজলভ্যতা, মাদকাসক্তি এবং সহিংস সংস্কৃতির বিস্তার সমাজের একটি অংশকে ক্রমেই নৃশংস করে তুলছে। একইসঙ্গে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিক ও মানবিক শিক্ষার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে। শিক্ষাব্যবস্থা ক্রমেই পরীক্ষানির্ভর হয়ে উঠছে; কিন্তু চরিত্র গঠন, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তৈরির বিষয়গুলো পর্যাপ্ত গুরুত্ব পাচ্ছে না।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব ঘটনার পর সাময়িক প্রতিবাদ দেখা গেলেও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠে না। কয়েকদিন আলোচনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ ও মানববন্ধনের পর আবার নীরবতা নেমে আসে। অথচ প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মৌলিক দায়িত্ব। একটি শিশুর প্রতি সহিংসতা কেবল একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; এটি পুরো সমাজের মানবিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়।
এই পরিস্থিতিতে পরিবারকে হতে হবে শিশুর প্রথম নিরাপদ আশ্রয়, বিদ্যালয়কে হতে হবে নৈতিকতা ও মানবিকতার চর্চার কেন্দ্র এবং রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার। শিশুদের মানসিক বিকাশ, নিরাপত্তা ও মানবিক শিক্ষাকে জাতীয় অগ্রাধিকারে পরিণত করতে হবে। বিদ্যালয়ে শিশু সুরক্ষা নীতিমালা কার্যকর করা, অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
রামিসা আজ আর কেবল একটি নাম নয়; সে বাংলাদেশের আহত শৈশব ও ভেঙে পড়া মানবিক চেতনার প্রতীক। তার নির্মম মৃত্যু আমাদের বিবেককে প্রশ্ন করে—আমরা কেমন সমাজ গড়ছি, যেখানে শিশুরাও নিরাপদ নয়? একটি শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে রক্ষা করা। কারণ যে সমাজ তার শিশুদের নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হয়, সেই সমাজ কখনো সত্যিকার অর্থে মানবিক, সভ্য ও উন্নত হতে পারে না।

(লেখক : শিক্ষক, সাংবাদিক ও শিক্ষাচিন্তক)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট