
এম নজরুল ইসলাম খান
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর কেন্দ্রিক শিল্প, বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের দ্রুত বৃদ্ধি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে মোংলার গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়েছে। বন্দর সংলগ্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ইপিজেড, গুদামজাতকরণ সুবিধা ও পরিবহন নেটওয়ার্কে সম্প্রসারণের ফলে কর্মসংস্থান যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রতিদিন মানুষের চলাচলও বেড়েছে।
কিন্তু এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনো একটি ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। মোংলা পৌরসভা থেকে দিগরাজ, বাসস্ট্যান্ড এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাতায়াতের জন্য এখনো নদী পার হওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। নদীটির প্রস্থ আনুমানিক ১০০–১৫০ মিটার হলেও আধুনিক কোনো সেতু নেই। প্রতিদিন ২,০০০–৫,০০০ মানুষ নৌকা ও ট্রলারের মাধ্যমে জীবনঝুঁকি নিয়ে পারাপার করেন।
বর্তমান অস্থায়ী বা আংশিক পাকা ঘাটগুলো জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল। ভাটার সময় ঘাট পানির নিচে তলিয়ে যায় বা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে যাত্রীদের কাদামাটি ও পিচ্ছিল পরিবেশে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়। নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য পরিস্থিতি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি রোগীদের হাসপাতালে পৌঁছানো বিলম্বিত হয়, শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের সময়মতো যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে, এবং ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন ব্যাহত হয়।
নৌযানগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী, পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটের অভাব এবং প্রতিকূল আবহাওয়া দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বহুবার দাবি জানানো হলেও এখনও কার্যকর স্থায়ী সমাধান দেখা যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্থায়ী ঘাট সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধান নয়। একটি আধুনিক, নিরাপদ সেতু নির্মাণই একমাত্র কার্যকর সমাধান। প্রস্তাবিত ২০০–৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণ হলে মোংলা পৌরসভা, দিগরাজ, বাসস্ট্যান্ড এবং আশপাশের এলাকায় দ্রুত, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
এতে জনদূর্ভোগ কমবে, মোংলা বন্দর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও শিল্প বিনিয়োগ বাড়বে, এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকবে। এলাকাবাসী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (RHD) এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের কথায়,
“অস্থায়ী ঘাট সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে, কিন্তু একটি আধুনিক সেতুই আমাদের জীবনের ঝুঁকি চিরতরে দূর করতে এবং উন্নয়নের দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে।”
সার্বিকভাবে, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, জননিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে মোংলা নদীর ওপর আধুনিক সেতু নির্মাণের সময় এখনই।