1. live@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা : রাজু হোসেন
  2. info@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা :
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শিশু সুরক্ষা: চাই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও ন্যায়বিচার *এম নজরুল ইসলাম খান* দঃ হালিশহর ফুটবল একাডেমির কার্যক্রমে বাফুফের সন্তুষ্টি প্রকাশ… চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ১ম ইন্টারন্যাশনাল চেস টুর্নামেন্ট -২০২৬ সম্পন্ন হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে থমথমে পরিস্থিতি: মামলা তুলে নেওয়ার দফায় দফায় হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি, লুটপাট বাড়ি ভাঙচুর চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুক্তভোগী পরিবার!  প্রফেসর শায়েস্তা খানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত” অজস্র শ্রদ্ধায় বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও শিক্ষাবিদ স্মরণ করলো আমরা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকা আর দেখতে চাই না, এবার বাংলাদেশের পতাকা উড়াতে চাই চাই- মেয়র ডাঃ শাহাদাত  চট্টগ্রামে আরো ৩ একাডেমি পেলো বাফুফের ওয়ান স্টার লাইসেন্স তামিমের ১৯তম জন্ম দিবস উদযাপন পটিয়ায় চালককে অজ্ঞান করে ১৬ লাখ টাকার চিনি সহ কভার্ডভ্যান ছিনতাই, চালককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার…! পটিয়া চক্রশালার মেয়ে অন্তু দে : তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে আলোকিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে

ভাঙা ঝুপড়িতে মানবতার জীবন, পুনর্বাসনের আশায় বৃদ্ধ লুৎফর রহমান

নীলফামারী প্রতিনিধি:- রাব্বি রহমান
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬
  • ১২১ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারীর এক প্রত্যন্ত গ্রামের অসহায় বৃদ্ধ লুৎফর রহমানের জীবন যেন দারিদ্র্য ও সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই মানুষটি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে একটি পলিথিনে মোড়ানো ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঝড়, বৃষ্টি, শীত কিংবা প্রখর রোদ সবকিছুই যেন তার জীবনের নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের বাড়োঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ৬০ ঊর্ধ্ব লুৎফর রহমান । সরেজমিনে দেখা যায়, সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ডোমার সড়ক সংলগ্ন নটখানা এলাকায় একটি বাউন্ডারি ওয়ালের পাশে পলিথিন, ছেঁড়া ব্যানার ও খড়কুটো দিয়ে তৈরি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। ঝুপড়িটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে ভরা। ভেতরে রয়েছে একটি জরাজীর্ণ বিছানা, যার চারদিকে ইঁদুরের গর্ত। বৃষ্টি, ঝড় কিংবা শীত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেই সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই সেখানে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লুৎফর রহমান চৌধুরী সদর উপজেলার কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের মৃত ছলি মামুদ চৌধুরীর ছেলে। একসময় রিকশা ও ভ্যান চালিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার চালাতেন তিনি। তবে কয়েক বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এরপর ধীরে ধীরে পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, সন্তানদের অবহেলা ও অযত্নের কারণে বর্তমানে তিনি চরম অসহায় অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। কয়েকটি বাঁশের খুঁটি ও পুরোনো পলিথিন দিয়ে তৈরি করা হয়েছে তার বসবাসের স্থান। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। বর্ষা মৌসুমে রাত জেগে কাটাতে হয় তাকে। আবার শীতকালে তীব্র ঠান্ডা এবং গ্রীষ্মকালে অসহনীয় গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ এই বসবাসের পরিবেশে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটছে তার। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃদ্ধ লুৎফর রহমান অত্যন্ত সৎ ও নিরীহ একজন মানুষ। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি কখনো কারও কাছে হাত পাততে চান না। তবে বাস্তবতার কঠিন আঘাতে আজ তিনি মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় দিন গুনছেন। অনেকবার বিভিন্ন মহলে সহযোগিতার আবেদন করা হলেও এখনো স্থায়ী কোনো পুনর্বাসনের ব্যবস্থা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, একটি নিরাপদ বসতঘর পেলে লুৎফর রহমানের জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত কিছুটা স্বস্তিতে কাটতে পারবে। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবী সংগঠন এবং বিত্তবান ব্যক্তিদের দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃদ্ধ লুৎফর রহমান বলেন, “বয়স হইছে, আর কাজ করতে পারি না। এই পলিথিনের ঘরেই অনেক কষ্টে থাকি। বৃষ্টি আসলে ঘুমাইতে পারি না, পানি পড়ে। আমার একটা থাকার ঘর হইলে জীবনের শেষ সময়টা শান্তিতে কাটাইতে পারতাম।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। সরকারি আবাসন বা পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় আনার সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।
মানবিক বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা পেলে হয়তো দীর্ঘ পাঁচ বছরের এই কষ্টের অবসান ঘটবে। একটি নিরাপদ ঘরই ফিরিয়ে দিতে পারে বৃদ্ধ লুৎফর রহমানের জীবনে নতুন আশার আলো এবং সম্মানজনকভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট