
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘লেডি ডন’জেসমিনের ভয়ংকর প্রতারণার ফাঁদ! মুহূর্তে বিদেশে উধাও হওয়ার আশঙ্কা’ উত্তালধাইনগর ইউনিয়ন
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক এন্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম-অফ ক্রাইম সিন ২১ এপ্রিল, ২০২৬।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিভৃত পল্লী ধাইনগর এখন এক আতঙ্কের জনপদ। সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে ‘ই-ভ্যালি’র আদলে গড়ে তোলা হয়েছে এক বিশাল প্রতারণার সাম্রাজ্য। মুদি দোকানদার থেকে রাতারাতি ‘লেডি ডন’ বনে যাওয়া জেসমিন ওরফে ফুচকা জেসমিনের কবলে পড়ে এখন নিঃস্ব হাজার হাজার মানুষ। নেপথ্যে উঠে আসছে কোটি কোটি টাকার আত্মসাৎ ও দুর্ধর্ষ সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য। আম রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নে জেঁকে বসেছে এক ভয়ংকর প্রতারণার সিন্ডিকেট। সরকারি প্রকল্পের আদলে জাল কার্ড ছাপিয়ে এবং ‘ই-ভ্যালি’র ছক অনুসরণ করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সরাসরি অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জেসমিন বেগম ওরফে ‘ফুচকা জেসমিন’-এর বিরুদ্ধে। জনশ্রতি রয়েছে-প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত বিশাল অর্থ দিয়ে তিনি বিদেশে সম্পদ গড়ার পাঁয়তারা করছেন। সোমবার জেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্যে বেরিয়ে এসেছে এই লেডি ডনের অন্ধকার জগতের লোমহর্ষক সব তথ্য।
সরকারি লোগো ও স্লোগান ব্যবহার করে ‘দুস্থ কার্ড’ জালিয়াতি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত, সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেসমিন তার ‘মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স’ নামক সাধারণ একটি মুদি দোকানের লাইসেন্স ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের আদলে ‘দুস্থ কার্ড’ তৈরি করেছেন। তাতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ স্লোগানটি। সাধারণ মানুষ এটিকে সরকারি সাহায্য মনে করে ভুল করছেন। প্রতিটি কার্ডের বিনিময়ে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে মাসে মাত্র ৫০০ টাকায় ৩০ কেজি চাল দেওয়ার লোভ দেখানো হয়, যা কার্যত অসম্ভব একটি প্রস্তাব। মিথ্যা আশ্বাস-মাতৃত্বকালীন ভাতা, বয়স্ক ভাতা, এমনকি সরকারি ঘর ও সাব-মারসিবল পাম্প দেওয়ার নামে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। ডাবল মুনাফার ফাঁদ-!১ লক্ষ টাকা জমা রাখলে তিন মাসে দ্বিগুণ লাভ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহের অভিযোগ।
ই-ভ্যালি মডেলে কোটি টাকার স্বপ্ন ও সর্বস্বান্ত ধাইনগর ইউনিয়নের মানুষসহ আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের তার ফাঁদে পড়া বহু মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুল আলোচিত ই-ভ্যালি যেভাবে অগ্রিম টাকা নিয়ে পণ্য দিত না, জেসমিনও সেই একই মডেলে ব্যবসা সাজিয়েছেন এই শীর্ষ প্রতারক লেডি জেসমিন ওরফে ফুচকা জেসমিন। ধাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার অসহায় মানুষের কাছ থেকে অন্তত ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা সরাসরি হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। তবে স্থানীয় সূত্রমতে, বিনিয়োগের বিপরীতে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে আদায়কৃত অর্থের পরিমাণ ৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। জমি-ফ্ল্যাট ও বিলাসী জীবন পাচারের অপেক্ষায় কোটি কোটি টাকা ইউনিয়ন বাসির! সঞ্চয় এখন জেসমিন ও তার সহযোগী এক্স বয় শীর্ষ প্রতারক মঈদুল ওরফে চোর মইদুল।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতারণার এই টাকায় জেসমিন কেবল জেলাতেই নয়, জেলার বাইরেও বিশাল জমি ও আলিশান বাড়ি-গাড়ি করেছেন। সাধারণ মানুষের জমানো এই অর্থ তিনি একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইউরোপ ও ব্যাংককের বিভিন্ন ব্যাংকে পাচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তার এই সিন্ডিকেট এখন পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন ও জেলাগুলোতেও জাল বিস্তার করছে। প্রতারক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে! লেডি জেসমিন ও মাফিয়া মঈদুল এখন গরিবের রক্তচোষা অঢেল টাকার মালিক। বর্তমানে এক ভয়ঙ্কর প্রতারক চক্রের কবলে পড়ে নিঃস্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষ, যার মূল হোতা হিসেবে উঠে এসেছে তথাকথিত ‘লেডি জেসমিন’এবং তার নেপথ্যের কারিগর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে মাফিয়া চোর মঈদুল। অনুসন্ধানে জানা যায়, জেসমিনের অতীত ছিল অত্যন্ত সাধারণ; কয়েক বছর আগেও সে ফুচকা বিক্রি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করত, যে কারণে এলাকায় সে ফুচকা জেসমিন’নামে পরিচিত ছিল। অন্যদিকে, তার সহযোগী মঈদুল এই জেলার কুখ্যাত চোর ও প্রতারকদের গডফাদার হিসেবে আগে থেকেই চিহ্নিত। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এই দুই ধুরন্ধর প্রতারকের যখন হাতবদল হয়, তখন থেকেই শুরু হয় সাধারণ মানুষের ওপর এক পরিকল্পিত লুটতরাজ।
প্রতারণার নীল নকশা ও কৌশল দুই মাসতিক্ত! এই চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে গ্রাম পর্যায়ের সহজ-সরল মানুষকে টার্গেট করে তাদের কার্যক্রম চালায়। তাদের প্রতারণার ধরণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো! লটারি স্ক্যাম তারা গ্রামগঞ্জে মাত্র ১০ টাকার লটারিতে ৫০০০ টাকা জেতার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়। পরিকল্পিত আত্মসাৎ-! মঈদুল পর্দার আড়াল থেকে সমস্ত নীল নকশা তৈরি করে দেয় এবং জেসমিন তার রূপ ও চাতুর্য ব্যবহার করে তা বাস্তবায়ন করে। গভীর রাতের ভাগাভাগি’ অসহায় মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত এই বিপুল পরিমাণ টাকা প্রতিদিন গভীর রাতে জেসমিন ও মঈদুল নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়। নেটওয়ার্ক বিস্তার নিজেদের সিন্ডিকেট বড় করতে তারা অভাবগ্রস্ত ও বেকারদের উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে এই অন্ধকার পথে নামাচ্ছে, ফলে দিন দিন তাদের এই অপরাধ সাম্রাজ্য আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে।
পেশিশক্তি ও ‘গুন্ডাবাহিনী’র দাপট! কোণঠাসা প্রশাসন! জেসমিনের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই নেমে আসে অমানবিক নির্যাতন। তার একটি নিজস্ব ‘মাসিক বেতন ভুক্ত গুন্ডাবাহিনী’ অদল রয়েছে যারা প্রতিবাদকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হামলা ও গুম করার হুমকি দেয়। এমনকি গত ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুজ চন্দের নেতৃত্বে অভিযান চালাতে গেলে তার অনুসারীরা পরিকল্পিতভাবে জনরোষ তৈরি করে প্রশাসনকে বাধাগ্রস্ত করে। পরক্ষ তদন্ত কমিটির শুনানির দিনও কয়েকশ নারী নিয়ে এই ফুচকা লেডিস জেসমিন! সিনেমার স্টাইলে ভূমি অফিস ঘেরাও করার দুঃসাহস দেখান। এবং পরীক্ষিত ও অপ্রীতিকার ঘটনা ঘটনোর চেষ্টা করে। অভিযুক্তের দাবি বনাম বাস্তব চিত্র- নিয়ে ক্রাইম সিন এর ক্যামেরায় হাজারোও ভুক্তভোগীদের হাহাকার উত্তাল ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার বড় আশঙ্কা যেকোনো মুহূর্তে –!!
অভিযোগের বিষয়ে জেসমিন বেগম দাবি করেন, তিনি ব্যাংক লভ্যাংশ ও সরাসরি মিল থেকে চাল কিনে কম দামে দিচ্ছেন। তবে একজন সাধারণ ট্রেড লাইসেন্সধারী কীভাবে ব্যাংকিং বা বড় কোনো আমানত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মতো কাজ করছেন, তার কোনো বৈধ উত্তর মেলেনি। ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত বিরোধের দাবি তুললেও সরকারি প্রকল্পের লোগো ও কার্ড জালিয়াতির বিষয়ে তিনি সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। তদন্তের জালে ‘লেডি ডন’ জেসমিন ওরফে ফুচকা জেসমিন প্রশাসনের কঠোর বার্তা শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসন একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদন জমা হলেই এই ‘অবৈধ’ ব্যবসার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, ভুক্তভোগী হাজার হাজার মেহনতি মানুষ এখন তাদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত পেতে এবং এই ‘লেডি ডন’কে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
প্রতিবেদকের মন্তব্য ! সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে যারা সম্পদের পাহাড় গড়ে, তাদের জায়গা অন্ধকার প্রকোষ্ঠে হওয়া উচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ‘ফুচকা, ও এই জেলার শীর্ষ প্রতারক হিসেবে বিবেচনায় ১০০% তালিকাভুক্ত! তবে এই মুহূর্তে জেসমিন’র- প্রতারণার সিন্ডিকেট উপড়ে না ফেললে সামনে আরও বড় ধরনের সামাজিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে সরজমিনে গিয়ে তদন্ত বেরিয়ে আসছে পুরো ইউনিয়নবাসী এখন একত্র হচ্ছে, জেসমিনকে দেওয়া তাদের পাওনা টাকা আদায় করার জন্য এতে যে কোন মুহূর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা আম রাজধানীর মাটিতে-! তবে-এই ‘লেডি ডন’ সিন্ডিকেটের শেকড় কতদূর বিস্তৃত, তা এখন দেখার বিষয়। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ না থাকলে এই প্রতারণা কেবল একটি ইউনিয়ন নয়, ছড়িয়ে পড়তে পারে পুরো জেলায়। সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা টাকা উদ্ধার এখন সময়ের অপেক্ষায়। পর্ব-২–+!!!!!