
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসতি এলাকায় জোরপূর্বক ৩৩ হাজার ভোল্টের পোলপূতে লাইন স্থাপনের চেষ্টা: আতঙ্কে পুরো গ্রামের মানুষ জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি!
সরেজমিন নিয়ে বিশেষ অনুসন্ধান | ক্রাইম সিন ইউনিট মিডিয়া সেল’ ক্রাইম এলার্ট! ইনভেস্টিগেশন টিম। এস এম রুবেল | চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌরসভার আওতাধীন ১ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াগোলা মোড় এলাকার উত্তর ভবানীপুর গ্রামে জনবসতি ও সংকীর্ণ আবাসিক সরু পথ ভেদ করে পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের হাই-পাওয়ার বৈদ্যুতিক লাইন ও খুঁটি জোরপূর্বক স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। পল্লী বিদুৎ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জোনাল অফিস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে! অনুসন্ধান ও সরেজমিনে গিয়ে যানা যায় কোন প্রকার রোড ম্যাপ ছাড়াই পল্লী বিদুৎ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক ৩৩ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানের আরো যারা যাই সেখানকার গ্রামবাসী বাধাঁ দেওয়াই কর্তৃপক্ষ! মাস্তান ও ক্যাডার বাহিনী দিয়ে মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর খাটিয়ে কাঠের খুঁটি বসানো হচ্ছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায় গ্রামবাসী সকলেই একত্র হয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এ এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে উচ্চমানের এই বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের পাঁয়তারায় পুরো গ্রাম জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আগের বৈদ্যুতিক সংযোগ গ্রামবাসীদের ছাদের একদম ঘেষেই বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে যদিও পূর্বের ১২ হাজার ভোল্টের লাইন সংযোগটি কোন প্রকার সার্জিক্যাল সেফটি ছাড়াই রক্ষিত রয়েছেন যা গ্রামবাসীরা মৃত্যুর ঝুঁকিতে বসবাস করে আসছেন। অনুসন্ধানে আরও জানা যায় পূর্বের সংযোগটিকে গ্রামবাসীদের ব্যক্তিগত যাতায়াত ৪ ফির্ট রাস্তার উপর থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গ্রামবাসীদের দেওয়া দুইটি মামলা চলমান রয়েছেন বলে জানাযায়।
প্রতিকার ও বিকল্প সংযোগটির বিষয়ে নয়াগোলার উত্তর ভবানীপুর গ্রামের মানুষ জানান আমরা মাত্র ৩ থেকে ৪ ফুট চওড়া একটি সরু ও ঘনবসতিপূর্ণ গলি। গলির দু’পাশে গা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বসতবাড়ি। সেই সরু গলির ওপর দিয়েই বর্তমানে নেস্কো এবং পল্লী বিদ্যুতের অপরিকল্পিত কাঁচা লাইন ঝুলছে। অনেক জায়গায় ঘরের ছাদ এবং পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের বিল্ডিংয়ের একদম কাছ দিয়েই কোন প্রকার প্লাস্টিক বা সেফটি কভার ছাড়াই ঝুলছে এসব বিপজ্জনক তার। গ্রামবাসীদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন বিল্ডিং এর তার ঘেষা আমাদের বাড়ি পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের হলেও ঝুলন্ত তারের কারণে একতলার ওপর আর কোনো কাজ করতে পারছি না। ছাদের একদম কাছাকাছি হাই-ভোল্টেজ তার ঝুলছে। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানির আশঙ্কা হবে আমাদের যেকোনো মুহূর্তে। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের প্রতি দাবী জানাচ্ছি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা করে ঝুঁকিপূর্ণ তারের সংযোগ টানা হোক বলে জোর দাবি জানিয়েছেন পুরো গ্রামবাসীরা।
গ্রামের একজন নারী উদ্যোক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বিদ্যুৎ আমাদের জীবনে প্রয়োজনীয়, কিন্তু মানুষের জীবনের চেয়ে বিদ্যুৎ বড় হতে পারে না। আমরা নিরুপায় মানুষ, আমাদের ছোট ছোট জায়গায় বাড়ি। এত ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘরের ওপর দিয়ে আবার ৩৩ হাজার ভোল্টেজের তার নিলে আমাদের নিরাপত্তার কী হবে? ক্যানাল ও ক্যানেল পাড়ের ঝুঁকি গ্রামের সেচ ক্যানেলের সরু ড্রেন এবং গভীর ড্রেনের পাশ দিয়েও জোরপূর্বক কাঠের খুঁটি পোঁতা হয়েছে। এলাকাবাসী ও সংবাদকর্মীদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, জলাশয় ও ক্যানেল পাড়ের মাটি এমনিতেই নরম ও ঝুঁকিপূর্ণ। সেখানে অপরিকল্পিতভাবে পোঁতা দুর্বল কাঠের খুঁটির ওপর দিয়ে যদি ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়! তবে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে খুঁটি ভেঙে পড়ে বড় ধরনের মহাবিপর্যয় ঘটতে পারে।
নিরুপায় হয়ে কোটে দুইটি মামলা চলমান থাকলেও বিকল্প সরকারি রুট ব্যবহারের দাবি জানিয়েছেন পুরো গ্রাম বাঁশি তবে গ্রামবাসীর স্পষ্ট দাবি—ঘনবসতিপূর্ণ বসতবাড়ির ওপর দিয়ে এবং এই ৩-৪ ফুট সরু গলির ভেতর দিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের হাই-টেনশন লাইন কোনোভাবেই যেতে দেওয়া হবে না। তারা জানান পাশে সরকারি বড় রাস্তা রয়েছে। বসতি রক্ষা করে সেই সরকারি রাস্তা ব্যবহার করেই এই বিদ্যুৎ লাইন স্থানান্তর করা সম্ভব ও যুক্তিযুক্ত ও সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনাও করেন গ্রামবাসী। স্থানীয় প্রবীণ ও ভুক্তভোগীরা জানান, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রামবাসীর আকুল আবেদন—অনতিবিলম্বে জনবসতি এলাকা থেকে এই ঝুঁকিপূর্ণ ৩৩ হাজার ভোল্টের তার ও খুঁটি অপসারণ করে বিকল্প সরকারি রুট দিয়ে লাইন নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হোক বলে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
গ্রামবাসীর অভিযোগে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিকট জানতে চাইলে তারা জানান আমরা প্লানমাফিক ও সরকার কর্তৃক নতুন লাইনের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। গ্রামবাসীদের বাধাঁ দেওয়ার কারণে আমরা ৩৩ হাজার ভোল্টেজের সংযোগটি এখন স্থগিত রাখা হয়েছে! তবে পরবর্তী উদ্বত্য গণের নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পরবর্তী কাজের সংযোগ লাইন য়োগে চলমান রয়েছেন বলে জানান তারা। তবে জোরপূর্বক সংযোগ স্থাপনা ও ক্যাডার বাহিনী সন্ত্রাসী দিয়ে গ্রামবাসীদের উপর মামলার ভয় দেখিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টেজ নতুন সংযোগটির কথা তারা অস্বীকার করেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌরসভার উত্তর ভবানীপুর গ্রামে ঘনবসতি ও সংকীর্ণ আবাসিক পথ ভেদ করে আইনগত মামলা উপেক্ষা ও অপরিকল্পিতভাবে ৩৩ হাজার ভোল্টের উচ্চমাত্রার বিদ্যুৎ লাইন স্থাপনের এই আত্মঘাতী পদক্ষেপ নাগরিক সমাজ, স্থানীয় বুদ্ধিজীবী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। সুশীল সমাজের মতে, নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব; অথচ যেখানে ৪ ফিট গলির ভেতর অপরিকল্পিত কাঁচা লাইনের বিপজ্জনক উপস্থিতির কারণে ইতিমধ্যে জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান, সেখানে কোনো প্রকার মানসম্মত সার্জিক্যাল সেফটি বা রুট ম্যাপ ছাড়া পুনরায় অতি-ঝুঁকিপূর্ণ হাই-টেনশন লাইন বসানোর পাঁয়তারা সম্পূর্ণ বেআইনি, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও চরম জনস্বার্থবিরোধী।
স্থানীয় সুশীল সমাজ ও বুদ্ধিজীবীগণ আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন যে, বিদ্যুৎ উন্নয়নের চালিকাশক্তি হলেও তা কোনোভাবেই মানুষের জীবনের মূল্যের চেয়ে বড় হতে পারে না। মাটি পরীক্ষা ছাড়া জলাশয় ও ক্যানেল পাড়ের নরম মাটিতে অপরিকল্পিতভাবে দুর্বল কাঠের খুঁটি বসিয়ে ৩৩ হাজার ভোল্টের সংযোগ দেওয়া মানে পুরো গ্রামকে সম্ভাব্য এক মহাবিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া। অন্যদিকে, গ্রামবাসীর উপর ক্যাডার বাহিনীর ভয়ভীতি বা মামলার হুমকির যে অভিযোগ উঠে এসেছে, তা গণতান্ত্রিক ও আইনি প্রক্রিয়ার সরাসরি লঙ্ঘন। রাজনীতিবিদ ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জোর দাবি জানিয়েছেন যে, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে জনবসতিপূর্ণ এই সংকীর্ণ রুট থেকে ঝুঁকিপূর্ণ তার ও খুঁটি অপসারণ করতে হবে। একই সাথে, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বা প্রাণহানি ঘটার আগেই সরকারি বিকল্প বড় রাস্তা ব্যবহার করে নিরাপদ ও টেকসই রুট নিশ্চিত করতে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করছে সচেতন নাগরিক সমাজ।