
কালো টাকার চোরাচালানে রোড রোলারের চাকা! চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোটি টাকার ভারতীয় মাদক ধ্বংস!
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযানে জব্দকৃত প্রায় কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য আদালতের নির্দেশনায় জনসম্মুখে গুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জেলা আদালত চত্বর ও সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন, বিজ্ঞ বিচারক এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে ছিল বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত ফেনসিডিল রয়েল স্ট্যাগ), গাঁজা, চোলাই মদ,হিরোইন, ভারতীয় বিঁডির ও বিঁড়ির বিপুল পরিমাণে মশলা ও পাতাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সিরাপ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় কার্টন ভর্তি বোতল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রথমে বস্তা ও কার্টন থেকে বোতলগুলো বের করে নির্দিষ্ট স্থানে স্তূপ করেন এবং পরবর্তীতে একটি বিশাল রোড রোলার (Road Roller) দিয়ে সেগুলো পিষে সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট করেন।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হুংকার! প্রকাশ্যেই গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো কোটি টাকার অবৈধ মাদকের জমানো পাহাড়! সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করা এই বিপুল পরিমাণ মাদকের চালান বিভিন্ন সময়ে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে জব্দ করেছিল পুলিশ,বিজিবি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ডিএনসি, র্যাব! মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আদালতের চূড়ান্ত রায় ও কঠোর নির্দেশনার পরই এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর দ্রব্য ধ্বংস করার মাধ্যমে প্রশাসন মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’নীতির আরও একটি শক্ত বার্তা প্রদান করল, বর্তমান সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স শূন্য রাখতে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা আরো জোরদার করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে বড় ধাক্কা মাদক পড়ে আছে রাস্তায়! মাদক কারবারিদের! চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোটি টাকার মাদক পিষে দিল রোড রোলার! কোটি টাকার মাদক ধ্বংস! ক্ষতিকর প্রভাব বাংলাদেশ নাকি ভারতের? সীমান্তবর্তী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে এই কোটি টাকার মাদক ধ্বংসের ঘটনাটি মূলত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উভয় দিক থেকেই বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা প্রকারান্তরে ভারতীয় মাদক চোরাচালানিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করেছে। জব্দকৃত মাদকের সিংহভাগই যেহেতু পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছিল, তাই এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে সবচেয়ে বড় আর্থিক ধাক্কাটি খেয়েছে ভারতের মাদক উৎপাদনকারী ও পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো, কারণ তাদের কোটি টাকার বিনিয়োগ মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। তবে সামগ্রিক সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করলে, এই মাদকগুলো যদি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ত, তবে তার চূড়ান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদী ভয়ানক ক্ষতিকর প্রভাব পড়ত বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও অর্থনীতির ওপর। মাদকের আগ্রাসন বাংলাদেশের হাজারো পরিবারকে ধ্বংস করত, যুবসমাজকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিত এবং দেশ থেকে কোটি কোটি টাকা অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার হয়ে যেত। তাই আপাতদৃষ্টিতে ভারতের চোরাকারবারিদের আর্থিক ক্ষতি হলেও, দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে বাংলাদেশ’ আর এ কারণেই এই ধ্বংস প্রক্রিয়াকে বাংলাদেশ তথা পুরো অঞ্চলের জননিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে একটি অত্যন্ত সফল ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এস এম রুবেল, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, ইনভেস্টিগেশন টিম ক্রাইম সিন ইউনিট! মিডিয়া-সেল! গণমাধ্যম চাঁপাইনবাবগঞ্জ। ২৪ মে, ২০২৬। মোবাইল নম্বর: (+008801756911946) সরেজমিন টিম।