
উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে কোটি-কোটি টাকা লুট ৬৪ জেলায় সক্রিয় ভয়ংকর দালাল মাফিয়াদের পাচারকারী জিম্মি দেশ ও প্রবাসরত চক্র
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ইনভেস্টিগেশন টিম’ অফ ক্রাইম সিন’ ঢাকা টু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫ এপ্রিল – ২০২৬
ঢাকা টু ইউরোপের উন্নত জীবন আর মোটা অংকের বেতনের স্বপ্ন। এই স্বপ্নকে পুঁজি করেই দেশের ৬৪ জেলায় বিছানো হয়েছে এক ভয়াবহ প্রতারণার জাল। রাজধানীর ঢাকাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দিনের পর দিন এই রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে একটি সুসংগঠিত প্রতারক চক্র। সম্প্রতি ইনভেস্টিগেশন টিম অফ ক্রাইম সিন’-এর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে এই চক্রের মূল হোতা এবং তাদের সুনিপুণ প্রতারণার কৌশল। উঠে এসেছে শীর্ষ প্রতারক ও দালাল হিসেবে অভিযুক্ত সেতাউর রহমান ও তার সহযোগী রাসেলের নামসহ ঢাকার বুকে গড়ে ওঠা অসংখ্য দালাল প্রতারকসহ মানব পাচারকারীর চক্র! যারা আসলে এক ভয়ংকর জালিয়াত সিন্ডিকেটের অংশ নিয়ে দেশকে শেষ করে দেওয়ার পাঁতারা।
চক্রের স্বরূপ ও অভিনব কৌশল! এই চক্রটির মূল শক্তি হলো এদের সুপরিকল্পিত কাজের বণ্টন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। চক্রের মূল হোতারা ঢাকায় বিলাসবহুল অফিসে বসে নীল নকশা তৈরি করে। তারা বিভিন্ন নামিদামি, ভুঁইফোড় ট্রাভেল এজেন্সি বা রিক্রুটিং এজেন্সির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে জনসমক্ষে নিজেদের বৈধতা জাহির করে। মধ্যবিত্ত পরিবার বা উচ্চাভিলাষী তরুণদের টার্গেট করে, তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং গ্রামীণ দালালদের মাধ্যমে প্রচারণা চালায়। প্রতিনিয়ত এড দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়!তাদের প্রধান প্রলোভন— নামমাত্র মূল্যে ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের নামকরা দেশগুলোতে চাকরি,এবং অবিশ্বাস্য রকমের মোটা অংকের বেতন।গ্রামগঞ্জে দালাল নেটওয়ার্ক ও বিশ্বাস অর্জন যেকোনো মূল্যের বিনিময়ে করাতে হবে এই শীর্ষ প্রতারক ও মানব পাচারকারীদের টার্গেট।
রাজধানীতে বসে ৬৪ জেলায় প্রতারণার জাল চাঁপাইনবাবগঞ্জের ‘সেতাউর-রাসেল’ মানব পাচারের সিন্ডিকেট! কোটি টাকার ভিসা জালিয়াতি’ নিঃস্ব বহু পরিবার! চক্রটির প্রতারণার অন্যতম চাবিকাঠি হলো তাদের শক্তিশালী গ্রামভিত্তিক দালাল নেটওয়ার্ক বিস্তার। বিভিন্ন জেলাসহ বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ,খুলনা,এবং মাদারীপুরের মতো এলাকাগুলোতে তারা স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে সাধারণ ও নিরীহ মানুষদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে। এই স্থানীয় দালালরা তাদের বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে মানুষদের কাছে এই চক্রের পক্ষে সাফাই গায়। প্রথমদিকে বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রটি আসল পাসপোর্টের মতো দেখতে জাল পাসপোর্ট,এবং নিখুঁতভাবে তৈরি করা ‘ভুয়া ভিসা’ বা ‘ভুয়া ওয়ার্ক পারমিট’ প্রদান করে। যা খালি চোখে সাধারণ মানুষের বোঝার কোনমতেই ক্ষমতা নেই। হাতিয়ে নেওয়া কোটি কোটি টাকা ও পলায়ন! চক্রটির চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো নিরীহ মানুষদের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়া। ভিসা বা ওয়ার্ক পারমিটের অগ্রিম টাকা, মেডিকেল ফি, বা ইন্টারভিউয়ের নাম করে তারা দফায় দফায় মোটা অংকের টাকা আদায় করে। ইনভেস্টিগেশন তথ্যমতে, শুধুমাত্র একটি জেলাতেই তারা ২০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে! এবং সবমিলিয়ে এই সিন্ডিকেট ইতিমধ্যে প্রায় ৫০ -৭০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পলাতক রয়েছে বলে অসংখ্য নিঃস্ব হয়ে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন। আশঙ্কাজনক তথ্য হলো! এদের দালাল নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত যে- ধারণা করা হচ্ছে তারা কোটি কোটি টাকা এভাবে হাতিয়ে নিয়ে বহু পরিবারকে পথে বসিয়েছে।
জরুরী পদক্ষেপ বাংলাদেশ সরকারের সচেতনতা এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা। এই ভয়াবহ প্রতারণার বিষয়ে ঢাকার বুকে মানব পাচারকারী চক্র দালালদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন অসংখ্য ভুক্তভোগী পরিবার ও সচেতন মহলের নাগরিকগণ। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ আক্রান্ত জেলাগুলোর জনসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে-চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে সনাক্ত করা হয়েছে সেতাউর রহমান (পিতা: সেকান্দার আলী, ঠিকানা: পুরাতন প্রসাদপুর, রহনপুর, থানা: গোমস্তাপুর, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ) এবং রাসেলকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবিলম্বে এই চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যেন কোনোভাবেই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের চটকদার বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে আগাম টাকা না দেন। যে কোনো ভিসার জন্য সরাসরি সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি (BMET) বা সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসের অফিসিয়াল তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবং প্রতারকদের খপ্পরে না পড়া।
বিশ্লেষকদের পরামর্শ! আইনজীবী ও অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের প্রতারক চক্রের অবিলম্বে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। শুধুমাত্র আইনি পদক্ষেপই নয়, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এই ধরণের জালিয়াতি রোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পাসপোর্ট এবং ভিসা যাচাই করার জন্য সরকারি অনলাইন পোর্টালে সুবিধা রয়েছে, যা ব্যবহার করে যে কেউ সহজেই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেন। সঠিক যাচাই ছাড়া যে কোনো ধরণের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকা একান্ত জরুরি। বাংলাদেশ পরমাণু বিজ্ঞানী চৌধুরী কে এম জি ফজলুর রহমান বলেন! জনগণকে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে প্রবাসে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিমালা নির্দেশনা অনুযায়ী ফলো করে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকার বুকে অলিতে গলিতে অসংখ্য মানব পাচারকারী চক্র দালাল সিন্ডিকেটের কার্যক্রম এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে, তারা একটি মানব পাচারকারী শক্তিশালী নেটওয়ার্ক,। এসব দালাল প্রতারকদের, ঢাকার বুকে অলিতে গলিতে তাদের অফিস দ্রুত শনাক্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এনিয়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি দাবী জানান,। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব দালাল প্রতারকদের চক্রটি ভেঙে ফেলার জন্য সরকারের প্রতি জোড়ালো ভাবে দাবী জানান তিনি।
ইনভেস্টিগেশন টিম অফ ক্রাইম সিন সরেজমিন উদঘাটন নিয়ে প্রতিবেদকের মন্তব্য: রাজধানীর অলিগলিতে মানবপাচারকারী ও দালালদের সিন্ডিকেট: নিঃস্ব হচ্ছে অসংখ্য পরিবার,বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল! রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত জাল বিছিয়েছে এক শক্তিশালী মানবপাচারকারী ও দালাল চক্র। উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিদেশের পথে ঠেলে দিয়ে তাদের সর্বস্বান্ত করাই এই মাফিয়া সিন্ডিকেটের মূল লক্ষ্য। এই প্রতারণার কবলে পড়ে একদিকে যেমন হাজার হাজার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হচ্ছে, অন্যদিকে দেশে বেকারত্বের হারও! আশঙ্কা জনকভাবে বাড়ছে। দিনদিন ভয়াবহ চিত্র ও জিম্মিদশা’ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। লিবিয়া, তুরস্ক বা ইউরোপের পথে জিম্মি করে চলছে অমানবিক নির্যাতন। ভুক্তভোগীদের মারধর ও অনাহারে রেখে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মোটা অংকের মুক্তিপণ। এই সিন্ডিকেটের শিকড় শুধু দেশেই সীমাবদ্ধ নয়; বিদেশের মাটিতে বসে থাকা আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সাথে এদেশীয় দালালদের রয়েছে গভীর সংযোগ।
সরকারের প্রতি সাংবাদিক সমাজের বিশেষ দাবি: দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। কিন্তু সেই প্রবাসীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমান আইনি কাঠামো ও প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সচেতন মহল। অবিলম্বে ৬৪ জেলার প্রতিটি দালাল ও পাচারকারীর তালিকা তৈরি করে তাদের গ্রেপ্তার করা হোক এতে( ১)নম্বর মাফিয়াদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস: অনতিবিলম্বে রাজধানীসহ সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা পাচারকারীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে হবে। (২)বিশেষ অভিযান: ৬৪ জেলায় চিরুনি অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত মাফিয়া ও দালাল সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতে হবে। (৩) প্রবাসীদের সুরক্ষা: প্রবাসী এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারকে নতুন ও যুগোপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। (৪) দেশের বেকার যুবকদের এই মরণফাঁদ থেকে বাঁচাতে এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে এখনই সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। (৫) মুখোশধারী এই অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়াই এখন সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি। বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে পদক্ষেপ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে মানব পাচারকারী চক্রের মূলহোতা আরও দিনদিন বেপরোয়া হয়ে দেশের অর্থনৈতিক ভূমিকা ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ক্রাইম রিপোর্টার এসএম রুবেল। পর্ব -১।