
অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসপি গৌতম বিশ্বাসের সাঁড়াশি অভিযান চলমানে ২১ আড়তদার ও সেবনকারী কুপোকাত!
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-ইনভেস্টিগেশন টিম ক্রাইম সিন ইউনিট- চাঁপাইনবাবগঞ্জ মিডিয়া- সেল | গণমাধ্যম ৬ জুন, ২০২৬ খ্রি.
সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জে অপরাধ দমনে এক নতুন অধ্যায়ে এসপি গৌতম বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযানে ২১ জন আটক! মাদক ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে জেলা পুলিশ! সরাসরি মাঠ পর্যায়ে এখন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এসপি গৌতম বিশ্বাসের সাঁড়াশি অভিযানে এক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডের জড়িত সরেজমিনে মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয় এসব কারবারীদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাজুড়ে মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী এবং ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামিদের দমনে এক নজিরবিহীন সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এক নজীর বিহীন ঘটনায় আবারো প্রশংসায় ভাসছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবনিযুক্ত ও দূরদর্শী পুলিশ সুপার (এসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাসের সরাসরি কমান্ডে এবং সুনির্দিষ্ট রণকৌশলে শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা ৭.৩০ ঘটিকা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সদর মডেল থানা এলাকায় এই বিশেষ ব্লক রেইড ও চিরুনি অভিযান চালানো হয়। পুলিশের এই আকস্মিক ও ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক অভিযানে জেলা শহরের বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ স্পট থেকে নারীসহ সর্বমোট ২১ জন সক্রিয় অপরাধীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই মেগা অপারেশনের যৌথ নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব এস.এম ওয়াসিম ফিরোজ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবাবগঞ্জ সদর সার্কেল) মো. ইয়াসির আরাফাত। মাঠপর্যায়ে মূল আভিযানিক দলটির পরিচালনায় ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার চৌকস অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মো. একরামুল হোসাইন, পিপিএম এবং পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ আব্দুর রউফ তালুকদার। বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র পুলিশ ফোর্স, ডিবি এবং থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত টিমটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে একযোগে শহরের বিভিন্ন মাদক স্পট ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের আস্তানায় হানা দেয়। অভিযানের মূল সাফল্য ও তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট অ্যাকশন! সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ২ জন পেশাদার মাদক কারবারিকে নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত (মোবাইল কোর্ট) পরিচালনা করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ জন আসামিকে ২১ দিন এবং অপর ১ জনকে ৩০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে।
এনিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। গ্রেফতারকৃত ২১ জনের মধ্যে ৬ জন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ১০ জন নিয়মিত মাদকসেবী রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট সচল রেখেছিল। এছাড়া আদালতের আদেশ অমান্য করে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা সিআর (CR) সাজাপ্রাপ্ত ১ জন আসামি জিআর ও সিআর ওয়ারেন্টভুক্ত ৩ জনসহ অন্যান্য নিয়মিত মামলার ১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযান শেষে পুলিশি তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া অবৈধ মাদকের বড় একটি চালান জব্দ করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ৫ পিস ব্যয়নাসূচক ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০০ গ্রাম উচ্চমানের গাঁজা এবং ল্যাবরেটরিতে তৈরি তীব্র মাদক গুণসম্পন্ন ২০ লিটার দেশীয় চোলাই মদ। উদ্ধারকৃত এসব আলামত জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে থানা হেফাজতে সিলগালা করা হয়েছে। পুলিশের এই ঝটিকা অভিযানের ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় নাগরিকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন পিপিএম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতারকৃত ২১ জন আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা ও বিধি মোতাবেক নিয়মিত মামলা রুজু করার আইনি প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে। অপরাধীদের আদালতে সোপর্দ করার জন্য পুলিশি প্রহরায় বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। অভিযানের সমাপ্তি টেনে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে সম্পূর্ণভাবে মাদক, সন্ত্রাস এবং ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধী মুক্ত না করা পর্যন্ত পুলিশের এই আপোষহীন ও বিশেষ চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যে দলের বা যে পরিচয়েরই হোক না কেন, তাকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।” মাদকের রুটগুলো বন্ধ করতে জেলা পুলিশ শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতিতে কাজ করছে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জনমনে স্বস্তি! অপরাধের বিরুদ্ধে ‘ত্রাস’ ও সততার প্রতীক চাঁপাইনবাবগঞ্জের এসপি গৌতম কুমার বিশ্বাস! চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে সম্পূর্ণভাবে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এক歩 এগিয়ে মাঠপর্যায়ে সরাসরি নেতৃত্ব দিচ্ছেন নবাগত পুলিশ সুপার (এসপি) গৌতম কুমার বিশ্বাস। সাধারণত শীর্ষ কর্মকর্তাদের কেবল শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দপ্তরে বসে নির্দেশনা দিতে দেখা গেলেও, এসপি গৌতম বিশ্বাস সেই চিরাচরিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে নিজেই গভীর রাতে কিংবা ঝটিকা অভিযানে সশরীরে হাজির হচ্ছেন জনসম্মুখে। অপরাধী ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তাঁর ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপেই প্রতিফলিত হচ্ছে এক আপোষহীন ও বজ্রকঠিন মনোভাব। বিশেষ করে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে গেঁড়ে বসা মাদক কারবারি, সাধারণ মানুষের রক্তচোষা চাঁদাবাজ এবং পর্দার আড়ালের দুর্নীতিবাজদের ডেরায় হানা দিতে তিনি নিজেই এখন আভিযানিক দলের অগ্রভাগে থাকছেন। মাঠপর্যায়ে তাঁর এই সরজমিন উপস্থিতি এবং তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি অ্যাকশনের কারণে পুরো জেলাজুড়ে অপরাধীদের মাঝে যেমন তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, ঠিক তেমনি সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় মানুষের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভয় কেটে গিয়ে ফিরে এসেছে এক পরম স্বস্তি।
সততা, কর্মদক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার কারণে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আপামর জনতার প্রশংসায় ভাসছেন এই মানবিক ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা। সাধারণ নাগরিকরা বলছেন, এসপি গৌতম কুমার বিশ্বাসের এই সাহসী ভূমিকার কারণে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজারের ব্যবসায়ী, এমনকি প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষও এখন চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের জুলুম থেকে মুক্তি পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর সহজ সংযোগ এবং যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে তাঁর তাৎক্ষণিক ও নিরপেক্ষ অবস্থান জেলা পুলিশকে জনগণের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথের সাধারণ আড্ডায় এখন একটাই আলোচনা—এসপি গৌতম বিশ্বাসের মতো এমন সৎ ও নির্ভীক অফিসারের হাতেই সম্ভব একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত এবং দুর্নীতিহীন শান্তিময় নবাবগঞ্জ গড়ে তোলা। জনগণের এই অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁর এই চলমান শুদ্ধি অভিযান আগামীতে জেলাকে অপরাধমুক্ত করার ক্ষেত্রে এক অনন্য নজির স্থাপন করবে বলে মনে করছেন সুধীসমাজ।