
মরণ নেশা ইয়াবার ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে নির্যাতন! প্রান্তিক পাড়া রেল বস্তিতে নতুন আয়না ঘরের বিস্ফোরকে কাপছে শহর
বিশেষ অনুসন্ধান | এস এম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ক্রাইম সিন ইউনিট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মিডিয়া সেল ১ই অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার)
ইয়াবা ব্যবসায় রাজি না হওয়ায় ‘আয়না ঘরে’ নির্যাতনের অভিযোগ! ডিএনসির মামলার আসামি ‘বাবা পাতান’কে ঘিরে নতুন বিস্ফোরণ
বিদ্যুতের শক, লোহার রডের আঘাত—!প্রান্তিকপাড়ায় নৃশংস নির্যাতনের অভিযোগে তোলপাড় সদর এলাকা!
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘বাবা পাতান’কে ঘিরে চাঞ্চল্য—অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে নতুন মোড় চ্যালেঞ্জের মুখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী!
মরণ নেশার অন্ধকার সাম্রাজ্য? চিহ্নিত মাদক মামলার আসামির বিরুদ্ধে গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ কে এই প্রান্তিক পাড়ার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী (পাতান ওরফে বাবা পাতান)
চেয়ারে বেঁধে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করার অভিযোগ—কুখ্যাত ‘বাবা পাতান’কে ঘিরে নতুন তদন্তের দাবি হুমকির মুখে প্রান্তিক পাড়ার সাধারণ মানুষের আতঙ্কে বসবাস!
ইয়াবার অন্ধকার জগতের নতুন অভিযোগ—নির্যাতনের শিকার হাসপাতালে, তদন্তে প্রশাসন ও ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন ক্রাইম পেট্রোল মিডিয়া সেল!
প্রান্তিকপাড়ায় আতঙ্ক! ডিএনসির একাধিক মামলার আসামির বিরুদ্ধে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ চলছে রমরমা মাদকের ব্যবসা নতুন পুরাতন ১০০ অধিক কারবারিদের মাদক সাম্রাজ্য!
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিস্ফোরক অভিযোগ ডিএনসির মামলার আসামিকে ঘিরে ‘আয়না ঘর’ রহস্য মুখোশ উমোচন করল ক্রাইম সিন ইনভেস্টিগেশন টিম ক্রাইম পেট্রোল মিডিয়া সেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ গণমাধ্যম! সদর উপজেলার প্রান্তিকপাড়ায় এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে গোপন কক্ষে চেয়ারে বেঁধে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করাসহ! লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর এবং ডান হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আহত ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি! কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী পাতান ওরফে বাবা পাতানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহতের স্ত্রী মোসা. রজিনা বেগম।
ঘটনা কেন্দ্রিক অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ৩০ আগস্ট বিকেল প্রায় ৩টার দিকে অভিযুক্ত চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হাসান তারেক ওরফে (বাবা ‘পাতান’) মোবাইল ফোনে সুকৌশলে ডেকে আহত মুক্তার আলী ওরফে (কান্টু) ডেকে নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাওয়া মাত্রই জোরপূর্বক চোখ বেঁধে! উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। একটি গোপন কক্ষে চেয়ারে বেঁধে বিদ্যুতের শক দেওয়া হয় এবং লোহার রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের একপর্যায়ে মুক্তার আলীর ডান হাত ভেঙে যায়। ভুক্তভোগী বাঁচার আকুতি জানান! পরে সুযোগ বুঝে তিনি সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় পালিয়ে এসে পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরিবার নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অভিযুক্ত ব্যক্তির আতঙ্কে দিন পার করছেন ভুক্তভোগী (কান্টু মিয়া)
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে! অভিযুক্ত এর আগেও পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন এবং প্রতিবাদ করলে হত্যা করার হুমকি দেন। এ কারণে পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছেন এই মাদক ব্যবসায়ের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে ও অনুসন্ধানে ভুক্তভোগীর কল পাওয়া মাএই প্রতিবেদক ছুটে যান জেলা সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল! লিপটের ছয় তলা বিল্ডিংয়ের ইমারজেন্সি পুরুষ ওয়ার্ডেী চিকিৎসা নেওয়া ভুক্তভোগীর নিকট। অনুসন্ধানে আহত ব্যক্তির হাতে আঘাতের চিহ্ন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি দেখা যায়। তবে এসব তথ্য অভিযোগের অংশ হিসেবে তদন্তের বিষয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পূর্বের তথ্য অনুযায়ী! হাসান তারেক ওরফে (বাবা পাতান) গত ৭ জুন ২০২৬ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার প্রান্তিকপাড়া (রেলবস্তি) এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন। ডিএনসি জানায়, তিনি একাধিক মাদক মামলার আসামি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাকে হাতেনাতে খুচরা ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির অভিযোগ তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
অনুসন্ধানে জানতে! সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পুলিশ কর্মকর্তা ওসি বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে বলেন একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা তদন্তেই পরপরই নিশ্চিত হবে এবং এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
প্রান্তিকপাড়ার একাধিক বাসিন্দা জানান! এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিরোধ ও মাদক সংশ্লিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্য, জেলা শহরের মাদক স্পট ও মাদকের সর্গরাজ্য হিসেবে খ্যাত ও অপরিচিত এই (প্রান্তিক পাড়া রেল বস্তি) হুজরাপুর, জিয়ানগর, উস্কাঠি পাড়া, চণ্ডীতলা,ঢাকা বাস স্ট্যান্ড এলাকাটি! এখানে মাদক ব্যবসায়ী গড়াই ১০০র অধিক কারবারিরা বিভিন্ন মাদক খুচরাও পাইকারির সঙ্গে জড়িত! যদিও অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ও লহমর্ষক ঘটনা এখান থেকে মাদকের স্বর্গরাজ্য ও উৎপাত জন্ম নেন প্রতিদিনের নতুন নতুন মাদক ব্যবসায়ী। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়! এখানে ২৪ ঘন্টায় মাদকের সেল আদান প্রদান বিক্রি হয় প্রকাশ্যে মাদকের রমরমা নতুন পুরাতন জন্ম নেওয়া মাদক কারবারীদের মাদক সেলের মহাউৎসব। মাদক ব্যবসায়ীদের বেপরোয়া সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি সেখানকার সাধারণ বাসিন্দারা। স্থানীয়দের আতঙ্কে দিন পার করা ক্ষিপ্ত হওয়া চলাচলরত স্থানীয় সাধারণ মানুষের দাবি ও দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ অভিযান পরিচালনা করাসহ এদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি কামনা করেন এলাকার অশান্তি থাকা বসবাসরত সাধারণ মানুষ পথচারীরা।
অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি হাসান তারেক ওরফে (বাবা পাতানের) সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন! আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এসব বলা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং তিনি আরো উল্লেখ করেন এখানে আমি নতুন ব্যবসিক না আরো ১০০র অধিক মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে তাদেরকে ধরেন এবং তাদের বক্তব্য নেন! অনুসন্ধানীনিক সর্বশেষ পরিস্থিতি এই কারবারি জানান।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ, পূর্বের মাদক মামলার তথ্য এবং বর্তমান নির্যাতনের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে, আর স্থানীয়দের প্রত্যাশা—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোকসহ মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চিরুনির অভিযান চালিয়ে এদের দ্রুত গ্রেফতার করে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নাগরিকবৃন্দ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীর অভিযোগ, জেলা শহরের রেল বস্তি ও প্রান্তিকপাড়া এলাকাকে কেন্দ্র করে মাদক কারবার, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উৎপাত দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে চলেছে। তাদের দাবি এসব অপরাধচক্রের বিষয়ে প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযুক্তরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে জেলা শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী একেএম মান্নান আলী বলেন, শহরের কয়েকটি চিহ্নিত স্পটে কঠোর প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সরকারি জমির বস্তি ও অবৈধ কারবার উচ্ছেদ করা গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্যটিতে সহমত পোষণ করেন।
ক্রাইম সিনের অনুসন্ধানে প্রশাসনের কঠোর বার্তা! মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’, অপরাধীদের কোনো ছাড় নেই! এ বিষয়ে ক্রাইম সিন ইউনিটের অনুসন্ধানে জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে জেলা পুলিশ, ডিবি, সদর মডেল থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জেলা পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক চিহ্নিত মাদক কারবারির মুখোশ উন্মোচন, গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে যা অনেকটাই স্বাভাবিক ও দৃশ্যমান।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের গতিবিধির ওপর গোয়েন্দা নজরদারি আগের তুলনায় আরও কঠোর করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যেকোনো সময় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। জেলা পুলিশ, ডিবি ও সদর মডেল থানা পুলিশের একীভূত বার্তা—মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় নেই খবর পাওয়া মাত্রই অভিযান চলবে এবং আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আরও কঠোর যৌথ বাহিনীর সম্মিলিত নেতৃত্ব দিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পর্ব-১