
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার শ্রমিকবান্ধব প্রতিষ্ঠান জেওসি বিডি গার্মেন্টস কোম্পানি লিমিটেডে বর্তমানে প্রায় ৯০০-এর অধিক শ্রমিক কর্মরত আছেন। গত ১১ মার্চ কিছু বহিরাগত দুষ্কৃতকারী এবং নতুন শ্রমিকদের প্ররোচনায় কারখানায় একটি অনাকাঙ্ক্ষিত শ্রমিক আন্দোলনের ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, শ্রমিকদের দাবি ছিল ঈদ বোনাস ১২ মার্চের মধ্যে প্রদান করতে হবে। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষ পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঈদের ছুটির আগের দিন বোনাস প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে কিছু অসাধু ব্যক্তির প্ররোচনায় ওইদিন কারখানায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে কারখানার এইচআর, এডমিন ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপক মোঃ শাহরিয়ার সৌরভ শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। তিনি শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেন যে, ১৬ মার্চ ঈদ বোনাস ও ১০ দিনের অগ্রিম বেতন প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে ১১ মার্চ দিনটিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে শ্রমিকদের নিজ নিজ বাসায় চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
পরবর্তী দিন অর্থাৎ ১২ মার্চ থেকে কারখানার কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পুনরায় শুরু হয় এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম চলতে থাকে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠানটি মাত্র এক বছর পূর্ণ করেছে। বর্তমানে কর্মরত প্রায় ৯০০ শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনের চাকরির মেয়াদ এখনো এক বছর পূর্ণ হয়নি। বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী এক বছর পূর্ণ না হলে উৎসব বোনাস পাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে শ্রমিকবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে কারখানা কর্তৃপক্ষ চাকরির বয়স একদিন হলেও সকল শ্রমিককে ঈদ বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এছাড়া পূর্বে মার্চ মাসের ১০ দিনের অগ্রিম বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও শ্রমিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৬ মার্চ ১৫ দিনের অগ্রিম বেতন প্রদান করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অংশগ্রহণকারী কমিটির সহ-সভাপতি পাপিয়া সুলতানা রোনা বলেন, “শ্রমিকরা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বোনাস ও অগ্রিম বেতন পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।”
সেফটি কমিটির সহ-সভাপতি শাহনাজ বলেন, “আমাদের কোম্পানি সত্যিই শ্রমিকবান্ধব। আজ ১৫ দিনের অগ্রিম বেতন এবং সকল শ্রমিককে বোনাস দেওয়ার মাধ্যমে সেটি আবারও প্রমাণ হয়েছে।”
কারখানার এইচআর, এডমিন ও কমপ্লায়েন্স বিভাগের ব্যবস্থাপক মোঃ শাহরিয়ার সৌরভ বলেন, এই কারখানার মাধ্যমে ত্রিশাল উপজেলার প্রায় ৯০০-এর বেশি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে। কোনো কারণে যদি প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়, তবে এলাকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তিনি এলাকাবাসী ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান, সবাই যেন ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিষ্ঠানের পাশে দাঁড়ান। তিনি আরও বলেন, এটি চাইনিজ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত একটি বিদেশি বিনিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠান। কারখানাটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হলে ভবিষ্যতে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।