
স্টাফ রিপোর্টার:- শহিদুল ইসলাম
৭.৬২ বোরের গুলি নিয়ে কথা বলার পরপরই ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়— ঘটনাটা এখানেই শেষ হয়নি, বরং সেখান থেকেই শুরু হয়েছে অসংখ্য প্রশ্নের।
একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যখন নির্দিষ্ট ক্যালিবারের গুলির প্রসঙ্গ তোলেন, তখন সেটি নিছক মন্তব্য নয়— সেটি একটি ইঙ্গিত। আর সেই ইঙ্গিত যদি সত্যের দিকে যায়, তাহলে সেটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত ছিল।
৭.৬২ বোরের গুলি বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত হয়— সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীতে। এর বিভিন্ন সংস্করণ আছে— 7.62×39mm, 7.62×51mm, 7.62×54mmR— এবং এগুলো ভিন্ন ভিন্ন রাইফেলে ব্যবহৃত হয়। তাই কেবল “৭.৬২” বললেই দায় নির্ধারণ হয় না; প্রয়োজন ব্যালিস্টিক ম্যাচিং, ফরেনসিক রিপোর্ট, অস্ত্র শনাক্তকরণ এবং চেইন অব কাস্টডি বিশ্লেষণ।
প্রশ্ন হলো—
নিহতদের শরীর থেকে উদ্ধার হওয়া বুলেটের ফরেনসিক রিপোর্ট কি প্রকাশ হয়েছে?
খোসা ও বুলেটের ব্যালিস্টিক পরীক্ষা কি জনসমক্ষে এসেছে?
কোন ইউনিট কোথায় মোতায়েন ছিল— তার অফিসিয়াল ডকুমেন্ট কি প্রকাশ করা হয়েছে?
ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন কি নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ হয়েছে?
যদি বিদেশি সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকে— সেটি প্রমাণ বা খণ্ডন করা হলো না কেন?
রাষ্ট্র পরিচালনার একটি মৌলিক নীতি হলো— সংকটের পর স্বচ্ছতা। কারণ স্বচ্ছতা না থাকলে গুজব জন্ম নেয়, গুজব থেকে বিভক্তি তৈরি হয়, আর বিভক্তি থেকে রাষ্ট্র দুর্বল হয়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— নিহত ছাত্ররা।
তারা কোনো ভূরাজনৈতিক খেলায় অংশ নেয়নি। তারা নাগরিক। তাদের প্রাণহানির দায় কার— সেটা নির্ধারণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
চেইন অব কমান্ড কোথায় ছিল?
ফায়ার অর্ডার কে দিয়েছে?
অপারেশনাল ব্রিফিং কী ছিল?
ভিডিও ফুটেজ, সিসিটিভি, মোবাইল ডাটা— সব কি সংরক্ষিত আছে?
একটি জাতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সে নিজের কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারে।
পদ পরিবর্তন দিয়ে প্রশ্ন বন্ধ হয় না।
তদন্ত ছাড়া সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় না।
আর সত্য ছাড়া ন্যায়বিচার সম্ভব নয়।
দেশের মানুষ আবেগ নয়— প্রমাণ চায়।
অভিযোগ নয়— নথিভুক্ত সত্য চায়।
সাধারণ ছাত্রদের রক্তের সম্মান রাখতে হলে, পূর্ণাঙ্গ, স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত অপরিহার্য।