
প্রশাসনের নজরদারিতে ‘শীর্ষ সুদখোর’ রুনু’ থমকে থাকা অ্যাকশনে জনমনে ক্ষোভ! যৌনতা ও ত্রাসের অন্ধকার সাম্রাজ্যর প্রাসাদ
বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | পর্ব-১
তদন্তে: ইনভেস্টিগেশন টিম অফ ক্রাইম সিন’ (এসএম রুবেল ক্রাইম রিপোর্টার) চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
বালিয়াডাঙ্গার ‘আধুনিক ফেরাউন’ রুনু ’সুদের জালে বন্দি মানবতা’ নেপথ্যে যৌনতা’ সে এক অন্ধকার সাম্রাজ্য! যেখানে বিপদে পড়া মানুষের আর্তনাদই হলো পুঁজি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে তৎকালীন রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট আর সুদের টাকার পাহাড়ে বসে এক অঘোষিত ‘সুলতান’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মোস্তাফিজ উদ দৌলা রুনু ওরফে সুদখোর রুনু। যার বিলাসবহুল অট্টালিকার প্রতিটি ইটে মিশে আছে শত শত ভুক্তভোগীর রক্ত আর আত্মার চোখের জল। অনুসন্ধানী টিমের ক্যামেরায় উঠে এসেছে তার সুদের কারবার,ও মাদকের আসর এবং আড়ালে চলা যৌন লালসার এক বীভৎস চিত্র। এই ইউনিয়নে যেন এক মধ্যযুগীয় বর্বরতা চলছে। তৎকালীন রাজনৈতিক দাপট আর সুদের টাকার পাহাড় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছেন! সাধারণ মানুষকে ব্ল্যাকমেল, জিম্মি করে অর্থ আদায়, রাজকীয় বাড়িতে মাদক সেবনের ফুর্তি রাত গভীর হলেই নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের মতো ভয়াবহ সব অভিযোগ এখন এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইউনিয়নবাসীর মুখে মুখে। সরজমিনে গিয়ে জানতে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে তার অপরাধ সাম্রাজ্যের লোমহর্ষক সব তথ্য! সুদের কারবার সাধারণ মানুষকে তার ফাঁদে আঁটকে রাখার ভয়া দশা।
সুদখোর ‘রুনু’!বালিয়াডাঙ্গার ত্রাস মোস্তাফিজ উদ দ্দৌলার অন্ধকার সাম্রাজ্য! সাদা পোশাক আর পরিপাটি আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিষধর সত্তা। নাম তার মোস্তাফিজ উদ দ্দৌলা রুনু ওরফে ‘সুদখোর রুনু’। তৎকালীন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে রুনু গড়ে তুলেছেন এক অঘোষিত ‘নরকরাজ্য’। সেখানে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন নয়, বরং চলে রুনুর নিজস্ব শাসন। আর তার এই শাসনের প্রধান হাতিয়ার—সুদের বিষাক্ত ছোবল। সুদের জালে জিম্মি জনপদ ও হাজারো মানুষ! অনুসন্ধানে জানা গেছে, রুনুর মূল ব্যবসা হলো চড়া সুদে টাকা ধার দেওয়া। অভাবী মানুষকে ফাঁদে ফেলে তিনি ব্লাঙ্ক চেক (খালি চেক) এবং স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেন। এরপর শুরু হয় আসলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি সুদের জুলুম। রুনুর সুদের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন বহু সাধারণ মানুষ। যারা প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছেন, তাদের ওপর নেমে এসেছে অমানবিক নির্যাতন। শুধুমাত্র সুদের কারবারই নয়, রুনুর বিরুদ্ধে এলাকায় মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি বালিয়াডাঙ্গাকে মাদকের নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক যৌন হয়রানির অভিযোগ থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এতদিন কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি। মূলত ভয় আর ত্রাস সৃষ্টি করেই তিনি দীর্ঘকাল ধরে এই অপরাধ সাম্রাজ্য টিকিয়ে রেখেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাংশকে হাতের মুঠোয় রাখতেন রুনু। ফলে সাধারণ মানুষ অভিযোগ নিয়ে গেলেও কোনো বিচার পেত না। বরং অভিযোগকারীর ওপর উল্টো মামলা বা হামলার খড়গ নেমে আসত। এভাবেই সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে গত কয়েক যুগ ধরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই সুদখোর রুনু’ ফাঁকা স্ট্যাম্প আর ব্ল্যাকমেইলের কারখানা’রুনু’র আয়ের মূল উৎস হলো চরম বিপদে পড়া মানুষকে টাকা ধার দিয়ে তাদের কাছ থেকে সই করা ফাঁকা ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্প হাতিয়ে নেওয়া। পরবর্তী সময়ে ৫০ হাজার টাকাকে ৫ লক্ষ টাকা বানিয়ে মামলা ও প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে সেই টাকা আদায় করেন তিনি। তার রাজকীয় বাড়িতে স্তুপ করে রাখা হয়েছে শত শত সাধারণ মানুষের চেকবই ও স্ট্যাম্প। রুনুর লালসার হাত থেকে রেহাই পায়নি তার আপন শ্যালক হিটুও; যার ৫ বিঘা পুকুর জবরদস্তি লিখে নিয়ে তাকে ১৫ লক্ষ টাকা দিতে বাধ্য করেছেন এই পাষাণ।
রুনু’র’ বিলাসবহুল বাড়িতে অপরাধের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে ভুক্তভোগীরা একতম হয়ে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দাড়িয়ে! বিলাসবহুল অট্টালিকাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অপরাধের এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে। স্থানীয়দের কাছে যা কেবল একটি বিলাসবহুল বাড়ি, পর্দার আড়ালে তা আসলে যৌন ব্যবসা ও মাদক সেবনের এক নিরাপদ আখড়া। অপরাধের নেপথ্যে পারিবারিক শূন্যতা! অনুসন্ধানে জানা যায়, রুনু নামের ওই ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান দীর্ঘ ১২ বছর যাবত বাড়িছাড়া। পরিবারের অনুপস্থিতির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে রুনু তার আলিশান বাসভবনটিকে একটি অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে শক্তিশালী এক যৌন সিন্ডিকেট। সাধারণ নারীদের তার বাড়িতে আনাসহ ইমু ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করা এখন রুনুর প্রাত্যহিক নেশায় পরিণত হয়েছে। প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার ভুক্তভোগীরা ! এই চক্রের শিকার নার্গিস আক্তার নামে এক নারী জানান তার লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা। এনজিও থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে রুনু সুকৌশলে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর করা অলিখিত স্ট্যাম্প হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সেই স্ট্যাম্পের ভয় দেখিয়ে তাকে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করা হয়। নার্গিস আক্তারের ভাষ্যমতে! আমাকে জিম্মি করে ৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে এবং অনৈতিক কাজে বাধ্য করার জন্য ক্রমাগত মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গায় চেক জালিয়াতি ও ব্ল্যাকমেইল! ক্যাডার আরিফ ও সুদখোর রুনুর খপ্পরে নিঃস্ব হতে বসেছেন নাদিম! ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে সুদ ব্যবসায়ী রুনুর পালিত চিহ্নিত ক্যাডার আরিফ। এবার তার ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়েছেন ভাটো পাড়া গ্রামের মৃত শাজাহান আলির ছেলে নাদিম। হারিয়ে যাওয়া চেক পুঁজি করে ৩০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপচেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।ঘটনার সূত্রপাত’ হারিয়ে যাওয়া চেকই কাল হলো! ভুক্তভোগী নাদিম জানান, গত বছর তার একটি ব্ল্যাঙ্ক চেক বই স্বাক্ষরিত (সাদা চেক) হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে তিনি আইনগত পদক্ষেপ হিসেবে গত ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং: ৬৫৩) অন্তর্ভুক্ত করেন। নাদিমের দাবি, রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া সেই চেকটি কোনোভাবে বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের কুখ্যাত ক্যাডার আরিফের হাতে পৌঁছায়। আর শুরু হয়! জোরপূর্বক অর্থ দাবি ও ক্যাডার বাহিনীর তৎপরতা! হারিয়ে যাওয়া সেই চেকে নাদিমের অজান্তেই ৩০ লক্ষ টাকা বসিয়ে নেয় চিহ্নিত সুদ ব্যবসায়ী রুনু । এরপর থেকেই শুরু হয় ভয়ংকর ব্ল্যাকমেইল নাদিমের উপর, ভুক্তভোগী নাদিম জানান রুনুর ইন্ধনে আরিফ তার নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী ব্যবহার করে আমাকে প্রতিনিয়ত অবরুদ্ধ করে রাখছে এবং বড় অংকের এই টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। টাকা না দিলে বড় ধরনের বিপদের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ভুক্তভোগী নাদিম বলেন “আমি এখন নিজের বাড়িতেই বন্দি অবস্থায় আছি। আমার হারিয়ে যাওয়া চেক দিয়ে আমাকেই ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। আরিফ’ রুনু’ ও তার বাহিনীর ভয়ে আমি এবং আমার পরিবার এখন আতঙ্কিত ও শোচনীয় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি।” — ভুক্তভোগী নাদিমসহ তার পরিবারের আর্তনাদ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বাঁচতে চান তার পরিবার নিয়ে এই জুলুমের হাত থেকে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্যাডার আরিফের এমন বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে নাদিমের পরিবার এখন দিশেহারা। এলাকাবাসীর মতে, আরিফের এমন কর্মকাণ্ড নতুন কিছু নয়, তবে এবারের এই বড় অংকের জালিয়াতি নাদিমের পরিবারকে পথে বসিয়ে দেওয়ার উপক্রম করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই ন্যাক্কারজনক ব্ল্যাকমেইলের হাত থেকে বাঁচতে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
জিম্মি দশা ও চাঁদাবাজির কারখানা এখন বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন’ রুনুর অপরাধের তালিকা এখানেই শেষ নয়। খাইরুল আলিমসহ ব্যক্তিকে বাড়ির ছাদে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কেবল মারধরই নয়, মাত্র ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জোরপূর্বক ৫ লক্ষ টাকা আদায়ের একটি ভিডিও চিত্র এখন ক্রাইম টিমের হাতে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রুনু ও তার সহযোগীরা অত্যন্ত নৃশংসভাবে ওই ব্যক্তিকে নির্যাতন করছে। বর্তমানে এই বিলাসবহুল বাড়িটিকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ক্রাইম টিমের হাতে থাকা ভিডিও ফুটেজ এবং ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য এই সিন্ডিকেটের শেকড় উপড়ে ফেলতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই অপরাধীচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যৌনতা ও ত্রাসের অন্ধকার সাম্রাজ্য! এক নরপিশাচ ‘রুনু’র উপাখ্যান’ অভাবের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষের রক্ত চুষে খাওয়ার এক বিভীষিকাময় নাম— রুনু। তার সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে অন্যের চোখের জল আর আর্তনাদের ওপর। মানুষের অসহায়ত্বই রুনুর সবচেয়ে বড় মারণাস্ত্র। যখন কোনো সাধারণ মানুষ বিপদে পড়ে তার কাছে সাহায্যের আশায় যায়, তখনই সে পেতে রাখে তার বিষাক্ত ফাঁদ। সামান্য কিছু টাকা ধার দেওয়ার নাম করে সে কৌশলে হাতিয়ে নেয় স্বাক্ষরিত ফাঁকা ব্যাংক চেক এবং ব্ল্যাঙ্ক স্ট্যাম্প। আর এখান থেকেই শুরু হয় এক একটি পরিবারের ধ্বংসের গল্প। যেভাবে চলে শোষণের নীল নকশা!’রুনু’ কেবল একজন প্রতারকই নয়, সে একাধারে নারীলোভী ও চরম অর্থপিশাচ। তার শোষণের পদ্ধতিগুলো অত্যন্ত সুপরিকল্পিত’ চেক ও স্ট্যাম্প জালিয়াতি! ব্ল্যাঙ্ক চেকে নিজের ইচ্ছেমতো আকাশচুম্বী অঙ্ক বসিয়ে সে সাধারণ মানুষকে আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে কোটি কোটি টাকা দাবি করে। তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি নিজের আপন আত্মীয়-স্বজনও। রক্তের সম্পর্ককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সে দখল করেছে অসংখ্য মানুষের জমি, বাড়ি আর গাড়ি। যৌন লালসা আর ক্ষমতার দাপটে সে অনেক পরিবারকে সামাজিকভাবেও পঙ্গু করে দিয়েছে। বহু সচ্ছল পরিবার আজ তার কারণে পথে বসেছে, হয়ে পড়েছে নিঃস্ব। মানুষের অভাবকে যে পুঁজি করে, সে মানুষ নয়— সে সমাজের এক বিষফোড়া। রুনুর এই অন্ধকার সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে দেওয়ার সময় এসেছে। এই শীর্ষ প্রতারকের হাত থেকে সমাজ ও সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ। এই শোষকের ঠাঁই হোক কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে, যেন আর কোনো ‘রুনু’ মাথা চাড়া দিয়ে ওঠার সাহস না পায়।
সরেজমিনে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে বেরিয়ে আসে! তারই অশ্লীল ব্লাকমেইলের ভিডিওসহ নানান তথ্য ও প্রমাণ’ এসব অপরাধের রাজত্ব এলাকায় ত্রাস কায়েম করতে তার অন্যতম কৌশলগত, তৎকালীন, আওয়ামী লীগের বড় মাপের নেতা, পরিচয় দাপট খাতিয়ে, বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ ও সমাজ সেবক, দাবি করে, এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন ও ব্যানার পিস্টন তৈরি করে ছেয়ে দেই এই ইউনিয়নের প্রতিটি আনাচে-কানাচে! নিজেকে চেয়ারম্যান পরিচয় খাঁটিয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠে,তার কালো রূপের রাজত্ব। জুলুম চলতে থাকে নিরীহ মানুষের ওপর জিম্মি ও হামলা। রাজত্ব কায়েম করা অন্যতম এই শীর্ষ সুদ কারবারি রুনুর বেপরোয়া দাপট! এখনও প্রশাসনের নাকের ডগাই হরদমই চলছে অধরাই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে তার এই রমরমা সুদের ব্যবসা।
বিলাসবহুল প্রাসাদের চাকচিক্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক অন্ধকার জগতের লোমহর্ষক চিত্র উঠে এসেছে সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে। রুনু নামের এই ব্যক্তির অট্টালিকাটি আসলে কোনো সাধারণ বাসস্থান নয়, বরং গত দুই যুগ ধরে চলে আসা অপরাধের এক সুরক্ষিত ‘সেফ হাউস’। বাহির থেকে দেখলে মনে হয় আভিজাত্যের প্রতীক, কিন্তু ভেতরে চলে মধ্যযুগীয় বর্বরতা। দুই দশক ধরে পরিবারবিচ্ছিন্ন রুনু তার এই প্রাসাদকে পরিণত করেছেন অপরাধের অভয়ারণ্যে। অভাবী ও সাধারণ নারীদের কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এখানে নিয়ে আসা হতো,তারপর চলত পাশবিক নির্যাতন ও অনৈতিক কার্যকলাপ। রুনুর এই ‘নরক গুলজারে’ কেউ একবার পা দিলে বের হওয়া ছিল দুঃসাধ্য। রুনুর ধৃষ্টতা শুধু জীবিত মানুষের ওপর নির্যাতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্ষমতার দম্ভে তিনি নিজের আপন দাদার কবরের ওপর গড়ে তুলেছেন এই বিলাসবহুল প্রাসাদ। পূর্বপুরুষের প্রতি এমন চরম অবমাননা ও লালসার বহিঃপ্রকাশ দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ‘আধুনিক যুগের ফেরাউন’ বা ‘ফেরাউনের উত্তরসূরি’বলে আখ্যা দিয়েছেন।।স্থানীয়দের ভাষ্য “যে মানুষ মৃত পূর্বপুরুষের মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, তার কাছে জীবিত মানুষের নিরাপত্তা আশা করা যায় না। এই প্রাসাদ আসলে পাপের আস্তানা।”জনরোষ এখন তুঙ্গে। স্থানীয়দের দাবি, অতি দ্রুত এই ‘পাপের প্রাসাদ’ গুঁড়িয়ে দিয়ে রুনুকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
রুনুর ‘হিট স্কোয়াড’ ও মাস্টারমাইন্ডরা! এলাকাবাসীর দাবি, রুনুর এই অপরাধ সাম্রাজ্য পাহারা দেয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এই চক্রের অন্যতম হোতা চার’ নাম্বার ওয়ার্ডের শাহালাল, রুনুকে সুদের টাকা আদায় ও রুনুর বাড়িতে যুবতী নারীদের এনে সাপ্লাই দেই!বাগানপাড়ার শীর্ষ সুদখোর রাজীব ওরফে সুদ রাজিব’এবং সহযোগী শাহালালসহ অনেকেই। এই ত্রয়ী বাহিনীই মূলত রুনুর হয়ে মাঠ পর্যায়ে মানুষকে হুমকি ও জিম্মি করে রাখে অন্যতম ক্যাডার হচ্ছে আরিফ। প্রতিবাদীদের আর্তনাদ ও বিশিষ্ট মহলের বক্তব্য,বালিয়াডাঙ্গার বিশিষ্ট রাজনীতিবীদ চৌধুরী আল মামুন অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে বলেন! রুনুর মতো কলঙ্কিত ব্যক্তিদের কারণে সমাজ আজ বিষাক্ত। অবিলম্বে তার রাজপ্রাসাদে তল্লাশি চালিয়ে মানুষের জিম্মি রাখা চেক ও স্ট্যাম্প উদ্ধার করতে হবে। আমরা এই জুলুমবাজের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।” এলাকাবাসীর দাবি! রুনু এমনকি তার দাদার কবরের ওপর নিজের আলিশান বাড়ি তৈরি করেছেন। জেটি সমাজকে তোয়াক্কা না করে! এই ইউনিয়নবাসী বলেন এখন এই ‘কালো মুখোশধারী’র হাত থেকে আমরা মুক্তি চায়।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে! জানতে চাইলে অভিযুক্ত মোস্তাফিজ উদ দ্দৌলা ‘রুনু’ তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনীত এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি এই ইউনিয়নের একজন সম্মানীয় ব্যক্তি এবং সমাজসেবক’ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী! একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে আমার মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ করতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে! তবে ভিডিও কলে কর্মীদের সঙ্গে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একপর্যায়ে বির্তকিত মন্তব্য করেন। বিষয়টিকে তিনি ‘মানত পূর্ণ’ করা ও কবি-রাজের নির্দেশে নিজের ‘ব্যক্তিগত অভ্যাস’ হিসেবে দাবি করে এক প্রকার স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। যা এলাকায় এনিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
প্রশাসনের নজরদারিতে ‘শীর্ষ সুদখোর’ রুনু’ থমকে থাকা অ্যাকশনে জনমনে ক্ষোভ! আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কৌশল নাকি অন্য কিছু? প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নলেজে ‘নাম্বার ওয়ান’ হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকলেও, কুখ্যাত এই সুদ কারবারির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্ন। গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের এই নীরবতায় জনমনে যখন জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন। সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন “রুনুর অপরাধের দীর্ঘ আমলনামা শুনা গেছে আমারা তদন্তের মাধ্যমে তার! প্রতিটি অপকর্ম গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছেন। তবে শত শত পরিবারকে দেউলিয়া করা এই ব্যক্তিকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। খুব শীঘ্রই তাকে আইনের মুখোমুখি করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা আমাদের কর্তব্য।
প্রতিবেদকের ডায়েরি! ভয়ংকর সেই সত্যের মুখোমুখি! সরজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, রুনুর দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে ভয় পায়। কিন্তু ক্রাইম সিন টিমের কাছে আসা ইমু ভিডিও ক্লিপ এবং অডিও রেকর্ডগুলো প্রমাণ করে, এই ব্যক্তি সমাজের জন্য কতটা বিপজ্জনক। একজন মানুষ কীভাবে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে একটি পুরো ইউনিয়নকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা বানাতে পারে, তা বর্তমান সময়ের এক বড় বিস্ময়। রুনুর এই অপরাধ সাম্রাজ্যের পতন এখন সময়ের দাবি।
ভুক্তভোগীদের চোখের পানি আর রুনুর বিলাসী জীবনের বৈষম্য আমাদের স্তম্ভিত করেছে। ক্ষমতার দাপটে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একজন ব্যক্তি কীভাবে বছরের পর বছর একটি পুরো ইউনিয়নকে জিম্মি করে রাখে, তা এক বড় প্রশ্ন। আজ সময় এসেছে এই অপরাধী সাম্রাজ্যের ভিত উপড়ে ফেলার,সাধারণ মানুষ এখন রুনুর গ্রেফতার আর তার সুদের কারাগার থেকে মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।