1. live@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা : রাজু হোসেন
  2. info@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা :
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চিরনিদ্রায় শায়িত শাহানাজ বেগম: ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে ভাগিনা রাশেদ খানের দোয়া প্রার্থনা পীরগঞ্জ খেঁকিডাঙ্গায় এখনো পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো, দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার অবৈধ ব্যবসায়ীদের প্রতি ডিসি,ইউএনও এসপি’র কড়া হুঁশিয়ারি! জেলাজুড়ে বাড়ানো হলো গোয়েন্দা নজরদারি! চলছে সাড়াশি অভিযান পাবনার সাঁথিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত।  শীলখালীতে প্রাইভেটকারে ইয়াবা পাচার: ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১ রাউজান বিনাজুরী জামুয়াইনে শ্রীশ্রী মাধবানন্দ নারায়ণ আশ্রমের বার্ষিক মহোৎসব ১৪–১৬ মে পূবাইলের কামারগাঁও থেকে অমিতা রানী দাস নিখোঁজ চকরিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে এএসআই রূপন কান্তি দে’র মৃত্যু, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পুলিশের ভাতিজার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা মাদকের ছোবলে বিপর্যস্ত সমাজ: চকরিয়ায় অভিযানে পুলিশ নিহত, প্রশ্নে জননিরাপত্তা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে উল্টো রথ: অবৈধ লাইসেন্সহীন অটোচালকের দাপট আর সুবিধাভোগীর ‘পকেট’ দর্শন, দিশেহারা ভুক্তভোগী কোথায় যাবেন মাহফুজা খাতুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬০ বার পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জে উল্টো রথ: অবৈধ লাইসেন্সহীন অটোচালকের দাপট আর সুবিধাভোগীর ‘পকেট’ দর্শন, দিশেহারা ভুক্তভোগী কোথায় যাবেন মাহফুজা খাতুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা : স্বাদ আহমেদ

লাইসেন্সহীন চালকের হাতে দুর্ঘটনা,ওসির হাতে হয়রানি’ আইনের রক্ষক যখন ভক্ষক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনার বিচার পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নারী উদ্যোক্তা ‘দেশের সড়ক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার ও লাইসেন্সবিহীন চালকদের দৌরাত্ম্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু যখন খোদ পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপরাধীকে সহায়তা এবং ভুক্তভোগীকে হয়রানির অভিযোগ ওঠে, তখন সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা থাকে না। এমনই এক নজিরবিহীন অবিচারের শিকার হয়েছেন মোসাঃ মাহফুজা খাতুন নামের এক নারী, যার ব্যক্তিগত গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে দিয়ে উল্টো পুলিশের অনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন তিনি।

ঘটনার সূত্রপাত: যেভাবে ঘটল সেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। গত ৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার আমনুরা রাবেয়া জুট মিলের সামনে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মাহফুজা খাতুন তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারে (ঢাকা মেট্রো-গ-২১-৬৯৪৪) পোরশা যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিপরীত দিক থেকে আসা নেজামপুরগামী দুটি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে আসছিল। ৫ জন যাত্রী ধারণক্ষমতার প্রতিটি অটোতে ১৫ জন করে মোট ৩০ জন যাত্রী বোঝাই ছিল। বেপরোয়া গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটো দুটি সজোরে প্রাইভেটকারটিকে ধাক্কা দেয়। এতে কারটির সামনের অংশ পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়।

ঘটনার সূত্র নিয়ে জানা গেছে, অটো চালকদের কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না এবং মহাসড়কে এই ধরণের অবৈধ যানবাহন চলাচলের কোনো অনুমতিও নেই। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানান জল্পনা ও কল্পনা দেখা দিয়েছে’ অপরাধীকে মুক্তি, ভুক্তভোগীকে হয়রানি? দুর্ঘটনার পর আমনুরা পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আরিফ ক্ষতিগ্রস্ত প্রাইভেটকার এবং দুটি অটো আটক করে স্থানীয় একটি ফিলিং স্টেশনে রাখেন। এনিয়ে  অভিযোগ উঠেছে, বিবাদমান বিষয়টি নতুন মোড় মীমাংসার কথা বলে এসআই আরিফ এবং সদর থানার ওসি ৩ দিন পর রহস্যজনক ভাবে ‘অবৈধ অটো দুটি ছেড়ে দেন।

ভুক্তভোগী যখন নিজের গাড়ি ছাড়ানোর অনুরোধ করেন, তখন এসআই আরিফের উদ্ধত জবাব ছিল— “গাড়ি কেন ছেড়েছি সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার, আমি কোনো কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই।” এমনকি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা (এডিসনাল এসপি ও এসপি) ওসিকে গাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও অজানা কারণে ওসি সেই নির্দেশ অমান্য করে টালবাহানা শুরু করেন। থানার ‘বৈঠক’ নাকি চাঁদাবাজির আসর রূপকথা!

পরবর্তীতে এসপি অফিসের হস্তক্ষেপে থানায় বসা এক সালিশে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। সেখানে উল্টো অপরাধী (অটো চালক) পক্ষকে প্রশ্রয় দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা দাবি করা হয়। অথচ অটোরিকশার বেপরোয়া গতি এবং ওভারলোডিংয়ের কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। ভুক্তভোগী মানবিক কারণে সামান্য কিছু সহায়তা করতে চাইলেও, পুলিশ ও অপরাধী চক্র মোটা অঙ্কের টাকার দাবিতে অনড় থাকে।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য ও অভিযোগে তিনি দাবি জানান ‘আদালতেও মেলেনি বিচার: বিচারকের ভূমিকা নিয়ে আমার প্রশ্ন বিচারক তদন্ত ছাড়া এটি আমলে নেওয়ার কথা নয় আমি মনে করি।  তবে তিনি আরও বলেন, থানা ও পুলিশ থেকে নিরাশ হয়ে মাহফুজা খাতুন আদালতের দ্বারস্থ হন। কিন্তু সেখানেও বাধার সম্মুখীন হতে হয়। তিনি আরও দাবি করেন, মামলার আবেদন করার পর বিচারক খোদ পুলিশের পক্ষে অবস্থান নেন এবং কেন সরকারি কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে তা নিয়ে আইনজীবীর ওপর উষ্মা প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে ওসির নাম বাদ দিয়ে মামলা দিতে চাইলেও আদালত তা গ্রহণ না করে বরং আহতদের টাকা দিয়ে আপোষ করার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য ঘটনার সূত্রে জানা গেছে ‘ দুই অটোতে থাকা ‘ যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন আহত হলে মারাত্মকভাবে গুরুতর আহত হন সাত বছর এক শিশুর পা ভেঙে গুড়িয়া যাই পরবর্তীতে তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে রেফার করা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।  ঘটনার সূত্রে পুলিশ জানাই, দুই অটোতে থাকা যাত্রীগণ বিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন, এমন সময় বেপরোয়া গাড়ি চালাচ্ছেন প্রাইভেট কারের ড্রাইভার, আতঙ্কে অটোচালকরা ডান দিকে চাপ দিলে সরাসরি সংঘর্ষ হয় প্রাইভেট কার অটোর। এতে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বেশি দারিয়েছে, অটোতে থাকা যাত্রীদের। তবে প্রাইভেট কারের মালিক মীমাংসা করতে নারাজ।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন: আইনের শাসন কোথায়? এই ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জনমনে উঠে এসেছে: ১.মহাসড়কে লাইসেন্সবিহীন ও রোড পারমিটহীন অবৈধ অটোরিকশা কীভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে? ২.একজন মোটরসাইকেল চালকের হেলমেট না থাকলে যদি মামলা হয়, তবে ৩০ জন যাত্রী নিয়ে চলা অবৈধ অটো রিকশার চালকদের কেন ছেড়ে দেওয়া হলো ৩.পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ কেন থানা পর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে না? অন্য দিকে ভুক্তভোগীর আকুতি’ বর্তমানে ভুক্তভোগী নারী ডিআইজি অফিসে অভিযোগ জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সব নিয়ম মেনে গাড়ি চালাচ্ছিলাম। অথচ আজ আমাদের গাড়িটি অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে, আর অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করছি।”এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সড়কে সুশাসন ফিরিয়ে আনা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। ও ভুক্তভোগীসহ সুশীল সমাজ নাগরিকগণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট