পাবনা শহরের আলোচিত কৃষক হোসেন আলী (ঠাকুর) হত্যা মামলার আরও এক এজাহারভুক্ত পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১২। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই এজাহারভুক্ত একাধিক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (১৩ জুন) র্যাব-১২, সিপিসি-২ পাবনার পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, র্যাব-১২ সিরাজগঞ্জের অধিনায়কের নির্দেশনায় শুক্রবার (১২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ওয়াহিদুজ্জামান (এস), বিএন-এর নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে পাবনা সদর থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামি সাইদুল ইসলাম (৩৫)কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সাইদুল ইসলাম পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ (পুরাতনপাড়া) গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার চেষ্টা করলেও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব।
জানা যায়, গত ৮ জুন সন্ধ্যায় পাবনা সদর উপজেলার লস্করপুর এলাকার মাছুমবাজারস্থ জামেয়া আশরাফিয়া মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন কৃষক হোসেন আলী (ঠাকুর)। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ছেলের সামনেই তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়, এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং হত্যাকাণ্ডটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আফসানা খাতুন বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃত সাইদুল ইসলামকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং মামলার সকল আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।