
খামেনি পরবর্তী ইরান — এক যুগের অবসান অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
ডেক্স রিপোর্ট: বিশেষ প্রতিনিধ: গতকাল ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬। এক রক্তক্ষয়ী ও নাটকীয় সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল পটপরিবর্তন ঘটে গেল। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় তেহরানের নিজ বাসভবনে নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। দীর্ঘ ৩৬ বছর ইরানের একক ক্ষমতার অধিকারী থাকার পর তার এই আকস্মিক প্রস্থান পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
অপারেশনের বিবরণ! সেই অভিশপ্ত রাত সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে তেহরানের উচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত এলাকা লক্ষ্য করে অতর্কিত বিমান হামলা চালানো হয়। মার্কিন ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিখুঁত সমন্বয়ে এই অপারেশন পরিচালিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। হামলার ধরন! অত্যাধুনিক স্টিলথ ফাইটার জেট এবং বাঙ্কার-বাস্টার মিসাইল ব্যবহার করে খামেনির সুরক্ষিত প্রাসাদে আঘাত হানা হয়। ফলাফল! হামলায় সর্বোচ্চ নেতাসহ তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সামরিক উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা প্রহরী নিহত হয়েছেন।
যৌথ বিবৃতি! ইসরায়েল ও পেন্টাগন থেকে জানানো হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রুখতেই এই “প্রিসিশন স্ট্রাইক” চালানো হয়েছে। ৩৬ বছরের একচ্ছত্র আধিপত্য-১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন আলী খামেনি। তার দীর্ঘ শাসনকাল ছিল বৈচিত্র্যময় ও বিতর্কে ঘেরা! আঞ্চলিক প্রভাব! লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইয়েমেনের হুথি এবং গাজার হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তার মাধ্যমে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের এক শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছিলেন। পশ্চিমা বিরোধিতা! “আমেরিকা নিপাত যাক” স্লোগানকে তিনি রাষ্ট্রীয় নীতিতে পরিণত করেছিলেন এবং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পশ্চিমাদের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করেছেন।
অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন! বিভিন্ন সময় ইরানি জনগণের আন্দোলন, বিশেষ করে নারী ও মানবাধিকার কর্মীদের প্রতিবাদ কঠোর হাতে দমন করার জন্য তার প্রশাসন সমালোচিত হয়েছে। দেশজুড়ে শোক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তেহরানসহ ইরানের প্রধান। শহরগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে! অন্যদিকে, দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
জরুরি অবস্থা! ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। রাজপথে আইআরজিসি (IRGC)-এর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।উত্তরাধিকার সংকট! খামেনির মৃত্যুতে ইরানের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ এখন নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের চাপে রয়েছে। তার ছেলে মোজতবা খামেনি নাকি অন্য কোনো ধর্মীয় নেতা উত্তরসূরি হবেন, তা নিয়ে চলছে তীব্র জল্পনা। জনগণের প্রতিক্রিয়া! একদল শোক পালন করলেও, দেশটির একটি বিশাল অংশ—যারা গত কয়েক বছর ধরে পরিবর্তনের আশায় আন্দোলন করছিল—তারা এই ঘটনাকে গণতন্ত্রের নতুন সুযোগ হিসেবে দেখছে।
বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া” ইরানি জনগণের স্বাধীনতার পথে এটি একটি বড় ধাপ ‘আরব বিশ্ব অধিকাংশ দেশ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে! ভবিষ্যৎ কী? আলী খামেনির মৃত্যু মানে কেবল একজন ব্যক্তির প্রস্থান নয়, বরং একটি আদর্শিক কাঠামোর বড় ধরণের ধাক্কা। ইরান কি এখন কোনো গৃহযুদ্ধের দিকে যাবে, নাকি সামরিক বাহিনী (IRGC) সরাসরি ক্ষমতা দখল করবে? কিংবা ইরান কি পশ্চিমাদের সাথে সমঝোতার নতুন পথ খুঁজবে? আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তেহরানের আকাশ এখন ভারি হয়ে আছে ধোঁয়া আর অনিশ্চয়তার চাদরে।
ইন্টারনেটে ব্ল্যাকআউট করে রাখা হয়েছে যাতে গণআন্দোলন ছড়িয়ে না পড়ে। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একে “ন্যায়বিচারের জয়” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, এটি ইরানি জনগণের স্বাধীনতার সুযোগ। অন্যদিকে রাশিয়া ও পাকিস্তান এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
ভবিষ্যৎ কী? খামেনি যুগের অবসান’ তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযান ও ইরানের অনিশ্চিত গন্তব্য! আলী খামেনির মৃত্যু মানে কেবল একজন ব্যক্তির প্রস্থান নয়, বরং একটি আদর্শিক কাঠামোর বড় ধরণের ধাক্কা। ইরান কি এখন গৃহযুদ্ধের দিকে যাবে, নাকি সামরিক বাহিনী (IRGC) সরাসরি ক্ষমতা দখল করবে? কিংবা ইরান কি পশ্চিমাদের সাথে সমঝোতার নতুন পথ খুঁজবে? তেহরানের আকাশ এখন ধোঁয়া আর অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা, যা পুরো পৃথিবীর নিরাপত্তার জন্য এক বড় প্রশ্নচিহ্ন।