
এস এম রুবেল,অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, ইনভেস্টিগেশন টিম ক্রাইম সিন ইউনিট! মিডিয়া সেল চাঁপাইনবাবগঞ্জ গণমাধ্যম |৬ আগস্ট -২০২৬
রাজধানী থেকে জেলা প্রশাসন—উচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে বাঁচল যুবকের জীবন, অবসান হলো ৫ দিনের হাহাকার! চেনা-জানা কেউ না থাকলে কি মিলবে না চিকিৎসা?—স্ক্রু-ড্রাইভার সংকটের আড়ালে এক নির্মম সত্যের গল্প-যে স্ক্রু-ড্রাইভারের জন্য আটকে গিয়েছিল অপারেশন! সেই যন্ত্রই এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ হাসপাতালের টার্নিং পয়েন্ট! মন্ত্রণালয় থেকে ডিসি-সিভিল সার্জন! এক বিশেষ ফোনকলে বদলে গেল হাসপাতালের অবহেলিত চিত্রজাদুকরী স্ক্রু-ড্রাইভারের গল্প আশাহীন যুবকের নতুন জীবন ফিরে পাওয়ার নেপথ্য নাটকীয়তা!
সম্প্রতি গত ৫ দিন ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পড়েছিলেন রাসা নামে এক যুবক। রড অপসারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি সার্জিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট—স্ক্রু-ড্রাইভার হাসপাতালে না থাকা এবং নষ্ট থাকায় অপারেশন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। চিকিৎসকের দেওয়া সেই নির্দিষ্ট স্ক্রু-ড্রাইভারটির জন্য রাজশাহী থেকে ঢাকা পর্যন্ত সম্ভাব্য সব জায়গায় যোগাযোগ করেও তা কোথাও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা এই যুবক বলেন আমি উন্নত চিকিৎসা নিতে হয়রানির শিকারসহ পরিবার নিয়ে ক্লান্ত হওয়াসহ ভেঙে পড়েছিলাম।
এই হাসপাতালে সংকটময় পরিস্থিতিতে আমি চরম মানসিক চাপ ও হয়রানির শিকার হই! কারণ এই বিশেষ যন্ত্রটি ছাড়া আমার অপারেশন কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না! অথচ একই চিকিৎসকরা বাইরে বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়মিত অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ভুক্তভোগী সফল চিকিৎসা হতে পরিত্রাণ পেতে চিঠির মাধ্যমে আবেদন পাঠানো হয়। যুবকের এই চিঠি ও পরিস্থিতি দেখে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা। দুর্দান্ত গতিতে উন্নত চিকিৎসা করতে ২৫০ শয্যা সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরএমওকে দ্রুত চিকিৎসা করার নির্দেশনা দেন।
চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী বলেন অবশেষে আল্লাহর অশেষ রহমতে আমার এই সংকটের কথা জানতে পেরে পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রীর একান্ত সচিব (যুগ্মসচিব) এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার! সহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবু ছালেহ মুসা জঙ্গী এবং নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) অনুজ চন্দ। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে আমার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: জমির মো. হাসিবুস সাত্তার ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: মাহবুব হাসানের নির্দেশ সুপারিশ প্রদান করেন। এছাড়াও সর্বোচ্চ সুস্থতা চিকিৎসার জন্য! পুরো প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে আমাকে শুরু থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন পুরো হাসপাতালের ডাক্তার কমিটি টিম।
চিকিৎসাধীন যুবক রাসা আরও বলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা: এ,কে,এম,শাহাব উদ্দীন! উচ্চপদস্থ এই গুণী ব্যক্তিবর্গের জোরালো সুপারিশ ও নির্দেশনার ফলে অবশেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এবং তাঁদেরই অর্থায়নে কাঙ্ক্ষিত স্ক্রু-ড্রাইভারটি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে। আজ ২৫০ শয্যা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জ তত্ত্বাবধায়ক ডা: জমির মো: হাসিবুস সাত্তার নিজ হাতে সেই জাদুকরী স্ক্রু-ড্রাইভারটি আমার হাতে তুলে দেন। সংকট উত্তরণে সহযোগিতাকারী সকল ডাক্তার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সফল অপারেশনে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ওঠা এই যুবকসহ তার পরিবারের লোকজন।
সফল চিকিৎসা পেয়ে এই যুবক অত্যন্ত আনন্দময়ে সর্বোপরি মহান আল্লাহর পাকের দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। যুবক আরও বলেন জেলা ও সদরের সাধারণ জনগণের প্রতি দোয়ার দরখাস্ত জানিয়ে আমার জন্য সুস্থ জীবন ফিরে পেয়েছি সকলেই দোয়া করবেন, যেন সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন করে সুস্থ হয়ে দ্রুত আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পারি পরিবারের নিয়ে স্বচ্ছ জীবনযাপন করতে পাওয়ার প্রত্যাশা কামনা করেন।
স্মৃতির পাতায় সূচনা হয়ে থাকবে! এই সেই জাদুকরী স্ক্রু-ড্রাইভার আমার এই বিশেষ অভিজ্ঞতা থেকে একটি গভীর প্রত্যাশা ও বিনীত অনুরোধ থেকেই যায়! আমার এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিরতরে এই স্ক্রু-ড্রাইভারটি যুক্ত হলো এবং আমার দীর্ঘমেউদি পেরেশানি দূর হয়ে সফল চিকিৎসায় আমি নতুন ভবিষ্যৎ ফিরে পেলাম! ভবিষ্যতে যেন আর কোনো সাধারণ অর্থোপেডিক রোগী প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে হয়রানির শিকার না হন। আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা সকল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সম্মানিত সচিব এর মাধ্যমে তার অনুপ্রেরণা ও মানবিকতায় বিশেষ উপায়ে চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু সাধারণ ও অসহায় মানুষ—যাঁদের চেনা বা জানার কেউ নেই—তাঁদের কথা চিন্তা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবসময় মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ করবেন এবং সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করবেন—এটাই আমার একান্ত প্রত্যাশা।
তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং সিভিল সার্জনের সময়োপযোগী ও আন্তরিক হস্তক্ষেপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকট সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। ডক্টরস কমিটি এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসা সরঞ্জামের একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী রিজার্ভ স্টক বজায় রাখার জোরালো প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে। পাশাপাশি, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো রোগী যাতে আর কখনো সরঞ্জামের অভাবে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে হাসপাতালের প্রতিটি চিকিৎসক ও স্টাফকে আরও অধিক দায়িত্বশীল এবং মানবিক হওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও সাধারণ রোগীদের অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিতকরণের রূপরেখা! চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবার মান আরও যুগোপযোগী ও জনবান্ধব করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতালগুলোর মূল লক্ষ্য হলো প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী ও সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। তাই ডাক্তার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কেবল রুটিন দায়িত্ব পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, রোগীদের যেকোনো জরুরি সংকটকালে সর্বোচ্চ মানবিকতা ও আন্তরিকতা নিয়ে পাশে দাঁড়াতে হবে।
হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসা সরঞ্জামের নিয়মিত লজিস্টিক অডিট, অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের পর্যাপ্ত প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মনস্তাত্ত্বিক মানসিকতার পরিবর্তন ঘটিয়ে সরকারি হাসপাতালের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। পরিশেষে, কোনো রোগী যেন চেনা-জানার পরিধি বা তদবিরের মুখাপেক্ষী হয়ে চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, বরং মেধার ভিত্তিতে এবং সেবার মানসিকতা নিয়ে সবাই সমান চিকিৎসাসেবা পান—এটাই আজ সমগ্র দেশবাসীর সর্বাগ্রে প্রত্যাশা।