1. live@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা : রাজু হোসেন
  2. info@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনে শিক্ষা মন্ত্রী ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী : ১ মাস পিছিয়ে প্রাইম মিনিস্টার ফুটবল ৩য় প্রীতি ফুটবল ম্যাচে দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয় ২-০ গোলে জিতেছে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা মূলক মতবিনিময় সভা: শিক্ষার্থীদের সড়ক আইন জানা জরুরী দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয় ও মাহামুদুন্নবী চৌধুরী উঃ বিদ্যালয়ের প্রীতি ম্যাচ আজ হোমিও প্রভা অফিসিয়াল ডেক্সের সম্পাদকের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ- রসালো আড্ডায় একদিন… ইপিজেড এলাকায় চসিকের জোরালো উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত…! দক্ষিণ হালিশহর উচ্চ বিদ্যালয় ফুটবল দলের প্রাকটিস জার্সি উন্মোচন ও বুট-মোজা বিতরণ পটিয়ায় হয়রত জামাল উদ্দিন শাহ্ (রা:) বার্ষিক ওরশ সম্পন্ন  চসিকের উদ্যোগে ইপিজেডের‌ বেশ কয়েকটি স্থানে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রস্তুতি ম্যাচে মাইজ পাড়া মাহামুদুন্নবী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় জিতেছে

অভাবকে হারিয়ে মেডিকেলে মাহমুদা, এখন পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান

বিশেষ প্রতিনিধি:- মাসুদ রানা
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬
  • ৫৩ বার পড়া হয়েছে

চায়ের দোকানির মেয়ের সাদা অ্যাপ্রনের স্বপ্ন

রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের ছোট্ট একটি মাটির ঘর। সেই ঘরেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা মাহমুদা খাতুনের। চারদিকে অভাব-অনটন, সংসারে নেই কোনো আর্থিক স্বচ্ছলতা, নেই জমিজমা কিংবা সচ্ছল জীবনের নিশ্চয়তা। কিন্তু ছিল একটি স্বপ্ন—সাদা অ্যাপ্রন গায়ে জড়িয়ে একদিন ডাক্তার হবেন, মানুষের সেবা করবেন।

সেই স্বপ্নের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছেন মাহমুদা। চা বিক্রেতা বাবার সীমাহীন কষ্ট আর নিজের অদম্য মেধা ও পরিশ্রমের জোরে তিনি এবার জামালপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার পর নতুন করে সামনে এসেছে অর্থসংকটের কঠিন বাস্তবতা।

মাহমুদার বাড়ি রাজশাহীর তানোর উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে। বাবা মাসুদ রানা গ্রামের ছোট্ট একটি চায়ের দোকান চালান। মা সায়েরা বিবি গৃহিণী। দুই মেয়ের সংসারে মাহমুদা বড়। ছোট বোন মিম খাতুন ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে।

শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন মাহমুদা। ২০২৩ সালে কৃষ্ণপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ এবং ২০২৫ সালে কৃষ্ণপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসিতেও গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

মাহমুদার বাবা মাসুদ রানা বলেন আমরা লেখাপড়া জানি না। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই মেয়েটার পড়াশোনার প্রতি অসম্ভব আগ্রহ ছিল। অনেক সময় নিজেরা না খেয়ে থেকেছি, তবুও মেয়েকে স্কুলে পাঠিয়েছি। প্রাইভেট পড়ানোর সামর্থ্যও ছিল না। তারপরও সে নিজের চেষ্টায় এতদূর এসেছে।

কথা বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। জানান প্রতিদিন চা বিক্রি করে তাঁর আয় হয় মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। কোনো দিন আবার মানুষের জমিতে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেন। এই অল্প আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মেয়ের মেডিকেল শিক্ষার ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

তিনি বলেন মেডিকেলে ভর্তি হতে ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকাও ধার করে জোগাড় করেছি। এখন বই কিনতে প্রায় ২০ হাজার টাকা লাগবে। কলেজ থেকে একটি স্কেলিটন (কঙ্কাল মডেল) কিনতে বলা হয়েছে, যার দাম প্রায় ৪০ হাজার টাকা। এত টাকা কোথায় পাবো বুঝতে পারছি না।

শুধু বই বা শিক্ষাসামগ্রী নয়, প্রতি মাসে হোস্টেল খাওয়া দাওয়া খাতা-কলমসহ অন্যান্য খরচ মিলে আরও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকার প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।

মাহমুদার মা সায়েরা বিবি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন আমাদের কোনো সম্পত্তি নেই। মাত্র দুই শতক জমির ওপর মাটির ও বেড়ার ঘরে থাকি। মেয়েটা ছোটবেলা থেকেই খুব ধর্মভীরু। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। আল্লাহর কাছে দোয়া করে যেন বড় ডাক্তার হয়ে গরিব মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসা করতে পারে।

তিনি বলেন, আমার মেয়েটা মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে যদি তার স্বপ্ন ভেঙে যায়, তাহলে সেটি শুধু আমাদের পরিবারের নয়, সমাজেরও ক্ষতি হবে। আমি সরকারের পাশাপাশি দেশের বিত্তবান মানুষের কাছে অনুরোধ জানাই আপনারা আমার মেয়ের পাশে দাঁড়ান।

বর্তমানে জামালপুর মেডিকেল কলেজের প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে হোস্টেলে উঠেছেন মাহমুদা। কিন্তু নিজের প্রয়োজনীয় বইপত্র এখনও সংগ্রহ করতে পারেননি।

মাহমুদা বলেন  অনেক বই এখনও কিনতে পারিনি। অন্যের বই দেখে পড়তে হচ্ছে। কলেজ থেকে স্কেলিটন কিনতে বলা হয়েছে  কিন্তু বাবার পক্ষে সেটি কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আমি শুধু চাই, আমার পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়ে যায়।

প্রতিবেশী হেলাল উদ্দিন  যিনি মুন্ডুমালা পৌরসভায় চাকরি করেন, বলেন  মাহমুদাকে ছোটবেলা থেকেই দেখছি। অনেক সময় অন্যের বই ধার করে পড়াশোনা করেছে। অভাবের মধ্যেও সে কখনও হাল ছাড়েনি। গ্রামের একজন চা বিক্রেতার মেয়ে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়েছে এটি পুরো এলাকার গর্ব। সমাজের বিত্তবানদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো।

তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, “মাহমুদা খাতুনের মেডিকেলে ভর্তির বিষয়টি আগে জানতাম না। এমন একটি পরিবার থেকে মেডিকেলে ভর্তি হওয়া শুধু তার পরিবারের নয়, পুরো তানোর উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়।

তিনি আরও বলেন তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পেলে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলে কিছু আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব। তবে শুধু সরকারি সহায়তা নয় এমন মেধাবী ও সংগ্রামী শিক্ষার্থীদের পাশে সমাজের বিত্তবান মানুষদেরও এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

অভাবের দেয়াল ভেঙে মাহমুদা আজ মেডিকেল কলেজের শ্রেণিকক্ষে পৌঁছেছেন। কিন্তু স্বপ্নপূরণের পথ এখনও দীর্ঘ। সেই পথের সবচেয়ে বড় বাধা অর্থসংকট। তবুও তাঁর চোখে এখনও জ্বলছে এক অদম্য আলোর শিখা একদিন ডাক্তার হয়ে গ্রামের অসহায় মানুষের সেবা করবেন।মাহমুদার বাবা মাসুদ রানার মোবাইল নং ০১৭৯৬-৮৮১৪৪৯।

এখন প্রশ্ন একটাই মাহমুদার মতো মেধাবী একটি মেয়ের স্বপ্ন কি শুধু অর্থের অভাবে থেমে যাবে  নাকি সমাজের সহমর্মিতা ও মানবিকতা তাকে পৌঁছে দেবে সাদা অ্যাপ্রনের সেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট