
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দিন-রাত এক করে, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মাঠপর্যায়ে ছুটে চলেন সত্যের সন্ধানে, যার ক্ষুরধার লেখনী আর আপসহীন পেশাদারিত্ব ময়মনসিংহের গণমাধ্যম অঙ্গনে তৈরি করেছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত সাংবাদিক তাসলিমা রত্না। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, সততা আর সাহসিকতার ওপর ভর করে নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে তিনি আজ একজন দক্ষ, চৌকস ও গণমানুষের ভরসার সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু এই সততা আর জনপ্রিয়তাই যেন এখন এক শ্রেণির সমাজবিরোধী, দুর্নীতিবাজ ও সাইবার অপরাধী চক্রের গাত্রদাহের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাংবাদিক তাসলিমা রত্নার এই পেশাগত সাফল্য ও আকাশচুম্বী সামাজিক গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং তাঁর নৈতিক মনোবল ভেঙে দিতে মাঠে নেমেছে একটি সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র। সরাসরি তাঁর সাহসিকতার মুখোমুখি হওয়ার যোগ্যতা না থাকায়, কাপুরুষের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে (ফেসবুক) ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে তারা। একাধিক ভুয়া (ফেক) আইডি ও পেজ খুলে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও চরম মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে প্রতিনিয়ত অপপ্রচার ও নোংরা সাইবার বুলিং চালানো হচ্ছে।
ময়মনসিংহের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি কেবল একজন নারী সাংবাদিকের ব্যক্তিগত সম্মানহানি বা চরিত্রহননের চেষ্টা নয়। এটি আসলে স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার একটি সুগভীর ও পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। যখনই কোনো সাহসী সাংবাদিক সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরেন, তখনই স্বার্থান্বেষী মহল তাদের অপরাধ ঢাকতে এবং সাংবাদিকদের সমাজচ্যুত করতে এই ধরনের সস্তা ও জঘন্য পথ বেছে নেয়। এই অপতৎপরতা পুরো সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশকে চরমভাবে বিঘ্নিত করছে।
এদিকে তাসলিমা রত্নার মতো একজন প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে এমন অনলাইন হয়রানির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাংবাদিক মহল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ধিক্কার জানিয়েছেন।
ক্ষুব্ধ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দগণ বলেন, কলমের লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে যারা স্যোশাল মিডিয়ায় ফেক আইডির পেছনে লুকিয়ে কুৎসা রটায়, তারা মূলত কাপুরুষ এবং সমাজের ক্যান্সার। আজ যদি একজন প্রথম সারির সাংবাদিককে এভাবে ডিজিটাল সন্ত্রাসের শিকার হতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? এই অপরাধীদের এখনই শক্ত হাতে দমন করতে হবে।
বিভিন্ন মহল থেকে ইতিমধ্যেই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম ইউনিটের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে, যেন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হয়। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে, আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে এই ভুয়া আইডিগুলোর পেছনে থাকা মূল হোতা, অর্থায়নকারী ও কুশীলবদের দ্রুত শনাক্ত করার দাবি উঠেছে। তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও প্রচলিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অপরাধীদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করার জোর দাবি জানানো হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনো পেশাদার সাংবাদিকের সম্মান নিয়ে এভাবে খেলার দুঃসাহস না দেখায়।
অপপ্রচারকারীদের উদ্দেশ্যে সচেতন মহল পরিষ্কার বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, মিথ্যার কুয়াশা দিয়ে কখনো সত্যের সূর্যকে ঢেকে রাখা যায় না। তাসলিমা রত্নার কলম অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে যেভাবে গর্জে উঠেছিল, তা ভবিষ্যতেও সচল থাকবে। সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং সত্য প্রকাশের পথকে সুগম রাখতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এই অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তাসলিমা রত্না, আপনি সত্য ও ন্যায়ের পথে যে অবিচল যাত্রা শুরু করেছেন, তা অব্যাহত রাখুন। পুরো ময়মনসিংহবাসী ও দেশের সুস্থ ধারার সাংবাদিক সমাজ আপনার পাশে পাহাড়ের মতো দৃঢ় চিত্তে দাঁড়িয়ে আছে। অপরাধীদের পরাজয় নিশ্চিত ও আসন্ন।