
এম. আনোয়ার হোসেন:
রাজধানীর শ্যামপুর থানা শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। থানা শিক্ষা অফিসার শাপলা খানমের বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, বই বিতরণের বরাদ্দে নয়-ছয় এবং প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত কার্যক্রম ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার স্বেচ্ছাচারিতায় শ্যামপুরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চলছে চরম বিশৃঙ্খলা ও অনিয়ম।
অভিযোগের নথি সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন, ২০২৬ জেলা শিক্ষা অফিস থেকে শ্যামপুরের দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত আর্থিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা শিক্ষা অফিসার সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলেও, শ্যামপুর থানা শিক্ষা অফিসার শাপলা খানম রহস্যজনক কারণে সেই তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে রেখেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় অংকের অর্থের বিনিময়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এই কর্মকর্তা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী জানা যায়, স্টার্ট-আপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম-এ স্থানীয় মাননীয় সংসদ সদস্যকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিক্ষা অফিসার শাপলা নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিকে প্রধান অতিথি হিসেবে নির্বাচন করেছেন। মূলত বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের সুযোগ তৈরি করতেই তিনি এই অসাংবিধানিক ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এভাবে ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তিন ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা থাকলেও, জেলা শিক্ষা অফিসার রহস্যজনকভাবে শুধুমাত্র একজনের বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। চিঠিতে তিনজনের অভিযোগপত্র সংযুক্ত থাকা সত্ত্বেও তার এমন খণ্ডিত ও পক্ষপাতমূলক আচরণ শাপলা খানমের যোগসাজশ থাকার বিষয়টিকেই স্পষ্ট করছে।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবি, শুধু তদন্তেই নয়, বছরের পর বছর বিনামূল্যে বই বিতরণের জন্য সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতেরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শ্যামপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির দায়ে অতিষ্ঠ শিক্ষক-কর্মচারী ও অভিভাবক মহল। সরকারি অর্থ তছরুপ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক। একইসঙ্গে ঘটনার সত্যতা নিরূপণ করে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় শ্যামপুরের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও গভীরে অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে।
এ বিষয়ে শ্যামপুর থানা শিক্ষা অফিসার শাপলা খানমের সাথে যোগাযোগের করা হলে তিনি বলেন, আমি সরকারি নিয়মনীতি মেনেই দায়িত্ব পালন করছি।
প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় দোলাইরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত কার্যক্রম বিলম্ব হচ্ছে । এছাড়া, কোনো সরকারি নির্দেশনা অমান্য করার প্রশ্নই আসে না।
এ বিষয়ে ঢাকা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, শিক্ষা খাতের অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। আমার নির্বাচনী এলাকায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করা বা বই বিতরণের টাকা নয়-ছয় করার মতো ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেব। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের দায়িত্ব, এখানে কারো ব্যক্তিগত এজেন্ডা বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই।