চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে রাতের অন্ধকারে সরকারি পুকুর কেটে অবৈধভাবে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে গভীর রাতে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনের আলোতে কাজ করার সময় প্রশাসন অভিযান দিয়ে মাটি কাটার এক্সাভেটর মেশিনের ব্যাটারি খুলে নিয়ে যায়। তবে এরপর থেকেই শুরু হয়েছে রাতের অন্ধকারে মাটি খনন। তবে বারবার এমন অবৈধ মাটি খনন হলেও স্থানীয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা যায়, ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়নের আদমপুর এলাকায় একটি সরকারি পুকুর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ ভূমিদস্যু চক্র। এসব মাটি যাচ্ছে পাশের ইটভাটাগুলোতে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়ক। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই চলছে অবৈধভাবে মাটি খনন ও বিক্রির কাজ। অনুসন্ধানে জানা যায়, ভোলাহাট উপজেলার জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইস্রাফিলের নেতৃত্বে চলছে মাটি খনন ও বিক্রির মহাযজ্ঞ। এছাড়াও প্রত্যক্ষভাবে জড়িত রয়েছে স্থানীয় ভূমিদস্যু আলেক, ইউসুফসহ প্রভাবশালী মহল।
জানা যায়, আদমপুর এলাকার প্রায় ৫ একরের একটি সরকারি জলাশয়কে গত কয়েকদিন ধরে খনন শুরু করে ভূমিদস্যুরা। এনিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের বাধার মুখে দিনের বেলায় কাজ বন্ধ করে তারা। গত ৩ দিন থেকে রাতের অন্ধকারে শুরু হয়েছে মাটি খনন ও ভাটায় পরিবহনের কাজ। রাতের অন্ধকারে লাখ লাখ টাকার মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছে প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্রটি।
স্থানীয় বাসিন্দা মেসবাউল আহমেদ, সিফাত আলীসহ অন্যান্যরা জানান, কয়েকদিন দিনের বেলায় মাটি কেটে ইটভাটায় পরিবহন করলেও স্থানীয়রা বাধা দিলে এখন রাতের অন্ধকারে কাজ শুরু করেছে। সরকারি পুকুরের মাটি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকার বানিজ্য করছে ইস্রাফিল মেম্বার ও আলেকের ভূমিদস্যু চক্র। অথচ এতে ভোগান্তি ও হয়রানিতে পড়েছেন এলাকার হাজারো বাসিন্দা।
তারা আরও বলেন, মাটি পরিবহনের কারনে রাতভর ঘুমাতে পারেন না স্থানীয়রা। পাশাপাশি কাঁচা মাটি পড়ে নষ্ট হচ্ছে পিচ ঢালা রাস্তা। এনিয়ে প্রশাসনকে বারবার অভিযোগ দিলেও কোন সুরাহা হয়না। সকালে এসে ব্যাটারি খুলে নিয়ে গেলেও বিকেল বেলা ভোলাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অফিস থেকে খননকারীদের ব্যাটারি আবার বুঝিয়ে দেওয়া হয় । স্থানীয় প্রশাসন ও এসিল্যান্ড অফিসকে ম্যানেজ করেই এমন অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. ইস্রাফিল মুঠোফোনে মাটি খনন ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসময় তিনি সরাসরি কথা বলতে চান এবং প্রতিবেদককে চা খাওয়ার দাওয়াত দেন।
জামবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফাজ উদ্দিন পানু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনে তিনি অভিযোগ শোনার পর এনিয়ে পরে কথা বলব বলে ফোন কেটে দেন। এবিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি।