
বিয়ের ফাঁদে প্রবাসীদের লক্ষ লক্ষ টাকা লোপাট’লেডি ডন’ দীপ্তি রানী মহন্ত’র অভিনব প্রতারণার চুম্বক!
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক ইনভেস্টিগেশন টিম’ অফ ক্রাইম সিন’ রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তারিখ ৫/৩/২০২৬।
বগুড়ার খোকন ইসলাম (প্রামানিক ),স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রবাস থেকে ফিরে সুখে শান্তিতে ঘর বাঁধবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। ইমুতে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের অভিনয়, এরপর হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলিম হওয়ার ভান করে বিয়ের নাটক— সবকিছুর আড়ালে ছিল এক ভয়াবহ প্রতারণার ছক। চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে ব্র্যাক এনজিওর মাঠকর্মী পরিচয়ে এক নারী, যাকে এলাকাবাসী এখন ‘লেডি ডন’ হিসেবেই চেনে, তার হাতে প্রতারিত হয়ে এখন নিঃস্ব খোকনসহ দেশ বিদেশে থাকা আরও অনেক যুবক।
প্রেমের ফাঁদ ও বিয়ের নাটক! টাকায় আত্মসাৎ ছিল তার নাটকের সংলাপ, ভুক্তভোগী খোকন ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘ ৫ বছর প্রবাসে ছিলেন। প্রবাসে থাকাকালীন ইমুতে ওই নারীর সাথে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে প্রেম এবং বিয়ের প্রস্তাব। খোকনকে একরকম জোরপূর্বক দেশে ফিরিয়ে আনেন ওই নারী। বিয়ের প্রধান শর্ত ছিল নারীটি তার হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবেন। শর্ত মেনেই বিয়ের সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্যপট।
প্রতারণার ভয়ংকর ছক! ব্রাক এনজিও কর্মী দীপ্তি রানী মহন্ত’র আসল মুখোশ’ লেডি ডন দীপ্তি রানীর।
বিয়ের পর খোকনের বাড়ি দুর্গাহাটা গাবতলী এলাকার’ বগুড়া জেলার গাবতলী দুর্গাহাটা গ্রামের’ ভোলা (প্রামাণিক) এর ছেলে প্রবাসী খোকন হোসেন (প্রামাণিক) বগুড়ায় অবস্থানকালে ওই নারী নিজেকে মুসলিম হিসেবে জাহির করলেও, সময় গড়ানোর সাথে সাথে তার আদি রূপ প্রকাশ পেতে থাকে। বাড়িতে শাঁখা-সিঁদুর পরা শুরু করা থেকে শুরু করে পরপুরুষের সাথে রাতভর ফোনে কথোপকথন— অশান্তির সূত্রপাত এখান থেকেই। খোকনের অভিযোগ, সে কৌশলে আমার তিল তিল করে জমানো প্রায় ১২ লক্ষ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিয়েছে। সবশেষে ওই নারী খোকনকে ছেড়ে চলে যান এবং দাবি করেন, তিনি আর মুসলিম হয়ে থাকতে চান না। তিনি পুনরায় হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন। অথচ তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন তথ্য। এর আগে তার আরও দুটি বিয়ে হয়েছিল এবং একটি ১০ বছরের সন্তানও রয়েছে— যা তিনি খোকনের কাছে গোপন করেছিলেন।
এনজিও চাকরির আড়ালে সিন্ডিকেট দীপ্তি রানীর প্রতারণার ফাঁদে বহু যুবক ঢুকেছে তার এই মাকড়সার জলে আটকানো, টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মহা কৌশল। অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই নারী বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ব্র্যাক এনজিও শাখায় কর্মরত। এর আগে তিনি নওগাঁর মান্দা শাখায় কাজ করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তার এই প্রতারণা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। প্রবাসীদের টার্গেট করে কুমারী পরিচয়ে প্রেমের ফাঁদ পাতা এবং ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতানোই এই চক্রের মূল লক্ষ্য। খোকনের আগে আরও ৪ জন তার প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই ধরনের সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে বিশিষ্ট সমাজচিন্তক ও বুদ্ধিজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ধর্মকে পুঁজি করে এবং বিয়ের মতো পবিত্র সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে যারা অর্থ লোপাট করছে, তারা সমাজের বড় শত্রু। একদল নারী পেশাদারভাবে এই ধরনের প্রতারণাকে জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে। আইনি কঠোরতা না থাকায় এবং সামাজিক মর্যাদার ভয়ে ভুক্তভোগীরা মুখ না খোলায় এরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি, অন্যথায় তরুণ সমাজ ও প্রবাসীদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।”
অভিযুক্ত নারী দীপ্তি রাণী’ বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া পৌর. এরিয়ার দুপচাঁচিয়া (পূর্বপাড়া) গ্রামের ফটিক চন্দ্র মহন্তর মেয়ে দীপ্তি রানী মহন্ত যার জাতীয় পরিচয়পত্র নং: 1023307853502 জন্ম তারিখ: ১২/১১/১৯৮৩ ইং জেলা বগুড়া থানা দুপচাঁচিয়া। তার সকল জড়িত ঘটনার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অনুসন্ধানী প্রতিবেদক এস এম রুবেল অভিযুক্ত নারীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে রাজি হননি। উল্টো সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি প্রদান করেন। রাজশাহী বিভাগীয় ব্র্যাক এনজিও এরিয়া ম্যানেজারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের সংস্থায় নিয়োগের বিষয়টি ঠিক আছে, তবে তার ব্যক্তিগত অপরাধের দায় সংস্থা নেবে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।
সরজমিনে সকল তথ্য উপাত্ত করে প্রতিবেদক মন্তব্য করেন, প্রবাসীরা আমাদের দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তারা বিদেশের মাটিতে ঘাম ঝরিয়ে টাকা আয় করেন। কিন্তু দেশে ফিরে এসে যদি এভাবে প্রতারিত হতে হয়, তবে তা দেশের জন্য অশনিসংকেত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন এসব ‘লেডি ডন’ এবং প্রতারণা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নীরব, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এখনই এই চক্রকে গ্রেপ্তার করা না হলে ভুক্তভোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। আমরা আশা করি, এই প্রতিবেদনের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসবে এবং খোকন ইসলামের মতো সাধারণ প্রবাসীরা তাদের কষ্টের অর্জিত সম্পদ ফিরে পাবেন।