
সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিনিধি :এম এ হাই
গতকাল সোমবার পাবনা জেলার সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ইউনিয়নের করমজা গ্রামে বিএনপির সন্ত্রাসীদের দ্বারা স্থানীয় কয়েকটি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর এবং মারপিটের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ৫ /৭ জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, করমজা গ্রামের তনি প্রামাণিকের ছেলে জামায়াত নেতা ফারুক হোসেন সিয়াম (৪৫), নাজমুল(৩০), আব্দুল লতিফ শেখের ছেলে মনিরুল (৩৫), করমজা ইউনিয়ন যুব জামাতের সহ-সভাপতি জুয়েল হোসেন(৩০), সিএন্ডবি বাজারে ঔষধ ব্যবসায়ী জামায়াত নেতা মনসুর আলম (৪৫) প্রমুখ। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থী ছিলেন ভিপি শামসুর রহমান এর গ্রামের বাড়ি করমজা । নির্বাচনের আগে একদল সন্ত্রাসী করমজা গ্রামের কিছু জামায়াত নেতৃবৃন্দকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন না করার জন্য ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করার কারণে বিএনপি’র একদল সন্ত্রাসী হঠাৎ করেই এলাকার কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়িঘরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বাসিন্দাদের ভয়ভীতি দেখায়। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন । আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়ার পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় মনিরুল কে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে এবং ঔষধ ব্যবসায়ী মনসুর আলমকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য করমজা গ্রামের তনি প্রামাণিকের ছেলে ফারুক হোসেন সিয়াম জানান, আমি ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করি আমার কর্ম শেষ করে বেড়া কলেজ রোডে এসে পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী আমার পথ রুদ্ধ করে। একজন আমাকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে এলোপাতাড়ি মারপিট করে এবং বলতে থাকে শালাক জামায়াত করাবো। জামায়াতে ইসলাম করা এবং ভোট কেন্দ্রের দায়িত্ব পালন করার জেরে হঠাৎ করেই একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ ঘটনার পর বিএনপি’র সন্ত্রাসীরা করমজা ইউনিয়ন জামায়াত অফিসও ভাঙচুর করে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানিয়েছে, লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের সহিংস ঘটনা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে। তারা দ্রুত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।