
মিলন বৈদ্য শুভ, চট্টগ্রাম (প্রতিনিধি):
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ বুড়িশ্চর ধোপপোলস্থ শ্রীশ্রী মগধেশ্বরী সেবাখোলা মন্দিরের উৎসব উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে মন্দির প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি রজতজয়ন্তী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী অষ্টপ্রহরব্যাপী মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৩, ১৪ ও ১৫ মার্চ (শুক্র, শনি ও রবিবার) নানা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই মহোৎসব পালিত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনায় মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে মহোৎসবের উদ্বোধন করা হয়। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন চট্টগ্রাম আনোয়ারার বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্রী প্রণব রঞ্জন চক্রবর্তী। এছাড়াও মঙ্গলারতি, মাঙ্গলিক শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে ধ্বজা উত্তোলন, কীর্তন সহকারে নগর পরিক্রমা ও মঙ্গল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল গীতা প্রতিযোগিতা, নৃত্যানুষ্ঠান, ধর্মীয় ভক্তিমূলক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মহতী ধর্মীয় আলোচনা সভা, ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রজতজয়ন্তী মহামিলন মেলা, পুরস্কার বিতরণ, সম্মাননা স্মারক প্রদান, গঙ্গা আহ্বান, শুভ অধিবাস, শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞের শুভারম্ভ, মায়ের পূজা, বাল্যভোগ ও শীতল ভোগ নিবেদন, ভোগরাতে কীর্তন, অন্নপ্রসাদ আস্বাদন এবং অনাদির আদি গোবিন্দ শ্রীকৃষ্ণের কৃষ্ণলীলা প্রদর্শনী।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মন্দির পরিষদের সভাপতি নির্মল বিশ্বাস। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ইটু সেন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন লিজা সেন ও সুইটি দেবনাথ। শুভ অধিবাসে পৌরহিত্য করেন রুবেল চক্রবর্তী।
রজতজয়ন্তী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লায়ন সুব্রত সেন (টিংকু)। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন শ্রীমৎ বৈকুণ্ঠ বিহারী দেবনাথ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শিমুল বিশ্বাস।
এসময় শুভ মাঙ্গলিক মন্ত্র উচ্চারণ করেন শ্রীমৎ প্রণব রঞ্জন চক্রবর্তী। মান্যবর উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী। শুভাশীর্বাদ প্রদান করেন ইঞ্জিনিয়ার অজয় শংকর পারিয়াল (শংকর)। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক রিমন মুহুরী ও অঞ্জন দে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ বুড়িশ্চর শ্রীশ্রী মগধেশ্বরী সেবাখোলা মন্দিরের কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নূপুর নাগ, অর্থ সম্পাদক রূপন দে এবং উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রণব রঞ্জন চক্রবর্তী, অর্থ সম্পাদক পলাশ সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলু চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক উজ্জ্বল চক্রবর্তী, সেবায়েত ভূপাল সেন, সেবিকা মিঠু বণিকসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
তিনদিনব্যাপী এই মহতী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজারো নারী-পুরুষ ভক্তবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এতে দক্ষিণ বুড়িশ্চরে এক উৎসবমুখর মহামিলন মেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।