
৯ হাজার টাকার কাছে মানবিকতার পরাজয়! ঈদের আনন্দ নয়, আব্দুল হাকিমের পরিবারকে গ্রাস করেছে গভীর হাহাকার
রিপোর্ট: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঢাকা, ২০ মার্চ বৃহস্পতিবার! এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক! ইনভেস্টিগেশন টিম অফ ক্রাইম সিন।
প্রিয় পাঠক, ঈদের আনন্দ আজ সর্বত্র। আলোকসজ্জায় সেজেছে চারপাশ। কিন্তু আজ আমরা আপনাদের এমন এক পরিবারের কথা শোনাব, যাদের কাছে এই ঈদের আনন্দ নয়, শুধুই এক অজানা আতঙ্ক। এই পরিবারটি হলো আব্দুল হাকিমের পরিবার। আব্দুল হাকিম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়াগোলার বাসিন্দা। একদা তারও ছিল সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার রঙিন স্বপ্ন। কিন্তু দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশ যাত্রায় তিনি সব হারিয়েছেন। নিজের জমানো শেষ সম্বলটুকু, যা তিনি রক্ত পানি করে সঞ্চয় করেছিলেন, সব ওই প্রতারক দালালরা শুষে নিয়েছে। নিঃস্ব হয়েছে আব্দুল হাকিম ও তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে পরিবারটি।
এই অসহায় পরিবারটির একমাত্র অবলম্বন এখন আব্দুল হাকিম। তাঁর কাঁধে এখন স্ত্রী ও দুই ফুটফুটে সন্তানের ভরণ-পোষণের গুরুদায়িত্ব। কিন্তু এই অসহায়ত্ব তাদের কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে। ঢাকায় গার্মেন্টস কারখানায় নামমাত্র বেতনে চাকরি। স্বামী-স্ত্রী মিলে মোটে ১২ হাজার টাকা। ঘর ভাড়া, যাতায়াত, খাবার খরচ—সবমিলিয়ে অবশিষ্ট থাকে নামমাত্র। তার উপর রয়েছে গ্রামের কিস্তির চাপ। মাসের শেষে হাতে থাকে মোটে ২ হাজার টাকা। এই ২ হাজার টাকা দিয়ে ৪ জনের সংসার পরিচালনা করা যে কত দুঃসাধ্য, তা কল্পনাতীত।কিন্তু আব্দুল হাকিম ও তার পরিবারের জন্য সবচেয়ে বড় হাহাকার হলো, ঈদের ছয় দিন বাকি থাকতেই তাদের সন্তানদের আকুতি? বাবা, আমাদেরও নতুন জামা কিনে দাও। এই কথা শুনে আব্দুল হাকিম ও তার স্ত্রী নিজেদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। ছয় মাস ধরে তারা এক টুকরো মাংসের স্বাদ নিতে পারেননি, সন্তানদের মুখে নতুন পোশাকের আনন্দ তুলে দেবেন কীভাবে?।
এই চরম অর্থসংকটের মাঝে আব্দুল হাকিম তার পুরনো বন্ধু, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাংবাদিক এসএম রুবেলকে সব খুলে বলেন। এসএম রুবেল তার বন্ধুর অসহায়ত্বের কথা শুনে ভীষণ মর্মাহত হন। নিজের জমান ত্রিশ হাজার টাকা আব্দুল হাকিমের কাছে পাঠান, যাতে তিনি ঢাকা থেকে তার পরিবার নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফিরে আসতে পারেন। আব্দুল হাকিম ভেবেছিলেন, ৩০ হাজার টাকা পেলে হয়তো তিনি দেনাদারদের কিছুটা সন্তুষ্ট করে তার পরিবারকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসতে পারবেন। কিন্তু আজ হঠাৎ আব্দুল হাকিমের ফোন এসএম রুবেলকে অবাক করে দেয়। আব্দুল হাকিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,বন্ধু, মনে হয় আমরা আর ফিরতে পারব না।” আব্দুল হাকিমের পরিবার ৯ হাজার টাকার জন্য ঢাকাতে আটকা পড়ে আছে। বাড়িওয়ালা ও মুদি দোকানদাররা তাদের ছাড়তে রাজী নয়। ৯ হাজার টাকা না দেওয়া পর্যন্ত তারা আব্দুল হাকিম ও তার পরিবারকে ঢাকা থেকে বের হতে দিবে না।
৯ হাজার টাকায় বন্দি মানবিকতা: এক অসহায় পিতার শেষ আশার আলো এখন সাব্বির আহমেদ! ঈদের আনন্দ যখন দুয়ারে, তখন মাত্র ৯ হাজার টাকার জন্য ঢাকার একটি ভাড়া বাসায় দুই শিশু সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কার্যত ‘জিম্মি’ হয়ে আছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অসহায় আব্দুল হাকিম। দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া এই যুবক যখন ঋণের বোঝা আর ক্ষুধার যন্ত্রণায় দিশেহারা, তখন তার সাহায্যে এগিয়ে এসেছিলেন বন্ধু সাংবাদিক এসএম রুবেল। নিজের জমানো ৩০ হাজার টাকা দিয়ে বন্ধুকে উদ্ধার করতে চাইলেও, নিষ্ঠুর নিয়তি আর পাওনাদারদের অনড় অবস্থানের কারণে আটকে যায় বাকি ৯ হাজার টাকা। অসহায়ত্বের চরম সীমায় পৌঁছে আব্দুল হাকিম সাহায্যের আকুতি জানিয়েছিলেন সমাজের অনেক বিত্তবান, শিল্পপতি ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অটো রাইস মিল মালিক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মেলেনি ৯ হাজার টাকার নিশ্চয়তা। সমাজের এই চরম উদাসীনতায় যখন আব্দুল হাকিমের সন্তানদের ঈদের আনন্দ ধুলিস্যাৎ হওয়ার উপক্রম,ঠিক তখনই আশার প্রদীপ হয়ে দেখা দিয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গার কৃতি সন্তান ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার একান্ত সচিব সাব্বির আহমেদ।
মুঠোফোনে আব্দুল হাকিমের এই মানবিক বিপর্যয়ের কথা শুনে তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়েছেন এবং তাদের উদ্ধার করার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে ফেরার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন আব্দুল হাকিম ও তার পরিবার। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা—সাব্বির আহমেদের এই মানবিক উদ্যোগ কি পারবে ৯ হাজার টাকার দেয়াল ভেঙে দুই শিশুর মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে ? নাকি নিষ্ঠুর সমাজ আর পাওনাদারদের আল্টিমেটামের কাছে আবারও হার মানবে মানবিকতা? পুরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ এখন তাকিয়ে আছে এই মানবিক পরিণতির দিকে। আজ আমরা এই অসহায় পরিবারটির জন্য আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই। এই অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান, তাদের ঈদের আনন্দ ফিরিয়ে দিন। আপনাদের সামান্য সহযোগিতা হয়তো এই পরিবারটির জন্য এক নতুন ভোর এনে দিতে পারে। (আব্দুল হাকিম 01712-918556)