1. live@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা : রাজু হোসেন
  2. info@www.dainikajkernayabangla.com : দৈনিক আজকের নয়া বাংলা :
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পীরগঞ্জ খেঁকিডাঙ্গায় এখনো পৌঁছায়নি বিদ্যুতের আলো, দুর্ভোগে শতাধিক পরিবার অবৈধ ব্যবসায়ীদের প্রতি ডিসি,ইউএনও এসপি’র কড়া হুঁশিয়ারি! জেলাজুড়ে বাড়ানো হলো গোয়েন্দা নজরদারি! চলছে সাড়াশি অভিযান পাবনার সাঁথিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং মেডিকেল কলেজে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত।  শীলখালীতে প্রাইভেটকারে ইয়াবা পাচার: ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক ১ রাউজান বিনাজুরী জামুয়াইনে শ্রীশ্রী মাধবানন্দ নারায়ণ আশ্রমের বার্ষিক মহোৎসব ১৪–১৬ মে পূবাইলের কামারগাঁও থেকে অমিতা রানী দাস নিখোঁজ চকরিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে এএসআই রূপন কান্তি দে’র মৃত্যু, গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান পুলিশের ভাতিজার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা মাদকের ছোবলে বিপর্যস্ত সমাজ: চকরিয়ায় অভিযানে পুলিশ নিহত, প্রশ্নে জননিরাপত্তা উৎসবমুখর পরিবেশে দাখিল ২০২০ ব্যাচের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উদযাপন  

নবগঙ্গা ও বারাহী নদী পুনঃখননের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন       

রাজশাহী প্রতিনিধি : পলি আক্তার
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

নবগঙ্গা ও বারাহী নদী পুনঃখননের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন।

নবগঙ্গা ও বারাহী নদী পুনঃখননের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন রাজশাহীর নবগঙ্গা ও বারাহী নদী দখল–দূষণ বন্ধ ও পুনঃখননের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বেলা ১১ টার দিকে পবা উপজেলার বায়া বারসিক রাজশাহী আঞ্চলিক রিসোর্স সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরে গ্রিন কোয়ালিশন, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরাম ও বারসিক। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় কৃষক, জেলে ও অধিবাসীদের অভিজ্ঞতা সংগ্রহের ভিত্তিতে তারা এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি চিহ্নিত করেছেন। তাদের দাবি, নগরের বিভিন্ন ড্রেন ও নালার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তরল বর্জ্য সরাসরি নদী ও খালে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাস্টিক ও অপচনশীল বিষাক্ত পদার্থ পরিবেশে মারাত্মক সংকট তৈরি করছে। তারা জানান, পদ্মা নদী-এর প্রবাহ থেকে উৎসারিত স্বরমঙ্গলা, বারাহী ও নবগঙ্গা নদীসহ একাধিক নদী ও খাল এখন কার্যত ড্রেনে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের নামে এসব জলাধারের প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে এসব নদীর পানি কালচে, দুর্গন্ধযুক্ত এবং প্রাণবৈচিত্র্যহীন হয়ে পড়েছে। নদীর তলদেশে পলি ও প্লাস্টিক জমে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে। এতে স্থানীয় জেলেরা আয় হারাচ্ছেন এবং মুক্ত জলাশয় থেকে নিরাপদ আমিষের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নগরের বিষাক্ত তরল বর্জ্য নিম্নাঞ্চলে জমে সাপমারার বিল, বগমারি বিল, ভূগরোইল বিল, পাইকরের বিল, বড় বাড়িয়া বিল ও কর্ণাহার বিলসহ বিভিন্ন জলাধার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি দূষিত পানি নিম্নপ্রবাহে চলন বিল পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এসব বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতা, জলজ উদ্ভিদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, দেশীয় মাছের বিলুপ্তি এবং কৃষিজমিতে দূষিত পানির অনুপ্রবেশের কারণে হাজার হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে। সংগঠনগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দূষিত বিলের পানি অনেক ক্ষেত্রে সেচ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে মাটির গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, ফসলহানি, ফসলে ক্ষতিকর উপাদান জমা এবং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের ঝুঁকি বাড়ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক কৃষক জমি বিক্রি করে অকৃষিখাতে দিচ্ছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।

দূষণের ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে চর্মরোগ, পানিবাহিত রোগ ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা। শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তারা বলেন, এটি কেবল পরিবেশগত নয় সামাজিক ন্যায়বিচারেরও প্রশ্ন। সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনগুলো পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে বলেন, ১. রাজশাহী নগরে আধুনিক স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন ও কার্যকর করা এবং অপরিশোধিত বর্জ্য নদী-বিলে প্রবাহ বন্ধ। ২. সকল শিল্প, হাসপাতাল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন ও কঠোর মনিটরিং; লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা। ৩. নদী ও বিলের সঙ্গে সরাসরি ড্রেন সংযোগ বন্ধ এবং দূষণের উৎস শনাক্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন ও প্রতিবেদন প্রকাশ। ৪. সংশ্লিষ্ট নদী ও বিলের পানি ও মাটির গুণগত মান পরীক্ষা করে ফলাফল প্রকাশ এবং নিয়মিত পরিবেশ মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা। ৫. নদী-বিল দখল ও ভরাট বন্ধ করে সমন্বিত পুনরুদ্ধার মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং সবুজ নগর পরিকল্পনা গ্রহণ।
সংগঠনগুলোর নেতারা বলেন, রাজশাহীর নদী ও বিল কেবল জলাধার নয়; এগুলো এই অঞ্চলের কৃষি, খাদ্য, প্রাণবৈচিত্র্য ও জনজীবনের ভিত্তি। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে তা বৃহত্তর পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি মাহাবুব সিদ্দিকি, বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম, বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের উপদেষ্টা শাইখ তাসনিম জামাল , বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক পলিরানীসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিটি কর্পোরেশন ও জাতীয় নীতিনির্ধারকদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান এবং গণমাধ্যমকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তুলে ধরার অনুরোধ করেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট