চায়না মাছ ধরার ফাঁদ ও হানি ট্র্যাপ হুমকির পদক্ষেপের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
রাজশাহী প্রতিনিধি! পলি আক্তার।
প্রকাশিত:
মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
১০
বার পড়া হয়েছে
চায়না মাছ ধরার ফাঁদ ও হানি ট্র্যাপ হুমকির পদক্ষেপের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন
চায়না থেকে আমদানি করা মাছ ধরার ফাঁদ, কৃত্রিম হানি ট্র্যাপ ও রাসায়নিক আকর্ষণকারীর নির্বিচার ব্যবহারে বরেন্দ্র অঞ্চলসহ দেশের জলাভূমির প্রাণবৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় অবিলম্বে কার্যকর নীতিগত ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। সোমবার সকালে নগরীর এসকে সেমিনার হলে বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার, গ্রিন কোয়ালিশন-রাজশাহী ও বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব উদ্বেগের কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজশাহীর পদ্মা নদীসহ নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার নদী, বিল, খাল ও মৌসুমি জলাশয়ে চায়না দুয়ারি জাল, ছাতা জাল, মোনোফিলামেন্ট (কারেন্ট) জাল অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি লেড লাইট, রাসায়নিক হানি ট্র্যাপ ও ইলেকট্রিক ফিশিং ডিভাইসের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ শিকার করা হচ্ছে। বক্তারা বলেন, দ্রুত মাছ বৃদ্ধির জন্য হরমোনাল ইনজেকশন ও মাছ বন্ধ্যাত্বকরণ ট্যাবলেট ব্যবহারের ফলে জলজ প্রাণীর প্রজনন ব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে। এর প্রভাবে দেশি মাছ ও জলজ উদ্ভিদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং জলাভূমিনির্ভর জেলে ও জনগোষ্ঠীর জীবিকা চরম ঝুঁকিতে পড়ছে।
পবা উপজেলার বারনই নদী পাড়ের মৎস্যচাষী আবু সামা বলেন, পুকুরে ব্যবহৃত হরমোন ও রাসায়নিক বৃষ্টি ও বন্যার মাধ্যমে মুক্ত জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়ছে, যার প্রভাব অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপর পড়ছে। ফলে আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। বারসিকের নৃবিজ্ঞানী ও আঞ্চলিক সমন্বয়ক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, স্বল্পমেয়াদে এসব প্রযুক্তি কিছু জেলের আয় বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে জলাশয়কে কার্যত ‘মৃত’ করে তুলছে। নিষিদ্ধ এসব চায়না ফাঁদ ও রাসায়নিক হানি ট্র্যাপ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অবাধে বিক্রি হলেও বিদ্যমান মৎস্য সুরক্ষা আইন ও পরিবেশ আইন যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে না।বরেন্দ্র ইয়ুথ ফোরামের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, এটি মৎস্য ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। আইন থাকা সত্ত্বেও ক্ষতিকর এসব উপকরণের আমদানি ও ব্যবহার কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সংবাদ সম্মেলন থেকে জলাভূমিতে বিষ, হানি ট্র্যাপ, বৈদ্যুতিক শক ও অবৈধ মাছ ধরার উপকরণ নিষিদ্ধ, অনলাইন বিক্রি বন্ধ, আইন কার্যকর এবং জলাভূমিনির্ভর জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও জীবিকা নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। বক্তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দেশের জলাভূমি ও মৎস্য সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতি হবে এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হবে।