
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার নিয়ে ধোঁয়াশা: সাজাপ্রাপ্ত আসামির ‘ইন্ধনে’ কৃষককে ফাঁসানোর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজন অতি দরিদ্র ও নিরীহ কৃষককে ৩ কেজি (আনুমানিক ৩ কোটি টাকা মূল্যের) হেরোইন দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মাদক সম্রাটের বিরুদ্ধে। মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি জুয়েল মেম্বারের ইন্ধনে এই ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ গ্রেপ্তার ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গত রোববার বিকেলে স্থানীয় একটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়ে প্রশাসনের কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান গ্রেফতারকৃত কৃষকের স্বজনরা।
সংবাদ সম্মেলনের বর্ণনা ও অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে গ্রেফতারকৃত কৃষক এবরান আলীর (গ্রাম: মাল বাগডাঙ্গা সোনাপট্টি) ছেলে সাংবাদিক আলী হোসেন বলেন, “আমি সাংবাদিক হিসেবে স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরে সংবাদ প্রকাশ করে আসছি। বিশেষ করে ফাটাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ৩ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জুয়েল রানা, যিনি নিজে একটি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, তার অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ে প্রতিবেদন করায় তিনি আমার ওপর চরম ক্ষিপ্ত ছিলেন।”
আলী হোসেনের দাবি, তাকে স্তব্ধ করতেই তার নিরপরাধ ও শ্রমজীবী পিতাকে টার্গেট করা হয়েছে। গত ১৭ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টার দিকে জুয়েল মেম্বার নিজে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভুল তথ্য দিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করিয়েছেন। পরিবারের দাবি, যে কৃষক নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থায় দিন কাটান, তার কাছে ৩ কোটি টাকার হেরোইন থাকা আকাশকুসুম কল্পনা ও অবাস্তব।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়—আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন চিহ্নিত অপরাধী কীভাবে বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে? আলী হোসেন আরও জানান, এর আগেও জুয়েল রানা তাকে হত্যা ও মারধরের হুমকি দিয়েছিলেন। এখন তার পিতাকে গ্রেফতার করিয়ে পুরো পরিবারকে পথে বসানোর চক্রান্ত চলছে।
র্যাবের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে র্যাব-৫, রাজশাহী এর সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প সূত্র জানায়, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করেছে। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, “আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছি এবং আসামির হেফাজত থেকে মাদক উদ্ধার করেছি। তথ্যের উৎস কে ছিল তা তদন্তের বিষয় নয়, উদ্ধার হওয়াই মূল বিষয়।”
জনদাবি ও তদন্তের আহ্বান এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার পেছনে থাকা প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে বিভাগীয় তদন্ত অথবা উচ্চপর্যায়ের বিচারিক তদন্ত (Judicial Inquiry) দাবি করেছেন। তারা অবিলম্বে নিরপরাধ কৃষক এবরান আলীর মুক্তি এবং চিহ্নিত সাজাপ্রাপ্ত আসামি জুয়েল মেম্বারকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।