নিজস্ব প্রতিবেদক
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যেই মাদক বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১৭ পিস ইয়াবাসহ এক যুবককে হাতকড়া পরিয়ে দুই ঘণ্টা আটকে রাখার পর, ২০ হাজার টাকা উৎকোচ (ঘুষ) নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার এসআই সিরাজের বিরুদ্ধে। পুলিশের এমন কড়া ব্যবসায়িক ভূমিকায় স্থানীয় সচেতন মহলের মনে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (১৭ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে হবিগঞ্জ সদর থানার চৌধুরী বাজার সংলগ্ন নাতিরপুর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে নাতিরপুর এলাকার মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত মাসুকের বাড়ির সামনের গলি রাস্তা থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফাঁড়ির সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সিরাজ এবং সাথে ছিলেন পুলিশ সদস্য ড্রাইভার জুনায়েদসহ অন্য সংঙ্গীয় ফোর্স। আটকের সময় মাসুকের কাছ থেকে ১৭ পিস নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এরপর তার হাতে পরানো হয় সরকারি হাতকড়া (হ্যানকাপ)। আইন অনুযায়ী মাদকসহ হাতেনাতে গ্রেফতারের পর আসামিকে দ্রুত থানায় নিয়ে মামলা দায়ের করার কথা। কিন্তু এসআই সিরাজ ও কনস্টেবল জুবায়েদের ক্ষেত্রে আইনের চেয়ে পকেটের গরম বেশি প্রাধান্য পায়। ইয়াবাসহ মাসুককে আটক করে থানায় না নিয়ে, অন্ধকার গলিতেই শুরু হয় দরদাম। প্রায় দুই ঘণ্টা হাতকড়া পরিয়ে আটকে রেখে চলে দেনদরবার। অবশেষে রাত আনুমানিক ২টার দিকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে রফা হয়। টাকা পকেটে পুরে আইনের তোয়াক্কা না করে, হাতকড়া খুলে বীরদর্পে মাদক ব্যবসায়ী মাসুককে ছেড়ে দেয় পুলিশ। ১৭ পিস ইয়াবাসহ আটক করার পরও মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে এভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যারা মাদক নির্মূলের শপথ নিয়ে মাঠে নেমেছেন, তারাই যদি টাকার বিনিময়ে মাদক বিক্রেতাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তবে সমাজ থেকে মাদক কীভাবে দূর হবে? এসআই সিরাজ ও পুলিশের ড্রাইভারের এই ‘হ্যানকাপ-বাণিজ্য’ খোদ পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তিকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কঠোর হস্তক্ষেপ এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সিরাজ ওই রাতে নাতিরপুর এলাকার গলি রাস্তা থেকে মাসুককে গ্রেফতার বা আটকের বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন। তবে ২০ হাজার টাকা উৎকোচ (ঘুষ) নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগটি তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তবে এ-সংক্রান্তে হবিগঞ্জ সদর থানার ওসি জাহিদ জানান, তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।