ম.ম.রবি ডাকুয়া,বাগেরহাটঃ
সুন্দরবনে চলমান কম্বিং অপারেশনের তোয়াক্কা না করে বিচ্ছিন্ন দস্যু দলগুলো একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছে বলে একাধিক সূত্র দাবী করেছে। তাদের লক্ষ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে মোকাবিলা করা এবং শুঁটকিপল্লীতে পুনরায় বড় ধরনের হামলা চালানো।এ যেন অপ্রতিরোধ্য ও পরাক্রমশালী হয়ে ওঠার মত।
সূত্র জানায়, শুঁটকিপল্লীতে হামলা চালিয়ে আরও জেলেকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে মহাজনদের। সম্প্রতি অপহৃত জেলেদের মুক্তিপণের দাবিকৃত অর্থ পুরোপুরি না পাওয়ায় দস্যুরা জেলে ও মহাজনদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে দুবলার আলোরকোল, নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্রগুলোতে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় হামলার আশঙ্কায় জেলে ও ব্যবসায়ীরা ভীতসন্ত্রস্ত দিন কাটাচ্ছেন।
মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন ১৪ জেলে
বন বিভাগ ও শুঁটকি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, অপহরণের প্রায় তিন সপ্তাহ পর মঙ্গলবার (৩ মার্চ) মুক্তিপণ দিয়ে ১৪ জেলে ছাড়া পেয়েছেন। প্রত্যেক জেলের জন্য ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে দিতে হয়েছে।
ফিরে আসা জেলেরা নারকেলবাড়িয়া ও শেলার চরের ব্যবসায়ী মিজান মালি, শাহিনুর মালি, হাবিব ও রবির মহাজনের অধীনে কাজ করতেন। তবে এখনো আলোরকোলের রফিকুল ও খালেক মহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে বনদস্যু করিম শরীফ বাহিনী পূর্ব সুন্দরবনের শেলার চর শুঁটকিপল্লীতে হানা দিয়ে একটি ট্রলারসহ ছয় জেলেকে অপহরণ করে। এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় ২০টি ট্রলার থেকে আরও ২০ জেলেকে অপহরণ করে জাহাঙ্গীর ও সুমন বাহিনী।
অডিও বার্তায় চাঁদার হুমকি
বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে শেলার চরের এক শুঁটকি ব্যবসায়ীর পাঠানো অডিও বার্তায় জানানো হয়, চার মহাজনের ১৪ জেলেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো দুই মহাজনের ১২ জেলে জিম্মি রয়েছেন।
অডিও বার্তায় আরও দাবি করা হয়—
শেলার চরের প্রতিটি জেলে ঘর থেকে এক লাখ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে।
৫০টি ঘর থেকে মোট ৫০ লাখ টাকা আদায়ের দাবি জানানো হয়েছে।
২০টি ট্রলারের জন্য ট্রলারপ্রতি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছে।
চাহিদা অনুযায়ী অর্থ না পাওয়ায় দস্যুরা আরও বড় হামলার হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
বন বিভাগের সতর্কবার্তা
দুবলার চরের বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্ট রেঞ্জার) মিল্টন রায় বলেন, মোবাইল ফোনে মহাজনদের হুমকি দিয়ে দস্যুরা তাদের শক্তির জানান দিয়েছে। বিচ্ছিন্ন ছোট-বড় দস্যু দলগুলো নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে।
তিনি জানান, চাঁদার দাবি পূরণ না হলে যে কোনো সময় শুঁটকিপল্লীতে বড় ধরনের হামলা চালিয়ে ব্যাপক সংখ্যক জেলে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
শরণখোলা রেঞ্জে অভিযান জোরদারের দাবি
সুন্দরবনে দস্যু নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও পূর্ব বনবিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় এর তেমন প্রভাব পড়েনি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে এ অঞ্চল দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।প্রয়োজনে হেলিকপ্টার ও ড্রোন নিয়ে তল্লাশি অভিযান দরকার।
বন কর্মকর্তারা দ্রুত শরণখোলা রেঞ্জ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন।