
সুন্দরবনের কটকা সমুদ্রসৈকত হুমকির মুখে
ম.ম.রবি ডাকুয়া।। বাগেরহাটঃ
সারা বিশ্বের অন্যতম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে বনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কটকা এখন হুমকির মুখে। ঢেউয়ের আঘাতে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে কটকায় অবস্থিত বনরক্ষীদের ব্যারাক, রাস্তাঘাট, গাছপালা, সুপেয় পানির পুকুর ও রেস্ট হাউসসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা। হারিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রসৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
জামতলা সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকরা বলেন, জামতলা বিচে ঘুরতে বছর খানেক আগেও এসেছিলাম। এবার এসে দেখি কিছু জায়গা বালির বদলে মাটি হয়ে গেছে। বিশেষ করে সূর্যাস্ত দেখার জায়গাটা বালি সরে গিয়ে মাটি বের হয়ে গেছে। কাদামাটিতে হাঁটাচলা করা বেশ কষ্টকর।
আরেক দর্শনার্থী মুন্সী মোহাম্মদ ওমর বলেন, ঢেউয়ের তান্ডবে ভাঙনে কটকা পর্যটন কেন্দ্রটি প্রায় শেষ হয়ে গেছে। কটকা পর্যটন কেন্দ্রে আগে প্রচুর পর্যটক আসতো। এখন চলাচলের রাস্তাটির অবস্থা আর আগের মতো নেই। জামতলা সি বিচের বালি সরে যাওয়ায় এখানে এখন আর পর্যটক আসেনা বললেই চলে।
শরণখোলা ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাসেল আহাম্মেদ বলেন, কটকার একটি অংশে গাছপালা, রাস্তাঘাট ও বনরক্ষীদের অফিস ভেঙে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে জামতলা সমুদ্র সৈকতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের বালি সরে গিয়ে কাদা বের হয়েছে। তাই সূর্যাস্ত দেখতে গেলে পর্যটকদের কাদা মাখতে হয়।ফলে অনেকেই এ বিচ বিমুখ হচ্ছেন অনেকে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মতিউর রহমান বলেন, সাগরের তীব্র ঢেউয়ে ভাঙছে কটকা বনাঞ্চল। প্রতিনিয়ত ভাঙনের কারণে গত দুই বছরে কটকায় বনরক্ষীদের দুটি ব্যারাক, একটি রেস্ট হাউস, রাস্তাঘাট, পুকুর ও গাছপালা সাগরে বিলিন হয়েছে। বেশ কয়েকবার ব্যারাক স্থানান্তর করতে হয়েছে। ভাঙন রোধে কংক্রিট ব্লক ফেলা না হলে বর্তমান অফিস ও রেস্ট হাউস সাগরে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কটকায় বেশ কয়েকটি স্থাপনা ও রাস্তাঘাট সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।