
“রুবল, রক্ত আর ড্রোন’ ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অন্তহীন যুদ্ধের ব্যবচ্ছেদ” নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে পুতিনের রাশিয়া
(এসএম রুবেল সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার)
ট্যাঙ্ক বনাম ড্রোন! আধুনিক সমরকৌশল ও নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে পুতিনের রাশিয়া” রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে রাশিয়ায় কতজন নারী বিধবা হয়েছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট বা দাপ্তরিক পরিসংখ্যান রাশিয়া সরকার প্রকাশ করেনি। যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিহতের সংখ্যাকে ক্রেমলিন একটি ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা’ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন থিংক-ট্যাঙ্ক এবং গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে একটি ধারণা পাওয়া যায়”বর্তমান পরিসংখ্যানের একটি চিত্র (জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত” নিহত রুশ সেনার সংখ্যা”! সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী যেমন- CSIS বা যুক্তরাষ্ট্রের থিংক-ট্যাঙ্ক” ২০২২ থেকে ২০২৫ এর শেষ পর্যন্ত প্রায় ৩,২৫,০০০ রুশ সেনা নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। অন্য কিছু সূত্র এই সংখ্যা ২ থেকে ৪ লাখের মধ্যে বলে দাবি করে।
রাশিয়া-ইউক্রেন ২০২৬! মহাযুদ্ধের নেপথ্যে এক অদৃশ্য অর্থনীতির আখ্যান” বিধবাদের সংখ্যা”! এই নিহত সেনাদের বড় একটি অংশই তরুণ বা মধ্যবয়সী ছিলেন। যদি তাত্ত্বিকভাবে ধরা হয় যে নিহতদের মধ্যে অন্তত ৪০% থেকে ৫০% বিবাহিত ছিলেন”!তবে বিধবা নারীর সংখ্যা ১,৩০,০০০ থেকে ১,৬০,০০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে এটি কেবল একটি অনুমান” কারণ নিহতদের মধ্যে কতজন অবিবাহিত ছিলেন বা কতজন চুক্তিবদ্ধ (Contract) সৈনিক ছিলেন তার সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন ” তারা রাস্টীয় ভাবে গোপনীয় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় “! “কফিন মানি ও দীর্ঘশ্বাসের মিছিল! যুদ্ধের ছায়ায় রাশিয়ার এক নতুন সামাজিক মানচিত্র”।
‘ব্ল্যাক উইডো’ স্কিম” রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে একটি নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যেখানে সরকারি ক্ষতিপূরণের অর্থ (যা কয়েক মিলিয়ন রুবল হতে পারে) পাওয়ার আশায় সেনাসদস্যদের সাথে দ্রুত বা ভুয়া বিয়ের ঘটনা বাড়ছে। রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এদের অনেক সময় ‘ব্ল্যাক উইডো’ বা ‘কালো বিধবা’ হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। সামাজিক প্রভাব! রাশিয়ায় যুদ্ধের কারণে পুরুষ ও নারীর জনসংখ্যার ভারসাম্য আরও বেশি বিঘ্নিত হচ্ছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আন্দোলন”! রাশিয়ায় নিহত এবং নিখোঁজ সেনাদের স্ত্রী ও মায়েরা মিলে ‘The Way Home’-এর মতো বিভিন্ন গোষ্ঠী তৈরি করেছেন, যারা তাদের স্বামীদের ফিরিয়ে আনা বা সঠিক তথ্যের দাবিতে মাঝে মাঝে বিক্ষোভ করে থাকেন। রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয় পক্ষই যুদ্ধের প্রকৃত তথ্য গোপন রাখে, তাই এই পরিসংখ্যান কেবল যুদ্ধক্ষেত্রের পর্যবেক্ষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া। রাশিয়ায় যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারকে যে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, তা দেশটিতে ‘কফিন মানি’ (Coffin Money) নামেও পরিচিত। পুতিন প্রশাসন জনরোষ কমাতে এবং যুদ্ধে পুরুষদের উৎসাহিত করতে এই অর্থের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।
রাশিয়ায় একজন সেনার মৃত্যুর পর তার বিধবা স্ত্রী বা পরিবার সাধারণত নিচের সুবিধাগুলো পেয়ে থাকেন!”এককালীন বড় অংকের অর্থ (Lump Sum Payouts)! রাশিয়ায় নিহত সেনার পরিবারের জন্য দুটি প্রধান উৎস থেকে টাকা দেওয়া হয়!” রাষ্ট্রীয় বিমা ও ক্ষতিপূরণ” আইন অনুযায়ী, যুদ্ধে নিহত সেনার পরিবার প্রায় ৭.৪ মিলিয়ন রুবল (প্রায় ৯৫,০০০ – ১,০০,০০০ মার্কিন ডলার) সরকারি বিমা হিসেবে পায়।প্রেসিডেন্সিয়াল ডিক্রি”! ২০২২ সালে ভ্লাদিমির পুতিন একটি বিশেষ ডিক্রি জারি করেন, যার মাধ্যমে নিহতদের পরিবারকে অতিরিক্ত ৫ মিলিয়ন রুবল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।মোট পরিমাণ”! সব মিলিয়ে একটি পরিবার প্রায় ১২.৪ মিলিয়ন রুবল পর্যন্ত পেতে পারে। বর্তমান বাজার দরে বাংলাদেশি টাকায় এটি প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার সমান। মাসিক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা এককালীন অর্থের বাইরেও বিধবারা দীর্ঘমেয়াদী কিছু সুবিধা পান!”পেনশন’ নিহতের স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য মাসিক পেনশন নিশ্চিত করা হয়।
ঋণ মওকুফ! নিহত সেনার নামে থাকা ব্যাংক লোন বা মর্টগেজ (Mortgage) মওকুফ করে দেওয়ার নতুন আইন পাশ হয়েছে। শিক্ষা ও চিকিৎসা” সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ কোটা এবং পরিবারের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। আঞ্চলিক বোনাস (Regional Bonuses) রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল (যেমন- মস্কো বা সাইবেরিয়ার কোনো অঞ্চল) তাদের নিজস্ব বাজেট থেকে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করে। কিছু ধনী অঞ্চলে এটি ১ থেকে ৩ মিলিয়ন রুবল পর্যন্ত হতে পারে। কিছু বাস্তব সমস্যা ও সমালোচনা এত বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে কিছু জটিলতা রয়েছে!” নিখোঁজ (Missing in Action)! যদি কোনো সেনার মরদেহ উদ্ধার না হয় বা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘নিহত’ ঘোষণা না করে ‘নিখোঁজ’ দেখানো হয়, তবে তার পরিবার এই অর্থ পায় না। অনেক বিধবা অভিযোগ করেছেন যে তাদের স্বামীদের দীর্ঘকাল নিখোঁজ রাখা হচ্ছে যাতে সরকার ক্ষতিপূরণ এড়াতে পারে।
বিয়ের প্রমাণ! যেহেতু অনেকে দীর্ঘকাল ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কে থাকেন বা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেননি, তারা আইনি জটিলতায় পড়ে এই টাকা পাচ্ছেন না। এর ফলে রাশিয়ায় এখন যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে দ্রুত বিয়ে করার ধুম পড়েছে। মূল্যস্ফীতি”! রাশিয়ার অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির কারণে এই বিপুল অংকের রুবলের ক্রয়ক্ষমতা দিন দিন কমছে। রাশিয়ার বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা বা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যুদ্ধের প্রভাব ভয়াবহ। ২০২৬ সালের শুরুতে রাশিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক এবং জটিল। একদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে বিশাল সামরিক খরচ—সব মিলিয়ে রাশিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান অবস্থার মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো!” ‘ওয়ার ইকোনমি’ বা যুদ্ধের অর্থনীতি!”রাশিয়ার বর্তমান অর্থনীতি পুরোপুরি যুদ্ধের ওপর নির্ভরশীল। দেশের মোট জিডিপির (GDP) একটি বিশাল অংশ এখন অস্ত্র তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে কর্মসংস্থান! অস্ত্র কারখানাগুলো দিনরাত চলায় বেকারত্ব অনেক কমেছে। তবে এর বড় কারণ হলো—লাখ লাখ তরুণ যুদ্ধে চলে গেছে অথবা দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, ফলে শ্রমবাজারে কর্মীর সংকট তৈরি হয়েছে। বেতন বৃদ্ধি! দক্ষ শ্রমিক এবং আইটি পেশাদারদের ধরে রাখতে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন অনেক বাড়িয়েছে- মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়।
সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি! খাদ্যদ্রব্য!ডিম, মাখন, মাংসের মতো সাধারণ খাবারের দাম গত দুই বছরে ২০% থেকে ৪০% পর্যন্ত বেড়েছে। আমদানি পণ্য! আইফোন, ইউরোপীয় গাড়ি বা পশ্চিমা ব্র্যান্ডের জিনিসের বদলে এখন চীনা পণ্য বাজার দখল করেছে। তবে এগুলোর দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। সুদের হার! মুদ্রাস্ফীতি ঠেকাতে রাশিয়ার সেন্ট্রাল ব্যাংক সুদের হার অনেক বেশি (প্রায় ১৮-২০%) রেখেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য ঘর বা গাড়ির লোন নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।রাশিয়ার সমাজ ও মানুষের মানসিক অবস্থা রুশ নাগরিকদের জীবনযাত্রায় একটি ‘দ্বিমুখী’ অবস্থা লক্ষ্য করা যায়!” বড় শহর বনাম গ্রাম! মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো শহরে জীবন আপাত দৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হলেও প্রান্তিক গ্রামগুলোতে শোকের ছায়া বেশি। কারণ গ্রাম থেকেই বেশি মানুষকে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে।
ভয় ও নীরবতা! যুদ্ধের বিরুদ্ধে কথা বললে কঠোর শাস্তির বিধান থাকায় সাধারণ মানুষ রাজনীতি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছে। অনেকে কেবল নিজেদের টিকে থাকার লড়াইয়ে মনোযোগী। চীন ও ভারতের ওপর নির্ভরতা! পাশ্চাত্যের বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রাশিয়া এখন পুরোপুরি এশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। রাশিয়ার তেলের প্রধান ক্রেতা এখন ভারত ও চীন। বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক্স এবং অটোমোবাইল পণ্যের প্রায় ৭০-৮০% এখন চীনা ব্র্যান্ডের। একটি বড় চ্যালেঞ্জ: ‘জনসংখ্যার সংকট’ রাশিয়ার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সবচেয়ে বড় বিপদ হলো মানুষের অভাব। যুদ্ধে নিহতের পাশাপাশি প্রায় ১০ লাখের বেশি তরুণ (যাদের মধ্যে অনেক মেধাবী ইঞ্জিনিয়ার ও ডাক্তার ছিলেন) দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এর ফলে রাশিয়ার ভবিষ্যৎ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং জন্মহার মারাত্মক ভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
রাশিয়ার ওপর আরোপিত পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাগুলো ইতিহাসে যেকোনো দেশের ওপর দেওয়া সবচেয়ে কঠোর ব্যবস্থা। তবে রাশিয়া বেশ কৌশলী এবং বিকল্প পথে তাদের অর্থনীতি সচল রেখেছে। তারা কীভাবে এটি করছে, তার মূল কৌশলগুলো নিচে দেওয়া হলো” ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজ বহর পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার তেলের ওপর প্রতি ব্যারেল $60 ডলারে প্রাইস ক্যাপ (মূল্যসীমা) নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এটি এড়াতে রাশিয়া কয়েকশ পুরনো ট্যাঙ্কারের একটি বিশাল ‘ছায়া জাহাজ বহর’ তৈরি করেছে। এই জাহাজগুলো পশ্চিমা বিমা বা পরিষেবা ছাড়াই বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহন করেএর ফলে তারা আন্তর্জাতিক বাজারেই তেল বিক্রি করতে পারছে এবং বিপুল অর্থ আয় করছে।
সমান্তরাল আমদানি (Parallel Import) পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলো (যেমন: Apple, Samsung, BMW, বা Mercedes) রাশিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিলেও রাশিয়ার দোকানে এসব পণ্য এখনও পাওয়া যায়। রাশিয়া কাজাখস্তান, তুরস্ক, আর্মেনিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলোকে ব্যবহার করে পণ্য আমদানি করে। পণ্যগুলো প্রথমে ঐসব দেশে যায়, তারপর সেখান থেকে ট্রাকে বা বিমানে করে রাশিয়ায় ঢোকানো হয়। একে বলা হয় ‘গ্রে মার্কেট’ বা সমান্তরাল বাণিজ্য।চীনের সাথে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব পশ্চিমা দেশগুলোর বিকল্প হিসেবে চীন এখন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক বন্ধু। মুদ্রা” রাশিয়া এখন তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের বদলে চীনের ইউয়ান (Yuan) বেশি ব্যবহার করছে।
প্রযুক্তি! মাইক্রোচিপ থেকে শুরু করে ড্রোন এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ—সবকিছুর জন্যই রাশিয়া এখন চীনের ওপর নির্ভরশীল। নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম! রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা SWIFT থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এর জবাবে তারা! নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম SPFS তৈরি করেছে। রাশিয়ার নিজস্ব কার্ড সিস্টেম ‘Mir’ (মীর) চালু করেছে, যা বেশ কিছু বন্ধু দেশে কার্যকর। নিষেধাজ্ঞার অকার্যকারিতার কারণ নিষেধাজ্ঞাগুলো কেন রাশিয়াকে পুরোপুরি ধসিয়ে দিতে পারেনি? জ্বালানির চাহিদা! বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বেশি থাকায় রাশিয়ার আয়ের উৎস বন্ধ হয়নি। স্বনির্ভরতা! রাশিয়া খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, ফলে তাদের বড় কোনো দুর্ভিক্ষ বা খাদ্য সংকটে পড়তে হয়নি।
বর্তমান ঝুঁকি! এত কিছুর পরেও রাশিয়ার অর্থনীতি একটি সরু সুতোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কারণ! প্রযুক্তি সংকট”সাধারণ পণ্য আনতে পারলেও হাই-টেক বা উচ্চপ্রযুক্তি যেমন! উন্নত বিমানের ইঞ্জিন বা প্রিসিশন টুলস তৈরিতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। সম্পদ বাজেয়াপ্ত রাশিয়ার প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ পশ্চিমা ব্যাংকগুলোতে জব্দ হয়ে আছে, যা এখন ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার কাজে ব্যবহারের আল Revolution রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে এখন অনেক বিশেষজ্ঞ “ড্রোনের যুদ্ধ” হিসেবে অভিহিত করছেন। এই যুদ্ধে এমন কিছু সামরিক প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে যা আধুনিক যুদ্ধের ধরন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। নিচে প্রধান কয়েকটি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের বিবরণ দেওয়া হলো! ড্রোন প্রযুক্তি (The Drone Revolution এই যুদ্ধে আকাশ এখন ড্রোনের দখলে। FPV (First Person View) ড্রোন”!! এগুলো ছোট, সস্তা এবং বিস্ফোরক বোঝাই। একজন অপারেটর চশমা পরে রিয়েল-টাইম ভিডিও দেখে এগুলোকে সরাসরি ট্যাঙ্কের ভেতরে বা বাঙ্কারে আঘাত করায়। শহীদ ড্রোন Shahed! ইরান থেকে আনা এই “কামিকাজে” ড্রোনগুলো রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অবকাঠামো ধ্বংস করতে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যবহার করে। এগুলো সস্তা কিন্তু কার্যকর বায়েরাকতার (Bayraktar TB2! যুদ্ধের শুরুর দিকে ইউক্রেন তুরস্কের এই ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার বিশাল ট্যাঙ্ক বহর ধ্বংস করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল হাইপারসনিক মিসাইল (Kinzhal
রাশিয়া এই যুদ্ধে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র ‘কিনঝাল’ (Kinzhal) মিসাইল ব্যবহার করেছে। এটি শব্দের চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ বেশি দ্রুত চলতে পারে। এর গতি এত বেশি যে বর্তমান বিশ্বের বেশিরভাগ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (Air Defense) একে আটকাতে হিমশিম খায়! ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার (Electronic Warfare – EW) এটি এক অদৃশ্য যুদ্ধ। রাশিয়া এবং ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ড্রোন ও রেডিও সিগন্যাল জ্যাম করার জন্য শক্তিশালী ইলেক্ট্রো-ম্যাগনেটিক তরঙ্গ ব্যবহার করে। রাশিয়ার ‘Pole-21’ বা ‘Zhitel’ সিস্টেমগুলো ইউক্রেনের জিপিএস গাইডেড মিসাইল ও ড্রোনের দিক ভুলিয়ে দিতে দক্ষ।স্টারলিংক (Starlink) ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তি
ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে বড় গেম-চেইঞ্জার ছিল এলন মাস্কের স্টারলিংক ইন্টারন্যাট।যুদ্ধের ময়দানে যখন টাওয়ার বা ক্যাবল ধ্বংস হয়ে যায়, তখন স্টারলিংক ডিশের মাধ্যমে ইউক্রেনীয় সেনারা ড্রোনের ভিডিও দেখা এবং একে অপরের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখতে পেরেছে। হিমার্স (HIMARS) ও প্যাট্রিয়ট সিস্টেম! HIMARS! আমেরিকা ইউক্রেনকে এই রকেট সিস্টেম দিয়েছে, যা নিখুঁতভাবে অনেক দূর থেকে রাশিয়ার অস্ত্রাগার বা রসদ সরবরাহের ডিপোতে আঘাত করতে পারে।Patriot: এটি বিশ্বের অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা রাশিয়ার ছোঁড়া ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক মিসাইল ভূপাতিত করতে ব্যবহার করা হয়! “যুদ্ধের নতুন ট্রেন্ড!’ট্যাঙ্ক বনাম ড্রোন’ এক সময় মনে করা হতো শক্তিশালী ট্যাঙ্কই যুদ্ধের শেষ কথা। কিন্তু বর্তমানে কয়েকশ ডলারের একটি ছোট ড্রোন কোটি টাকার একটি ট্যাঙ্ক ধ্বংস করে দিচ্ছে। ফলে রাশিয়া এখন তাদের ট্যাঙ্কের উপরে লোহার খাঁচা (Cope Cages) ব্যবহার করছে ড্রোন থেকে বাঁচার জন্য।এই প্রযুক্তির লড়াইয়ের জন্য তারা আরও বেশি ব্যবহার করছে! ঐতিহাসিক ঝুঁকি: বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ১৯১৭ সালের জার্মানির সামরিক ক্লান্তির মতো, যা দেশটির সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে নিয়ে যেতে পারে।।