চাঁপাইনবাবগঞ্জে ‘রিমন বাহিনীর’ তাণ্ডব: ব্ল্যাকমেইল, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকিতে জিম্মি এলাকাবাসী! চাঁদা আদায় করতে , প্রবাসীকে টার্গেট ,দায় এড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল অপপ্রচার অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ
এস এম রুবেল, অনুসন্ধানী প্রতিবেদক চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ক্রাইম সিন ইউনিট মিডিয়া সেল ১৬ জুলাই, ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মাঝপাড়া ও শাহীবাগ এলাকা এখন একটি অপরাধী চক্রের হাতে জিম্মি। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের প্রাক্তন দপ্তর সম্পাদক রিমন এবং তার বাহিনীর বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে গড়ে তোলা রিমনের এই অপরাধ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা এখন ফুঁসে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত রিমনের বিরুদ্ধে অপরাধের ফিরিস্তি দীর্ঘ। অতীতে ‘আঁখি’ নামের এক তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল করে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়াসহ বিভিন্ন গুরুতর অপকর্মে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি ‘কালাই রুটি’ পেজের কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শাওনকে অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের মূলহোতা হিসেবে রিমনের নাম উঠে এসেছে। এছাড়া, মোবাইল কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে ‘মিম’ নামের এক তরুণীর ভিডিও ধারণ করে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না পেয়ে তাকে মাদক ব্যবসায়ী অপবাদ দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা, বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের মতো ন্যাক্কারজনক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বাতেন খাঁর মোড়ে বিস্ফোরক মামলার প্রধান আসামি হিসেবেও রিমন চিহ্নিত। এছাড়া পাসপোর্ট অফিসের দালালি, মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং নারীদের নিয়ে অনৈতিক দেহ ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে।
মাঝপাড়া ও শাহীবাগ এলাকায় এই চক্রের ভয়াবহতা চরম আকার ধারণ করেছে। মাঝপাড়ার শামীমা নামের এক সহযোগী এবং বাবু পাড়ার মনোয়ারা নামের এক নারীর স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এই চক্রের অপরাধপ্রবণতা প্রকাশ্যে আসে। সর্বশেষ গত ১২ জুলাই মিম নামের এক নারীকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে অপবাদ দিয়ে তার বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। একই ধারাবাহিকতায় সামিউল ইসলামের পরিবারও এই বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সামিউলের ছেলে সাজ্জাদ হোসেন বাঁধনের ২০০০ টাকা পাওনা আদায়ের জেরে বিবাদীরা তাকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। প্রতিবাদ করতে গেলে বিবাদীদের নির্দেশে সামিউলের পরিবারের ওপর লাঠিসোঁটা ও ইট নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে সামিউলের চাচাতো ভাই মাথায় গুরুতর জখম হয়ে ৬টি সেলাই নিয়ে এবং তার বোন আশঙ্কাজনক অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী সামিউল ইসলাম (৪৩) জানান, প্রায় ৬ মাস আগে তার ছেলে সাজ্জাদ হোসেন বাঁধন (১৫) অভিযুক্ত মোমিনের (১৬) কাছে একটি মোবাইল ফোন বিক্রি করেছিল। ১২ জুলাই পাওনা ২০০০ টাকা চাইতে গেলে মোমিন ও তার সহযোগীরা বাঁধনকে মোটরসাইকেলযোগে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। এ বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করতে গেলে ১ নম্বর বিবাদী মোঃ সাব্বিরের (২৮) নির্দেশে বাকিরা হামলা চালায়। ইটের আঘাতে সামিউলের চাচাতো ভাই অচেতন হয়ে পড়েন এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বাঁশের লাঠি দিয়ে নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি লিখিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলো—১. মোঃ সাব্বির (২৮), ২. মোঃ বাবু (৩৮), ৩. মোসাঃ জলি (৩০), ৪. মোসাঃ সামিমা (৩৫), ৫. মোসাঃ সাহানাজ (২৭), ৬. মোঃ মোমিন (১৬) এবং ৭. মোঃ জিসান (১৫)। এসব অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরকে ধরতে পুলিশ তৎপরতা রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী রিমন মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না জানিয়ে তিনি দাবি করেন, একটি পক্ষ তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা মামলা ও অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার রিমনের এই বক্তব্যকে কাল্পনিক ও আত্মরক্ষামূলক কৌশল হিসেবে অভিহিত করে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রিমনের দৌরাত্ম্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় বিশিষ্ট রাজনীতিবিদরা বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জকে যারা অপরাধের অভয়ারণ্য বানাতে চায়, তারা কোনো দলেরই বন্ধু হতে পারে না। এই সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকা উচিত নয়।” এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রিমন ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেপ্তার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একমাত্র নিরপেক্ষ তদন্তই পারে এই এলাকাকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে।
সরেজমিনে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় যে, রিমন একজন অত্যন্ত জনদরদি ও নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবক। বিপদে-আপদে এবং অসহায় ও মেহনতী মানুষের প্রয়োজনে রিমন সবসময় তাদের পাশে থেকেছেন এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রিমনের এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও মানবিক কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি কুচক্রী মহল তার সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এলাকাবাসী দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, রিমনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপচেষ্টা বা চক্রান্ত করা হলে তারা তা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। ভবিষ্যতে রিমনকে হয়রানি বা তার কোনো ক্ষতি করার চেষ্টা করা হলে, এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানববন্ধনসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলবেন এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাবেন।
মুখোশধারী'র মুখোশ উন্মো'চন! নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনে থাকছেন! চাঁপাইনবাবগঞ্জ গণমাধ্যম মিডিয়া সেল। ( ক্রা'ই'ম ইনভেস্টিগেশন ক্রা'ই'ম পে'ট্রো'ল ক্রা'ই'ম সি'ন) পর্ব-১ বিস্তারিত রিপোর্ট কমেন্ট অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে থাকছেন মুখোশধা'রীর অন্তরালে লুকিয়ে থাকা! এসব অপরাধীদের খুঁজছে ক্রাইম সিন! আর মোস্ট ওয়ানটেড অপরাধচক্র কিলারকে খুঁজছে পুলিশ! পর্ব- ১