মিলন বৈদ্য শুভ, রাউজান (চট্টগ্রাম) জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া হিংগলা নাথপাড়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চৌষট্টি মোহন্ত রাজভোগ নিবেদন ও অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। হিংগলা নাথপাড়া দুর্গা মন্দিরের উদ্যোগে এবং সনাতন যুব সংসদ (হিংগলা নাথপাড়া, দাশপাড়া ও পূর্ব নাথপাড়া)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় তিন দিনব্যাপী এ মহোৎসবের আয়োজন করা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, “দুই যুগ পূর্তি” উপলক্ষে চৌষট্টি মোহন্ত মহারাজের রাজভোগ নিবেদন এবং সর্বজনীন ২৪তম অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ ১ এপ্রিল থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত (বুধবার থেকে শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হয়।
মহোৎসবের প্রথম দিনের কর্মসূচিতে ছিল মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, মঙ্গলারতি, মঙ্গল শোভাযাত্রা, মোহন্ত বরণ, পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ, ধর্মীয় নৃত্য, শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা এবং ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালীর শাকপুরা মদন গোপাল সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীল ১০৮ শ্রী মুরালী দাস মোহন্ত মহারাজ। সন্ধ্যায় “সুরের আবাসন”-এর পরিবেশনায় স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে ভগবানের রাজভোগ নিবেদন, ভোগরতি কীর্তন এবং চৌষট্টি মোহন্ত মহারাজের রাজভোগ নিবেদন অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হয় ধর্মীয় নাটিকা ‘যাজ্ঞসেনী দ্রৌপদী’। এদিন গঙ্গা আহ্বান, শুভ অধিবাস কীর্তন এবং শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ সংকীর্তনের শুভারম্ভ অনুষ্ঠিত হয়, যা পরিচালনা করেন শ্রী নীল কৃষ্ণ রুদ্র। এতে অংশগ্রহণ করে কক্সবাজারের শ্রী কৃষ্ণানন্দ সম্প্রদায়।
তৃতীয় দিন মহানামযজ্ঞ সংকীর্তনে অংশ নেয় পটিয়ার শ্রী মদন মোহন সম্প্রদায়, রাঙ্গুনিয়ার শ্রী রাম সম্প্রদায়, ভোলার শ্রী শ্যামল কৃষ্ণ সম্প্রদায় এবং লক্ষীপুরের শ্রী কৈবল্যনাথ সম্প্রদায়। তিন দিনব্যাপী দিবারাত্রি অন্নপ্রসাদের ব্যবস্থা ছিল।
উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি অরুণ দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক বনমালী নাথ (লিটন), অর্থ সম্পাদক সুভাষ নাথ এবং প্রধান সমন্বয়ক কৃষ্ণ পদ নাথ (টিটু), সুজন দাশসহ অন্যান্য সদস্যরা অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। সনাতন যুব সংসদের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যরা এ আয়োজন সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
হিংগলা নাথপাড়া দুর্গা বাড়ি প্রাঙ্গণে (স্বর্গীয় ডা. লাল মোহন নাথের বাড়ি) অনুষ্ঠিত এ মহোৎসবে দূর-দূরান্ত থেকে আগত হাজার হাজার ভক্তবৃন্দের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজক কমিটি মহোৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় সকল ধর্মপ্রাণ ভক্ত ও সুধীজনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।