মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে দিশেহারা বীরাঙ্গনার মেয়ে রানী! মামলা করেও মিলছে না নিরাপত্তা!
এসএম রুবেল সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার চাঁপাইনবাবগঞ্জ!
চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকাসক্ত স্বামীর পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মোসাঃ রানী (৩২) নামের এক অসহায় নারী। যৌতুক ও ভরণপোষণের মামলা করেও থামানো যাচ্ছে না পাষণ্ড স্বামী মিকাইলকে। বরং জামিনে মুক্ত হয়ে বারবার বাদীর বাড়িতে হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। বর্তমানে ১৭ মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে এই নারী।
ভুক্তভোগী রানী বেগমের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই স্বামী মিকাইল নেশার টাকার জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। সন্তানের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং ক্রমাগত নির্যাতনের মুখে রানী বেগম গত ২০২২ সালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা (নং-১৪৯/২০২৪) দায়ের করেন। বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন থাকলেও মিকাইলের হিংস্রতা কমেনি। বেপরোয়া দাপট
মধ্যরাতে দরজা ভেঙে হামলা! সর্বশেষ গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের দোখামারী এলাকায় রানী বেগমের বাবার বাড়িতে হামলা চালায় মিকাইল। অভিযোগ অনুযায়ী,মিকাইল ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে রানীকে এলাপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালালে রানীর মা দ্রুত পুলিশকে ফোন করেন। টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রানীকে উদ্ধার করে এবং তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।এর আগে গত ১১ এপ্রিল ২০২৫ তারিখেও মিকাইল নেশার টাকার দাবিতে রানীর ওপর হামলা চালিয়েছিল। সে সময় রানীর মাথায় টর্চলাইট দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করার পাশাপাশি তার ভিক্ষা করে জমানো ৫,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, বিবাদীর ভয়ে রানীর পরিবারের সদস্যরাও তার সাথে থাকতে ভয় পাচ্ছেন। বর্তমানে তারা নিজ বাড়ি রেখে! সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি বাড়িতে ১৭ মাসের দুধের শিশুকে নিয়ে একাকী বসবাস করছেন রানী। জীবন বাঁচাতে বর্তমানে তিনি ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। একদিকে অভাবের তাড়না, অন্যদিকে স্বামীর ক্রমাগত খুনের হুমকিতে এখন দিশেহারা এই নারী।
এ ঘটনায় রানী বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় পুনরায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে তিনি জানান, মিকাইল গত ১ ডিসেম্বর একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর থেকেই আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এজাহারে সাক্ষী হিসেবে সুমাইয়া, এমেলী ও শিউলীসহ স্থানীয় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হলে, তাদের উপরে আসে প্রাণনাশের হুমকি। ভুক্তভোগীর আকুতি অন্যদিকে বীরাঙ্গনার মেয়ে! অশ্রুসিক্ত নয়নে রানী বেগম বলেন,আমি কোনোমতে ভিক্ষা করে বাচ্চাটাকে নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। কিন্তু সে (মিকাইল) আমাকে শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। বারবার প্রাণে মারার চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের কাছে আমার এবং আমার সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা চাই।"
এই বিষয়ে সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়! অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। মাদকাসক্ত এই ব্যক্তির হাত থেকে অসহায় মা ও শিশুকে বাঁচাতে স্থানীয় এলাকাবাসীও প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। সর্বশেষ পরিস্থিতি জানতে চাইলে! পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান,বর্তমান আদালতে বাদী রানি বেগমের দায়ের করা দুইটি মামলা চলমান রয়েছেন। একটি নারি শিশু আইনে! আরেকটি যৌতুক নির্যাতন আইনে মামলা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ভুক্তভোগী বীরাঙ্গনা লিলি বেগম! বলেন
দীর্ঘ ৫৩ বছর পরও সেই ভয়াবহ স্মৃতি বয়ে বেড়াচ্ছেন এই বীরাঙ্গনা জননী লিলি বেগম! সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের সেই অন্ধকার অধ্যায় এবং অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন।মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা। বীরঙ্গনা পরিবারের ওপর আঘাত এনেছে তার মেয়ে জামাই মেকাইল। এ নিয়ে চরম হতাশা ও আতঙ্কে দিন পার করছেন বীরঙ্গনা নারী লিলি বেগম ও মেয়সহ পুরো পরিবার। সরকার প্রদত্ত 'বীর নিবাস'২ নং গোবরাতলা ইউনিয়নের, দুঃখামারী! গ্রামে রাস্তার পাশে একটি সবুজ রঙের পাকা বাড়িতে তিনি বর্তমানে বসবাস করছেন। অভিযোগে তিনি আরও জানান আমার মেয়ে জামাই মেকাইল! আমার শেষ সম্বল, সরকারের দেওয়া পুরো সম্পত্তি তার নামে লিখে নিতে চাই। আমি তার কথায় রাজি না হওয়ায়! একের পর এক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ডুকে, আমার মেয়ের উপর অমানবিক নির্যাতন চালাতে থাকে। আমি এর প্রতিবাদ করলে, কয়েক ধাপে মারধরে শিকার আমিও হয়েছি। সরকারও আইন সংশ্লিষ্টতার প্রতি দাবি জানান! আমি ও আমার মেয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত! সেই সাথে এই উদ্দেশ্য প্রলোভী অ্যাডিক্টেড মেকাইলকে! সুস্থ তদন্ত সহ অবিলম্বে তাকে! গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানান ভুক্তভোগী বীরঙ্গনা লিলি বেগম।