বিশেষ অনুসন্ধান, এসএম রুবেল ক্রাইম সিন ইউনিট চাঁপাইনবাবগঞ্জ মিডিয়া সেল | ২৯ আগস্ট, ২০২৬
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বসতবাড়িতে প্রকাশ্য হামলার অভিযোগে থানায় এজারভুক্ত হলেন ৪ জন! চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চামাগ্রাম এলাকায় পূর্ববিরোধের জেরে সাবেক মেম্বারের বাড়িতে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মো. রফিকুল হক বাদি হয়ে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ আগস্ট দুপুর প্রায় ১২টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে ভুক্তভোগীর বাড়িতে এসে তার ছেলে মাসুদ রানাকে (৪০) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা কাঠের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে মাসুদ রানা ও তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসা তার ছোট ভাইকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করেন। হামলায় তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়! এবং মাথা ফেটে রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা মারধরের সময় ভুক্তভোগীর ছেলের গলার প্রায় ১২ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, ২ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের আংটি এবং একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় কাপড়চোপড় ছিঁড়ে ফেলা ও হত্যার হুমকি দেওয়াসহ বাড়িতে জোরপূর্বক ডুকে লুটপাট করা হয়।
ঘটনাস্থলে আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া হয়। কর্মরত চিকিৎসকের বক্তব্যে পাওয়া যায় আহতদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় অনেকেই ঘটনার সাক্ষী রয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনা বিষয়ে ও হামলাকারী অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন! উপজেলার বারঘরিয়া ইউনিয়নের চামাগ্রাম এলাকায় সংঘটিত হামলার ঘটনায় চারজনকে অভিযুক্ত করে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্ব বিরোধের জের ধরে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে বাদীর পরিবারের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর,ও গুরুতর জখম এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— (১) আহাদ আলী (৩৮), পিতা: মৃত এনামুল হক, (২) আব্দুস সামাদ (৩০), পিতা: জাইদুল হক, (৩) জাইদুল হক (৪৫), পিতা: মৃত আমজাদ মণ্ডল এবং (৪) আ. আওয়াল (২২), পিতা: জাইদুল হক। তাদের স্থায়ী বসবাস চামাগ্রাম, বারঘরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগকারী এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এদিকে, ঘটনার পর এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা জানান, প্রকাশ্যে সংঘটিত এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নৃশংস ও নিন্দনীয়। তাদের ভাষ্য, এমন সহিংস ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসম্মুখে সংঘটিত এমন নৃশংস হামলার অভিযোগ সমাজে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতার বার্তা ছড়ায়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এ ধরনের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অভিযোগে ব্যবহৃত অস্ত্রের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষ প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান! যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ জনসম্মুখে আতঙ্কিত না ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা করেছেন অভিযোগকারী বাদিসহ ভুক্তভোগীরা। সরজমিন প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সূত্রেমতে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি একরামুল হোসাইনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান এ বিষয়ে রফিকুল হক বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে অজ্ঞাত পাঁচ থেকে ছয় জন অজ্ঞাতনামা করে অভিযোগ জমা দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অভিযোগ জমা দেওয়ার পর পর থেকেই দ্রুত তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর মডেল থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষ।