মাটিখেকোদের বিষদাঁত ভাঙতে মাঠে প্রশাসন! বিশেষ অভিযানে জরিমানা পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব থামালো ভ্রাম্যমাণ আদালত
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ | ১২ মে, ২০২৬ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর: সংরক্ষিত পদ্মা নদীর বুক চিরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের মহোৎসবে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে স্থানীয় প্রশাসন। আজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মাটি বোঝাই ট্রাক্টরসহ এক ব্যক্তিকে আটক এবং বড় অংকের অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
পদ্মা আর কত সইবে? অবৈধ মাটি উত্তোলন রুখতে হার্ডলাইনে প্রশাসনের তৎপরতা! অভিযানের! গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৬, ৭ ও ৮ নং স্পার বাঁধ এলাকায় একটি প্রভাবশালী চক্র পদ্মা নদী ও তৎসংলগ্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করছে। সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত অভিযানে নামে প্রশাসন। অভিযান চলাকালে সুন্দরপুর ইউনিয়নের! শিবির হাট এলাকা থেকে একটি মাটিভর্তি ট্রাক্টরসহ হাতেনাতে আটক করা হয় মূল অভিযুক্তকে। মাটিখেকোদের বিষদাঁত ভাঙতে মাঠে প্রশাসন! বিশেষ অভিযানে জরিমানা পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব থামালো ভ্রাম্যমাণ আদালত ভূমিধস্য আটককৃতের পরিচয়! গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন সুমন আলী (৪০)। তিনি সদর উপজেলার জয়ন্দীপুর (রামকৃষ্ণপুর) গ্রামের সোহবুল হকের ছেলে। সরেজমিনে অভিযান পরিচালনা এবং স্বীকারোক্তি ও দণ্ডবিধি!
জিজ্ঞাসাবাদে সুমন আলী স্বীকার করেন যে, তিনি পদ্মা নদীর তীরবর্তী জয়ন্দীপুর এলাকার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছিলেন। এই অপরাধের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে! আইনি ব্যবস্থা 'ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩'-এর ১৫ ধারায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পদ্মা রক্ষায় জিরো টলারেন্স: মাটি দস্যুতার দায়ে এবার জেল-জরিমানার মুখে সিন্ডিকেট অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তি হলো ঘটনাস্থলেই তাকে ১৫ হাজার টাকা নগদ অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তা তাৎক্ষণিক আদায় করা হয়েছে এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রশাসনের! সতর্কবার্তা ও হুঁশিয়ারি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার জন্য তাকে ও তার সহযোগীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বিপন্ন প্রকৃতির রূপ! নিয়ে খেলা ভূমিধস্যদের কড়া নজরদারি! পদ্মার পাড় থেকে এভাবে মাটি উত্তোলন শুধু আইনি অপরাধ নয়, বরং এটি পরিবেশের জন্য এক ভয়াবহ জেলার জন্য অশনিসংকেত। কৃষি জমি ও নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় একদিকে যেমন আবাদি জমি বিলীন হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে। মুষ্টিমেয় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর মুনাফার লালসায় হুমকির মুখে পড়ছে সাধারণ মানুষের জনপদ ও সরকারি সম্পদ! প্রশাসনের এই অভিযান অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। তবে শুধু জরিমানা নয়, এই চক্রের নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদের চিহ্নিত করা জরুরি। জনস্বার্থে এই ধরনের কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকলে এবং স্থানীয় সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে তবেই রক্ষা পাবে আমাদের প্রাণপ্রকৃতি! প্রশাসনের বার্তা : জনস্বার্থে এবং পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ মাটি উত্তোলন ও ইটভাটার বিরুদ্ধে এই সাঁড়াশি অভিযান আগামীতেও চলেছে এবং এখনও অভিযান অব্যাহত থাকবে।