কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি:১৮ জুলাই
কক্সবাজারের মহেশখালীতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী মিন্টু বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮) আটক হন বলে গতকাল শুক্রবার ১৭ জুলাই বিকেলে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউপির কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী চক্র আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে যাচ্ছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকাল ৬টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ- মহেশখালীর সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মিন্টু বাহিনীর আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, ১টি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১টি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে বাহিনীর প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টুকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, আটক মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’ পরিচালনা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অস্ত্র সরবরাহে জড়িত অন্যতম ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এতে মহেশখালীসহ পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে ও লবণচাষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের আটকে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। জব্দ করা আলামত ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, সুন্দরবনে জলদস্যু ও বনদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির সফলতার ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি এবং চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।