মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ নিয়ে অপপ্রচার! বিভ্রান্তিকর তথ্যের অন্তরালে প্রকৃত প্রকৌশলগত সত্য ধূলিমুক্ত শুষ্ক সারফেসে আন্তর্জাতিক মানে মানদণ্ডে চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ মহাসড়কের কাজ
এসএম রুবেল অনুসন্ধানী প্রতিবেদক-ইনভেস্টিগেশন টিম ক্রাইম সিন ইউনিট- চাঁপাইনবাবগঞ্জ মিডিয়া- সেল | গণমাধ্যম ৫ জুন, ২০২৬ খ্রি.
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের ঘোড়া স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকার রাস্তার কার্পেটিংয়ের কাজ নিয়ে একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর সোশ্যাল মিডিয়ায় ফটো কার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উক্ত ফটো কার্ডে উত্থাপিত নিম্নমানের কাজের অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যমূলক বলে প্রমাণিত হয়েছে। সরেজমিনে অনুসন্ধান এবং সড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রেখেই এই মহাসড়কের সংস্কার কাজ এগিয়ে চলছে।
অপপ্রচারের নেপথ্য ও বাস্তব চিত্র! ছড়িয়ে পড়া ফটো কার্ডসহ কিছু ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজে দাবি করা হয়েছে যে, রাস্তা পরিষ্কার না করে এবং তরল বিটুমিন বা প্রাইম কোট (যাকে স্থানীয়ভাবে তেল বলা হয়) ব্যবহার না করেই ধুলোবালির ওপর কার্পেটিং করা হচ্ছে। কিন্তু আধুনিক সড়ক নির্মাণ প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের কারিগরি ও বিশেষজ্ঞেদের মতে, মহাসড়কটির সংস্কার কাজে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। ধুলোবালি পরিষ্কারের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভ্যাকুয়াম ও ব্লোয়ার মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে এবং স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে বিটুমিনের সঠিক মিশ্রণ ও তাপমাত্রা নিশ্চিত করে কার্পেটিংয়ের স্তর বসানো হচ্ছে। ফলে জোড় বা জয়েন্ট দুর্বল হওয়ার কোনো প্রযুক্তিগত সুযোগ নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক নির্মাণে কি আসলেই 'হরিলুট' হচ্ছে? জানুন সরেজমিন অনুসন্ধানের প্রকৃত সত্য! কার্পেটিংয়ের আগে রাস্তা পানি দিয়ে ধোয়ার দাবি কেন চরম মূর্খতা ও গুজব? বৈজ্ঞানিক ব্যবহারে রাস্তার কাজ "সড়ক ভবনের কঠোর তদারকি ও দৃশ্যমান পরিবর্তন ও শক্তিশালী কাজের অগ্রগতি নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে বাস্তবচিত্র উঠে আসে এনিয়ে,চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ভবনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী (XEN) যোগদানের পর থেকেই পুরো জেলায় সড়ক যোগাযোগ অবকাঠামোয় এক অভূতপূর্ব গতিশীলতা এসেছে। বিশেষ করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘকাল ধরে অবহেলিত থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ টু সোনামসজিদ হাইওয়ে রোডের কাজের মান নিয়ন্ত্রণে তিনি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন, ডিজিটাল ল্যাব টেস্ট এবং স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী প্রতিটি স্তরের কাজ বুঝে নেওয়ার কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিখুঁতভাবে কাজ সম্পন্ন করতে বাধ্য হচ্ছে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণ! ও আধুনিক ব্লোয়ার প্রযুক্তি ব্যবহার ম্যানুয়াল ঝাড়ুর পরিবর্তে শক্তিশালী মেকানিক্যাল ব্লোয়ার ও ভ্যাকুয়াম দিয়ে সূক্ষ্ম ধূলিকণাও পরিষ্কার করা হচ্ছে, যা কার্পেটিংয়ের স্থায়িত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। রাস্তার কাজে ব্যবহার হচ্ছে স্বয়ংক্রিয় পেভার ও রোলার ডিজিটাল সেন্সরযুক্ত পেভার মেশিনের মাধ্যমে সমান্তরালভাবে নির্দিষ্ট থিকনেস (পুরুত্ব) বজায় রেখে নিখুঁত কার্পেটিং করা হচ্ছে। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিটুমিনাস মিক্সচারের তাপমাত্রা ডিজিটাল থার্মোমিটারের সাহায্যে সার্বক্ষণিক পরীক্ষা করা হচ্ছে, যা টেকসই সড়ক নির্মাণের অন্যতম প্রধান শর্ত।
জনমনে স্বস্তি ও দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান নিয়ে বর্তমান কাজের গতি চলমান রয়েছেন তবে! চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে শিবগঞ্জ ও সোনামসজিদ স্থলবন্দরগামী এই মহাসড়কটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর। বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটি খানাখন্দ আর ধুলাবালিতে জর্জরিত থাকায় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর কঠোর মনিটরিং এবং দ্রুত কর্মপরিকল্পনার ফলে মহাসড়কটি এখন দৃশ্যমান আধুনিক রূপ ধারণ করছে। কাজের এই অভাবনীয় অগ্রগতি ও উন্নত মান দেখে দীর্ঘদিনের ভুক্তভোগী স্থানীয় সাধারণ মানুষ, চালক এবং সচেতন মহল অত্যন্ত সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এক্সইএন-এর জিরো টলারেন্স! সোনামসজিদ মহাসড়কে হরিলুটের কাল্পনিক অভিযোগ ও বাস্তব চিত্র, অপপ্রচার রুখে দেওয়ার আহ্বান! একটি কুচক্রী মহল সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের অক্লান্ত পরিশ্রমকে ম্লান করতে বিভ্রান্তিকর ছবি ও আংশিক তথ্য দিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। কোনো প্রকার প্রকৌশলগত জ্ঞান ছাড়াই কেবল ব্যক্তিস্বার্থ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছড়ানো এই গুজবে কান না দেওয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণকে উদাত্ত আহ্বান জানানো হচ্ছে। দেশের অর্থ ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং শতভাগ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেই এই উন্নয়নযজ্ঞ বাস্তবায়িত হচ্ছে।
‘পানি দিয়ে রাস্তা ধোয়ার’ অবৈজ্ঞানিক দাবি! মহাসড়কের উন্নয়ন স্তব্ধ করতে কুচক্রী মহলের নয়া কূটকৌশল! বিটুমিনের শত্রু পানি, প্রযুক্তির হাতিয়ার ব্লোয়ার! সোনামসজিদ মহাসড়কে গুজবের ব্যবচ্ছেদ" উস্কানিমূলক পোস্ট এবং বিশেষ করে "রাস্তা পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার না করার" অবৈজ্ঞানিক ও মূর্খতাসুলভ মহাসড়কের কার্পেটিং কাজে 'পানি দিয়ে ধোয়ার' অবৈজ্ঞানিক দাবি ছড়াচ্ছেন একটি কুচক্রী মহলের মিথ্যাচারের নেপথ্যে প্রকৌশলগত বাস্তব সত্য ইতিমধ্যেই উন্মোচিত পেজই পোস্টে আরেকটি মহলের কান্ড বিভ্রান্ত করা হচ্ছে সাধারণ জনগণকে! জনগণের ট্যাক্সের টাকার "হরিলুট" ও "নিম্নমানের কাজের" ধুয়া তুলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের চলমান উন্নয়ন কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য পুনরায় এক নতুন বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক প্রচারণার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর কুচক্রী মহল দাবি করছে—রাস্তা পানি দিয়ে ধুয়ে পরিষ্কার না করেই কার্পেটিং করা হচ্ছে। অথচ সড়ক নির্মাণ বিজ্ঞানের (Highway Engineering) নূন্যতম জ্ঞানসম্পন্ন যেকোনো ব্যক্তিই জানেন যে, কার্পেটিংয়ের আগে রাস্তায় পানি ব্যবহার করা মারাত্মক আত্মঘাতী ও অবৈজ্ঞানিক।
পানি দিয়ে রাস্তা ধোয়ার দাবি কেন চরম মূর্খতা ও গুজব? সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রকৌশলী এবং বিশেষজ্ঞদের সাথে কারিগরি বিষয়ে আলোচনা করে জানা গেছে, বিটুমিন বা পিচের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো "পানি" পিচ ও পাথরের মিশ্রণটি যখন ১৫০ ডিগ্রি থেকে ১৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উচ্চ তাপমাত্রায় রাস্তায় গলিয়ে ঢালাই (কার্পেটিং) করা হয়, তখন সেখানে বিন্দুমাত্র জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা থাকলে পিচ পাথরের সাথে কামড়ে ধরতে পারে না। যদি কোনো ঠিকাদার বা কর্তৃপক্ষ কার্পেটিংয়ের পূর্বে রাস্তা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে, তবে সেই আর্দ্রতার কারণে কার্পেটিংয়ের স্থায়িত্ব কয়েক সপ্তাহের বেশি টিকবে না। পানি শুকিয়ে গেলেও মাটির ভেতরের স্তরে যে আর্দ্রতা থেকে যায়, তা পুরো কার্পেটিংকে ফাঁপা করে দেয়, যার ফলে রাস্তা দ্রুত ধসে যায় বা খানাখন্দের সৃষ্টি হয়।
কারিগরি বাস্তবতা ! পানি নয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মেকানিক্যাল ব্লোয়ারই একমাত্র বৈজ্ঞানিক সমাধান?বিটুমিন-পানির চিরশত্রুতা! কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অনুযায়ী, গরম বিটুমিন কখনোই ভেজা বা আর্দ্রতাযুক্ত সারফেসের সাথে বন্ডিং তৈরি করতে পারে না। পানি ব্যবহার করলে রাস্তার ক্ষতি শতভাগ নিশ্চিত। তবে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ার ব্লোয়ার প্রযুক্তির ব্যবহার বর্তমান মহাসড়কের কাজে কোনো সনাতন ঝাড়ু বা ধোয়ার পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে না। আধুনিক মেকানিক্যাল এয়ার ব্লোয়ারের (High-Pressure Air Blower) প্রচণ্ড বাতাসের চাপে রাস্তার উপরিভাগের সমস্ত সূক্ষ্ম ধূলিকণা উড়িয়ে দিয়ে সম্পূর্ণ শুষ্ক ও নিরেট সারফেস তৈরি করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড। টেকসই বন্ডিং বা জোড়! সম্পূর্ণ শুষ্ক ও ধুলোহীন পিচের ওপর যখন প্রাইম কোট ও কার্পেটিং করা হয়, তখন নতুন ও পুরাতন স্তরের বন্ডিং এতটাই শক্তিশালী হয় যে তা ভারী যানবাহন চলাচলের পরও বহু বছর অক্ষত থাকে।
ফেসবুকের ফটো কার্ড বনাম বাস্তব সত্য: আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে সোনামসজিদ হাইওয়ের রাস্তা, জনগণের ট্যাক্সের টাকার সঠিক ব্যবহার ও প্রশাসনের জিরো টলারেন্স! চাঁপাইনবাবগঞ্জ সড়ক ভবনের নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী (XEN) যোগদানের পর থেকে কাজের প্রতিটি ধাপে কড়া নজরদারি রাখছেন। যেখানে ডিজিটাল ল্যাব টেস্ট এবং স্বয়ংক্রিয় থার্মোমিটার দিয়ে পিচের তাপমাত্রা মেপে কাজ বুঝে নেওয়া হচ্ছে, সেখানে "হরিলুট" বা "সিন্ডিকেটের উদাসীনতার" মতো কাল্পনিক অভিযোগ তোলা কেবল হাস্যকরই নয়, বরং দণ্ডনীয় অপরাধ। দীর্ঘদিনের অবহেলিত ও খানাখন্দে ভরা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়কের বর্তমান উন্নত ও চোখ ধাঁধানো পরিবর্তন দেখে ঈর্ষান্বিত হয়েই একটি নির্দিষ্ট মহল সাধারণ জনগণকে প্রশাসনের মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।
গুজবে কান নয়, বিজ্ঞানে ভরসা! সোনামসজিদ মহাসড়কের বাস্তব চিত্র এখন দৃশ্যমান হতে চলার পথে সোনামসজিদ মহাসড়ক! অপপ্রচার রুখে সওজ-এর আধুনিকায়ন, উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা! নেপথ্যের সত্য উন্মোচন" সচেতন জনগণের প্রতি আহ্বান সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ! গুজবে কান দেবেন না "ভবিষ্যতের ভোগান্তির ভয় দেখিয়ে যারা আজ এই আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উন্নয়ন কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে চায় "তাদের মূল উদ্দেশ্য এলাকার উন্নয়ন স্তব্ধ করা প্রকৌশলগত বৈজ্ঞানিক সত্যকে আড়াল করে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো এই "পানি দিয়ে না ধোয়ার" সস্তা ও মূর্খতাসুলভ গুজবে কান না দেওয়ার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে। জবাবদিহিতা ও শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেই জনগণের অর্থের সর্বোচ্চ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করছে বর্তমান সড়ক প্রশাসন ।