বাঘায় মাঠ জুড়ে হলুদের সমারোহ সরিষা ফুলে
রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর বাঘা সরিষার হলুদ ফুলে ভরে উঠেছে মাঠ-ঘাট। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং আগাম চাষের ফলে এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের আভা ও সৌন্দর্যে যেমন খুশি কৃষকরা, তেমনি এই দৃশ্য উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষরা।
বাঘা উপজেলার সমতল এলাকার পাশাপাশি দুর্গম পদ্মা নদীর চরাঞ্চলেও এ বছর ব্যাপকভাবে সরিষার আবাদ হয়েছে। সরিষার ভালো দাম ও স্বল্প খরচে অধিক লাভের সম্ভাবনায় অনেক কৃষক এবার বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষে ঝুঁকেছেন। ফলে উপজেলার প্রায় প্রতিটি মাঠে জুড়েই হলুদ আর সবুজ সমারোহ মাঠ জুড়ে ।
স্থানীয় কৃষকরা জানায় , অগ্রহায়ণ মাসে সরিষা চাষ শুরু হয়ে পৌষ ও মাঘ মাসে মাঠজুড়ে ফুটে ওঠে হলুদ ফুল। এই সময়টাতে সরিষা ক্ষেত হয়ে ওঠে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে আকর্ষণীয় । অনেকেই বর্ণিল পোশাকে সেজে সরিষা ক্ষেতে ছবি তুলছেন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা শেয়ার করছেন।
বাঘার চরাঞ্চলের কৃষক গোলাম মোস্তফা জানান, তিনি এবার ৩ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন। তাঁর ভাষায়, সরিষা চাষে সেচ, সার ও কীটনাশকের খরচ তুলনামূলক কম। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবার ভালো লাভ হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান বলেন, এ বছর বন্যার ফলে চরাঞ্চলে পলি জমে মাটির উর্বরতা বেড়েছে। শুধু চরাঞ্চলে না উপরের ফসল গুলোতেও ফলে সেখানে ব্যাপক হারে সরিষার চাষ হয়েছে। কৃষকরা বারি-১৪, বারি-১৮ এবং টরি-৭ জাতের সোনালী সরিষা চাষে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
চলতি মৌসুমে সরিষার ভালো উৎপাদন হলে কৃষকের স্বপ্ন পূরণের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের ঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ও উল্লেখ করেন তিনি।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বাঘা উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে, যা গত বছর ছিল মাত্র ৮০০ হেক্টর। গত মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল না থাকায় হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন ছিল ০.৯ মেট্রিক টন। তবে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আগের বছরের চেয়ে অনেক বেশি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।