বাগেরহাট প্রতিনিধি মো:মুন্না শেখ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট সদর ও কচুয়া নিয়ে গঠিত ২ আসনে বিএনপিকে দ্বিখন্ডিত করে মিশন সাকসেস করেছে এমএএইচ সেলিম। এখানে বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ এর বিপুল ভোটে জয়ের পিছনের মূল কারিগর ছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী দলটির সাবেক এমপি এম.এ.এইচ সেলিম।
মুলত তিনি দীর্ঘদিন দলীয় কর্মকাণ্ডের বাহিরে থাকায় বিএনপির নমিনেশন থেকে ছিটকে পরে। এমনকি তাদের দুই ভাইয়ের অন্তদ্বন্দ্ব সহ নানা কারণে তার আপন ভাই এমএ ছালামকেও নমিনেশন দেয়নি দলটি। এমন অবস্থায় তাদের দুই ভাইয়ের রাজনৈতিক অবস্থা যখন সংকটাপন্ন এতেই বেজায় চটেন এম.এ.এইচ সেলিম। তখন দৃশ্যপটে দুই ভাই আলাদা হলেও পদ্মার অন্তরালে এক হয়ে ছক কসেন এক ঢিলে দুই পাখি মারার। এম.এ.এইচ সেলিম হন বিদ্রোহী প্রার্থী তার ভাই এমএ ছালাম দলীয় বহিষ্কার এড়াতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও তার অনুসারীদের বড় একটি অংশ বিএনপির রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় রেখে গোপনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার সুযোগ করে দেয়। এতে তারা ধারণা করেন বিদ্রোহী প্রার্থী এম.এ.এইচ সেলিম জয়ী হবেন আর যদি কোন কারণে জয়ী না হয় তবে বিএনপি প্রার্থী পিছিয়ে যাবে এগিয়ে যাবে জামায়েত। আর বিএনপির এ আসনে পরাজয় হলে বাগেরহাটে রাজনীতিতে তাদের অবস্থান আবারো পাকাপোক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে। নির্বাচন শেষে এ আসনে বিএনপির পরাজয় হলেও মিশন সাকসেস করেছে এমএএইচ সেলিম।
বাগেরহাট -২ আসনে প্রাপ্ত ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৩৭০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের শেখ মোহাম্মাদ জাকির হোসেন পেয়েছেন ৬৬ হাজার ২৭৪ ভোট। বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৫০ হাজার ৯৬ ভোট। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এম.এ.এইচ সেলিম ঘোড়া প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৮ হাজার ৯ শত ৬৫ ভোট।